বাহরিনের আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (১৯- ২১ জানুয়ারী) রাশিয়ার পাইলটদের চালিত যুদ্ধ বিমানের দল "রাশিয়ার ভিতিয়াজেরা" প্রথমবার বহু বছর বিরতির পরে বিদেশের প্রদর্শনীতে নতুন করে তৈরী করা গরমের সময়ের প্রদর্শনী উড়ান করেছে.

    বাহরিনের আকাশে পাইলটেরা দেখিয়েছেন ঐতিহ্যময় একক, যৌথ ও একে অপরের দিকে ধেয়ে যাওয়া উড়ান দেখিয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে চারটি "সু- ২৭" যুদ্ধ বিমান, এই খবর দিয়েছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি কর্নেল ভ্লাদিমির দ্রিক, তিনি বলেছেন:

    "আধ ঘন্টা ধরে চলা অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পাইলটেরা তাদের একান্ত নিজেদের সর্ব্বোচ্চ মানের বিমান চালনার প্রদর্শনী করেছেন. তার সঙ্গে এবারে যুক্ত হয়েছে দলগত ভাবে খুবই কঠিন সমস্ত বিমানের ওড়ার কায়দা একই সঙ্গে দুটি করে যুদ্ধ বিমান "ঘন্টা" ও "রম্বস" দেখিয়েছে, যখন বিমানের ইঞ্জিন চলছিল বাড়তি জোরে".

    ভারী যুদ্ধ বিমান "সু – ২৭" দিয়ে সর্ব্বোচ্চ মানের উড়ান বিশেষজ্ঞদের মতে, খুবই জটিল ধরনের কাজ. বিমানের ওজন ২৩ থেকে ২৫ টন হয় কতটা জ্বালানী ভরা হয়েছে, তার উপরে নির্ভর করে. রাশিয়ার পাইলটেরা এই প্রদর্শনী করেন সাধারন ভাবে তৈরী করা বিমান নিয়েই, অর্থাত্ এই বিমান কে আলাদা করে হাল্কা করা হয় না. এই কথা উল্লেখ করে বিমান প্রযুক্তি প্রদর্শনী কেন্দ্রের উপ প্রধান ও প্রাক্তন রাশিয়ার ভিতিয়াজ দলের পাইলট কর্নেল ইগর শ্পাক বলেছেন:

    "আজকের দিনে এই ধরনের আর কোনও দল নেই যারা বারী যুদ্ধ বিমান নিয়ে উড়ানের খেলা দেখায়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুটি পাইলট দল রয়েছে, তারাও যুদ্ধ বিমান দিয়ে উড়ান প্রদর্শনী করে, কিন্তু তাদের বিমান হাল্কা, তাই কাজটা সহজ. "রাশিয়ার ভিতিয়াজ" দলের পাইলটেরা এর আগেও বহুবার এমন হয়েছে, যে তারা এসে, যে বিমান পেয়েছেন, তাই দিয়েই দেখিয়েছেন সর্ব্বোচ্চ স্তরের বিমান চালনার উদাহরণ. রাশিয়ার ভিতিয়াজ দলের আকাশে চালক বিমান ও পিছনে থাকা দুটি বিমানের মধ্যে ডানার দূরত্ব থাকে মাত্র এক মিটার আর দুটি বিমানের মধ্যে দূরত্ব মাত্র তিন মিটার".

    ইগর শ্পাক উল্লেখ করেছেন য়ে বাহরিনে সমস্ত রকমের বিমান চালনার নমুনাই দেখানো হয়েছে, তিনি বলেছেন:

    "চারটি বিমান দিয়ে প্রদর্শনী উড়ান "রম্বস" শেষ হওয়ার পরে একে অপরের দিকে লক্ষ্য করে উড়ে যাওয়া হয়েছে, এটা দুটি জোড়া করে বিমানের একে অপরের দিকে ঘন্টায় ১৫০০ – ১৬০০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে যাওয়া, আর দূরত্বের দিক থেকে এই পুরো ঘটনাটা ঘটেছে বিমান দুটির মধ্যে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরত্বের ভিতরে, এই দিয়েই আকাশে আঁকা হয়েছে আকৃতি. ঘন্টা হল, এক উচ্চতম বিন্দুতে বিমানের থেমে যাওয়া একেবারে নিথর হয়ে, তারপরে আকাশে পিছলে নামতে গিয়ে ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে ওড়া শুরু করা".

    এই উড়ানের অনেক আকৃতি, যা "রাশিয়ার ভিতিয়াজেরা" আকাশে করে দেখান, তা বেশ অল্প কিছু দিন আগেও মনে করা হত এই ধরনের বিমানে করা সম্ভব নয়. বিশ্ব বিখ্যাত "বড় হীরক খণ্ড" নামের অথবা "বড় রম্বস" নামের আকৃতি যা আর একটি রুশ বিমান প্রদর্শনী দল "স্ত্রিঝি" দের সঙ্গে যৌথ ভাবে করা হয়েছে, তা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে যুক্ত হয়েছে.