আগামী দশ বছরের মধ্যে রাশিয়াতে সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের উপরে স্কি রিসোর্ট তৈরী করা হতে চলেছে. এলব্রুস পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পরিকল্পনা করা পর্যটন কেন্দ্র উচ্চতায় শুধু ভেনেজুয়েলার মেরিদে স্কি রিসোর্টের চেয়ে পেছিয়ে থাকবে, যেখানে স্কি করে নামার জায়গা শুরুই হচ্ছে সাড়ে চার হাজার মিটার উঁচু থেকে.

    এলব্রুস- বেজেঙ্গি এটা যমজ পর্যটন ক্ষেত্র. একদিকে – এটি এলব্রুস পাহাড়ের ঢাল – ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু বিন্দু – নানা রকমের জটিল বাধা সমেত (উচ্চতার হেরফের – ১৯৪৪ – ৪১৪৬ মিটার), আর অন্য দিকে – পর্বতারোহীদের জন্য স্বর্গ – বিরল হিমবাহের উপত্যকা বেজেঙ্গি. এই এলাকা শতবর্ষ ধরেই পর্যটকদের তীর্থ ক্ষেত্র হয়ে রয়েছে: বিরল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দৃশ্য এখানে হাজার লোককে আকর্ষণ করে. বর্তমানে এলব্রুসে রোপওয়ে আধুনিক করা হচ্ছে, যা সেই সোভিয়েত আমলে তৈরী করা হয়েছিল, আর তার সঙ্গেই করা হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা, যা অতিথিদের মেঘের পরপারে নিয়ে যাবে. এই কথা রেডিও রাশিয়াকে জানিয়ে উত্তর ককেশাসের পর্যটন কেন্দ্রগুলি নামের রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশনের ভাইস জেনেরাল ডিরেক্টর ইউরি কার্পেঙ্কো বলেছেন যে, পরিকল্পনা রয়েছে সেই সমস্ত রোপওয়ে তৈরী করে ফেলার, যা চড়ে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবধি ওঠা যাবে. তারপরে প্রায় দুই হাজার মিটার বাকী থাকবে এলব্রুসের সর্ব্বোচ্চ শীর্ষে ওঠা পর্যন্ত. কিন্তু সেখানে আর স্কি করা নিয়ে কথা হচ্ছে না কারণ চার হাজার কিলোমিটারের উপরে স্কি করা কঠিন অক্সিজেন কম থাকায়. দ্বিতীয় এলাকা হল বেজেঙ্গি এখানে একেবারেই নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়া হচ্ছে. এটা এমন জায়গা যেখানে বিশ্ব বিখ্যাত হলেও পর্বতারোহীদের জন্য গরম কালের ক্যাম্প ছাড়া কিছুই নেই.

এলব্রুস পাহাড়ের নীচে পর্যটকদের জন্য অনেক উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে, যাদের আশ্চর্য শরীর বাল করার ক্ষমতা নিয়ে কম লোক কাহিনী নেই. এখানে বিশেষ ধরনের টেকটনিক স্তরের ফাটলের জন্যই এই প্রস্রবণ গুলি তৈরী হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন ভূগোল বিদ ভিক্তর শালনেভ.

যখন পাটল রয়েছে, তার মানে হল এর গভীরে নানা প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে – প্রচুর খনিজ উত্স তৈরী হচ্ছে. একথা সত্য যে, উষ্ণ প্রস্রবণ তত বেশী নয়, বেশীর বাগই ঠাণ্ডা মিনারেল ওয়াটার, যা ঐতিহাসিক ভাবেই এই সব জায়গাকে জনগনের পর্যটন কেন্দ্র বানিয়েছে. তাদের সঙ্গেই সমস্ত লোক কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে. মিনারেল ওয়াটারের নানা রকমের ভাল গুণাবলীর জন্য মৃত ও জীবিত জল সম্বন্ধে নানা ধারণা হয়েছে. যদি প্রথমে মৃত জলে স্নান করে, তারপরে জীবন্ত জলে স্নান করা যায়, তবে কাহিনী অনুযায়ী পুনর্জন্ম হয়.

কম কিছু কুহেলিকা ইউরোপের সবচেয়ে শৃঙ্গ লুকিয়ে রাখে নি. কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, এলব্রুস – এটা যেন আগ্নেয় গিরি, যে চিরকালের জন্য শুয়ে রয়েছে, আর অন্যরা ভাবেন, আবার এলব্রুস জেগেই উঠতে পারে. অনেক সময় ধরে ভাবা হয়েছিল যে, এটা মৃত আগ্নেয় গিরি, তারপরে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন যে একেবারে চূড়ায় অনন্ত কালের হিমবাহের তলা থেকে আকাশে উঠে যাচ্ছে গরম সালফারের ধোঁয়া, যার তাপমাত্রা আশি ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, অর্থাত্ এলব্রুস এখন মৃত আগ্নেয় গিরি নয়, বরং শায়িত, যা জেগে উঠতেই পারে. এমনকি পাহাড়ীদের কাহিনী ছিল য়ে, কখনও এলব্রুস অগ্নি উদ্গীরণ করা পাহাড় ছিল. বোধহয় এই লাভা উদ্গীরণ ভূতাত্ত্বিক ধারণা অনুযায়ী খুব বেশী দিন আগে হয় নি.

তারই মধ্যে প্রাচীন আগ্নেয় গিরির ঢালে স্কি করার জন্য অনেকেই চলেছেন. এখানের বিরল ঢালের গড়ন, নানা রকমের জটিলতা সমেত স্কি করার রাস্তা তৈরী করতে সাহায্য করে, যা চরম ভয়ঙ্কর খেলার উত্সাহীদের জন্য করা হয়েছে, আর সহজ ঢাল রয়েছে – যারা নতুন স্কি করতে শিখেছেন. এলব্রুস পাহাড়ের চূড়ায় থাকা হিমবাহ সারা পৃথিবীর পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে. এর পরে ৫৬৪২ উচ্চতায় চড়া অনেক সহজ হবে.