গতকাল খবরে প্রকাশ হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উপ সহকারী রবার্ট শের. তাঁর কথামতো, ভারতীয় সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁরা এখনই রকেট প্রতিরোধের বর্ম তৈরী করতে রাজী. এই ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন একই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশে অস্ত্রের চালান বাড়াতে চাইছে. এর উদাহরণ হিসাবে শের কিছুদিন আগে সময়ের আগেই ভারতীয় বিমানবাহিনীকে পরিবহনের বিমান সি – ১৩০ জে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছেন. পেন্টাগনের প্রতিনিধি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর দেশ ভারতের সঙ্গে নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে ও পরীক্ষা মূলক নির্মাণের মাধ্যমে অস্ত্র তৈরী করতে আগ্রহী. এর একটি দিক হিসাবে যৌথ ভাবে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা হতে পারে বলে শের মনে করেছেন. তিনি বলেছেন এমন ভাবে যাতে ভারত এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে হওয়ার আগেই বোঝা গিয়েছে যে, তিনি নিজেই ভারতকে ডাক দিয়েছেন ভারত এই বিষয়ে যেন আগ্রহ দেখায়.

ভারতে গত বছরের টেন্ডারের সময়ে লকহিড মার্টিন ও বোয়িং কোম্পানীর তরফ থেকে যুদ্ধ বিমান সরবরাহের প্রস্তাব বাদ পড়ে গিয়েছিল, সেটা মার্কিন পক্ষের ভাল লাগে নি. তার ওপরে জর্জ বুশের সময় থেকে বর্তমানে বারাক ওবামার সময়েও একটানা চেষ্টা হচ্ছে ভারতকে মার্কিন সামরিক সহযোগী বানানোর.

এটা শুধু ভারতের কাছে সমরাস্ত্র পাঠানোর চুক্তি দিয়ে দেশের সামরিক ক্ষেত্রে শিল্পকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে না বরং এর আরও গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে. এটা আমেরিকার তরফ থেকে এশিয়াতে নিজেদের প্রভুত্ব বজায় রাখার ও এমন ব্যবস্থা তৈরী করার প্রচেষ্টা যাতে ভারতবর্ষ এশিয়াতে মার্কিন রাজনীতির পরিবাহক হয়ে দাঁড়ায়. এই প্রসঙ্গে বরিস ভলখোনস্কি লিখেছেন:

"ভারতের জন্য রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, কারণ প্রতিবেশী পাকিস্তানের কাছে রয়েছে পারমানবিক অস্ত্র ও তারাও অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তাই এই ধনের আত্মরক্ষার ছত্র ধারণের প্রয়োজন রয়েছে.

কিন্তু প্রশ্ন হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি এই সময়ে যখন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সময় এগিয়ে আসছে ও তা কি করে সম্ভব হবে, সেই নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সহমতে এসে কোন উপায় নেই, তখন ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খোলাখুলি ভাবে যেতে চাইবে".

এটা যথেষ্ট সন্দেহজনক উদ্যোগ, তাই ভলখোনস্কি মনে করেছেন যে, এটা আসলে পাকিস্তানের সম্বন্ধেই নয়, তিনি বলেছেন:

"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি. ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেমন একশো বার মুখে বলা হলেও আসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধেই করা হচ্ছে, দূর পাল্লার রকেট ব্যবস্থা যাদের নেই সেই ইরানের বিরুদ্ধে নয়, তেমনিই ভারতে এই ধরনের কাজ করতে চাওয়ার অর্থ জাপানের সঙ্গে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর মত চিনের বিরুদ্ধেই যাওয়া, সেখানে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে করার জন্য যেমন নয়, তেমনই. বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে আজ চিন হয়েছে মার্কিন প্রধান শত্রু, তাই ভারতকে টেনে আনার চেষ্টা হচ্ছে এই লড়াইতে. প্রশ্ন হল, ভারত ও চিনের নেতারা যখন এত প্রচেষ্টা করেছেন কোন রকমে একটা শান্তির পরিবেশ তৈরী করার, তখন মার্কিন প্রয়াস কি এই অঞ্চলে বিশ্বাস ও ভরসার বাতাবরণকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়েই করা হচ্ছে না?"