বাংলাদেশে সামরিক ক্যুদেতার প্রচেষ্টা আটকানো হয়েছে. হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা চ্যুত করতে একদল সামরিক অফিসার তৈরী হচ্ছিল. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার জেনেরাল মুহামেদ মাসুদ রাজ্জাক. তিনি এই ষড়যন্ত্র কারীদের ধর্মোন্মাদ বলেছেন. জেনারেলের কথামতো, পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে অন্যান্য সামরিক কর্মীদের জন্যই, যারা সরকারের প্রতি নিষ্ঠ থেকে ষড়যন্ত্রের গোপন খবর দিয়েছে. কিছু বিশদ বিবরণ নিয়ে এই সম্বন্ধে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

২০০৮ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের সরকারে আরোহণ করেছে আওয়ামী লীগ দল, রাষ্ট্রের জনক মুজিবর রহমানের কণ্যার নেতৃত্বে. এই দলের দেশের পার্লামেন্টে সদস্য সংখ্যা বেশী, তাই মনে হতে পারেই যে দেশের স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক ভাবে অটুট থাকারই কথা. কিন্তু প্রখ্যাত রুশ ভারত বিশারদ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন এটা একেবারেই সে রকম নয়, তাঁর মত হল:

"হাসিনা ওয়াজেদের দল ধর্ম নিরপেক্ষ মূল্যবোধ মেনে চলেন. দেশের অন্য একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পরিচালিত দল ঐস্লামিক শক্তির উপরেই নির্ভর করে রয়েছে. কিছুদিন আগেই ১৯৭১ সালে পাক বাংলাদেশ যুদ্ধের সময়ে যারা পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর হয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের উপরে অত্যাচার করেছিল, সেই রাজাকারদের মানবতার বিরুদ্ধে করা কাজের জন্য বিচার পর্ব শুরু করিয়েছেন হাসিনা ওয়াজেদের সরকার. এই সংগ্রামে তিরিশ লক্ষের বেশী লোক নিহত হয়েছিলেন. কিছু আইনও এমন নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে না. এই সবই দেশের ঐস্লামিক শক্তি ও সামরিক বাহিনীর ভিতরের চরমপন্থীদের সরকার বিরোধী করে তুলেছে".

দেশে তুমুল সরকার বিরোধী মিছিল হয়েছে. তাতে লোকেরা দেশের সংবিধান সূচনা থেকে আল্লার প্রতি পরম বিশ্বাস অংশ তুলে দেওয়াতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে. বিরোধীরা সংবিধানে অংশটি ফেরত চেয়েছে. দেশে শরিয়তের আইন চালু করা, মহিলাদের পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকার দিতে না চাওয়া ইত্যাদি নিয়েও বিক্ষোভ চলছে. সামরিক বাহিনীতেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে. সবচেয়ে মনে রাখার মতো হয়েছিল তিন বছর আগে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহ, যা দমন করতে গিয়ে প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছিল.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের একটি দরিদ্রতম দেশ. বেকারত্ব, দারিদ্র, দুর্নীতি ও সম্পূর্ণ রকমেই উন্নতির আশু সম্ভাবনা এই দেশে চরমপন্থী ইসলামের পথ খুলে দিয়েছে, অনেকটাই যা হয়েছে বর্তমানে অন্য আরব দেশ গুলিতে. বাংলাদেশের বাস্তবে সম্ভাবনা রয়েছে আরব বসন্তের শরিক হওয়ার. যদি অবশ্যই আওয়ামী লীগ দল অন্যান্য দেশের ট্র্যাজিক ঘটনা দেখে সিদ্ধান্ত না নেয় ও দেশের পরিস্থিতিকে ধরে রাখতে পারে.