মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছে, তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে ছয় পক্ষের আলোচনা শুরু করার. এই বিষয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ওয়াশিংটনে তিনটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের পরে. এটা পিয়ংইয়ংকে পাঠানো প্রথম ইতিবাচক সঙ্কেত, কিম চেন ঈন প্রশাসনের হাল ধরার পরে.

    এর এক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন প্যানেত্তা উত্তর কোরিয়ার নতুন নেতাকে "বাচ্চা ছেলে" বলেছেন. এই খবর হংকং এর সংবাদ মাধ্যম দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে পাওয়া বলে প্রচার করেছে. তাতে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে পরিস্থিতির বদলে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে কোন পার্থক্য হয় নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের মতই উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনায় বসার অন্যতম শর্ত হিসাবে দেশে রাজনৈতিক লক্ষ্য পথ পাল্টানো কেই মনে করে. তাছাড়া আগে ওয়াশিংটন, সিওল ও টোকিও পিয়ংইয়ং এর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজী হয়েছিল শুধু সেই শর্তেই যে, তারা "ছোনান" যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দোষ স্বীকার করবে ও ইওনপহিয়েন্দো দ্বীপের উপরে সামরিক আগাত হানার দায়িত্ব স্বীকার করবে.

    এই যে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, "ত্রিদেশীয় পক্ষ" থেকে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসার ব্যাপারে "সবুজ সঙ্কেত" দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়, এই সমস্ত প্রাথমিক শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে না কি হয় নি? যদি তাতে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ফরমুলা খুঁজে পাওয়া গিয়ে থাকে, তবে আলোচনায় বসতে চাওয়া – খুবই বড় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ. এই বিষয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার ভরোন্তসভের মত হল:

    "উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের বদল ঘটা ও প্রশাসনের শীর্ষে কিম চেন ঈনের আরোহণ বাস্তবেই পিয়ংইয়ং এর সহকর্মী ও বিরোধী দের জন্য আলোচনার একটা নতুন সম্ভাবনা তৈরী করেছে. প্রথমতঃ তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, আর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য, যাতে পুরনো জটিল পাতা উল্টে পরিস্কার সাদা পাতা থেকে আবার করে নতুন যুবক নেতার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরীর চেষ্টা করা যায়. এটা পিয়ংইয়ং এর সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা শুরু করার একটা ভাল সম্ভাবনা".

    এই প্রসঙ্গে আলেকজান্ডার ভরোন্তসভের মত হল যে, উত্তর কোরিয়ার নতুন নেতৃত্ব কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ধারা বজায় রাখবে:

    "উত্তর কোরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট. কিম চেন ইরের জীবনের শেষে, তা তাঁর শেষ বিদেশ যাত্রায় রাশিয়াতে গত বছরের আগষ্ট মাসে বলা হয়েছিল. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে তিনি তাঁর ছয় দেশের সম্মিলিত আলোচনায় ফিরে আসার বিষয়ে সমর্থনের কথা জানিয়ে ছিলেন ও তা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে ছিলেন, কিন্তু তাতে তিনি কোন প্রাথমিক শর্ত মানতে তৈরী ছিলেন না".

    আপাততঃ উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করা ঘোষণার কোন প্রতিক্রিয়াই দেখায় নি. সম্ভবতঃ এটা এই কারণে যে, কিম চেন ইরের মৃত্যুতে প্রতিপক্ষ মানসিক চাপ সৃষ্টি করার নতুন করে সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে বলে. অংশতঃ, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করেছে যে, চিনে নাকি বহু উত্তর কোরিয়ার লোক উদ্বাস্তু হয়ে চলে গিয়েছে. তাদের মোকাবিলা করার জন্য দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে নাকি প্রাচীর তোলা হচ্ছে. আর উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থানীয় লোকেদের মাথা গোনা হচ্ছে. যেসব পরিবারের লোক কমেছে, তাদের দেশের ভিতরের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে.

    পিয়ংইয়ং খুব কড়া ভাষায় সিওল থেকে ছড়ানো সেই সব খবরের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, যে, যারা নাকি কিম চেন ইরের মৃত্যুতে বেশী শোক প্রকাশ করে নি বা যথেষ্ট আবেগ প্রবণ হয়ে কাঁদে নি, তাদের নাকি দেশে বন্দী শিবিরে পাঠানো হয়েছে. এই বিষয় নিয়ে কাদা ছোঁড়া ও নতুন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে সামরিক বাহিনী বিহীণ এলাকায় প্রচার পত্র ছড়ানো কে পিয়ংইয়ং প্রায় যুদ্ধ ঘোষণা বলেই মনে করেছে. এই সব কিছু পেছনেই তারা আমেরিকার ছায়া দেখতে পেয়েছে. এই ছায়া, সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, আপাততঃ পিয়ংইয়ং এর কাছ থেকে সেই আলোচনার টেবিলের চারপাশকে ঢেকে রেখেছে, যার অন্যদিকেই, খবরে বিশ্বাস করলে, ওয়াশিংটন, সিওল ও টোকিও বসতে রাজী.