রাশিয়ার জনসংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ বড় শহর ইকাতেরিনবুর্গে মেট্রো রেলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হয়েছে. দুটি স্টেশনে পরীক্ষা মূলক ভাবে ভিডিও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে মানুষের মুখ চিনে ফেলার প্রযুক্তি সমেত. সেই গুলিতে আবার তেজস্ক্রিয় বিকীরণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোড়া হয়েছে.

২০১০ সালে মার্চ মাসে মস্কো মেট্রো রেলে সন্ত্রাসবাদী হানার পরে রাষ্ট্রীয় জনগনের পরিবহন নিরাপত্তা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল. তার মধ্যেই দেশের সমস্ত মেট্রো রেল ব্যবস্থায় বিশেষ ধরনের যন্ত্র বসানো হয়েছে, যা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বাধ্য, তারই সঙ্গে অন্যান্য জরুরী পরিস্থিতি রোধ করতেও পারার কথা.

    রাশিয়াতে সাতটি শহরে মেট্রো রেল ব্যবস্থা রয়েছে- এটা মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সামারা, নিঝনি নভগোরদ, ইকাতেরিনবুর্গ, নভসিবিরস্ক ও কাজান. সবচেয়ে বড় – মস্কো মেট্রো. প্রায় দুশো স্টেশন ও ১২ টি লাইন. ১৯৩৫ সালে এর প্রথম স্টেশন কাজ করতে শুরু করেছিল. সেন্ট পিটার্সবার্গে মেট্রো বিশ্বের সবচেয়ে গভীর মেট্রো রেল, কারণ এই শহরের জমির বৈশিষ্ট্য.

    তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানী কাজানে তৈরী হয়েছে রাশিয়ার সবচেয়ে নবীন মেট্রো ব্যবস্থা. ২০০৫ সালে তা খেলা হয়েছে. এখানে, প্রসঙ্গতঃ নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেট্রো তৈরীর প্রকল্প করার সময়েই যোগ করা হয়েছিল. এর ফলে খুবই সফল সন্ত্রাস বিরোধী ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়েছে, যা সমস্ত স্টেশন গুলিতেই রয়েছে. তাতে রয়েছে আগুণ নেভানোর জন্য ব্যবস্থা, বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা, বুদ্ধি করে করা ভিডিও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা. বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সবই রাশিয়াতে কাজানের মেট্রোকে বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ বলতে সুযোগ দিয়েছে.

    ইকাতেরিনবুর্গের মেট্রো রেলে মুখ চেনার উপায় সমেত ভিডিও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একটা বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ, যা দিয়ে মাটির নীচের রেল ব্যবস্থা এই বর ও আগামী বছরে সুরক্ষিত করা হবে বলে ঠিক করা হয়েছে. সেখানে এক্স রে ব্যবহার করে যাত্রী ও তার মালপত্র পরীক্ষা করা যাবে, ধাতু নির্ণয়ের জন্য বিশেষ গেট থাকবে, গ্যাস নির্ণয়ের ব্যবস্থা থাকবে, তেজস্ক্রিয় বিকীরণ নির্ণয় করা যাবে, যন্ত্র থাকবে রেডিও মাধ্যমে যাতে বিস্ফোরক সক্রিয় না করা যায়, তার জন্য ও আরও নানা রকমের যন্ত্র যোগ হবে. এই ধরনের ব্যবস্থা অন্যান্য শহরেও লাগানো হবে.

    বর্তমানে এই সব ব্যবস্থা শুধু স্টেশনেই নয়, মেট্রো রেলের কামরাতেও লাগানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র থেকে তা দিয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন য়ে, এগুলি কাজ করছে এখন যেন সাক্ষ্য হিসাবে, দূর্ঘটনা ঘটার পরে তা বিশ্লেষণের জন্য.

    আর নতুন ব্যবস্থা আগে থেকেই বিপদের সম্ভাবনা দেখতে পাবে, আগে থেকেই সমস্ত সম্ভাব্য ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে পারবে. এই ধরনের যন্ত্রপাতি যা এখন ইকাতেরিনবুর্গের দুটি স্টেশনে কাজ করছে, তা মেট্রো রেলে তেজস্ক্রিয় বস্তু আনার প্রচেষ্টা বানচাল করে দেয়. কোন যাত্রীর সঙ্গে নিষিদ্ধ কিছু থাকলে আগেই সঙ্কেত দেয়, একই সঙ্গে ভিডিও ব্যবস্থা সেই ব্যক্তির মুখ লক্ষ্য করে নির্ণয় করে দেয় কার সঙ্গে এই রকম জিনিস রয়েছে, তাকে মেট্রোর রক্ষীরা বা পুলিশ তখন ধরতে পারে.

    পরিকল্পনা রয়েছে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই ইকাতেরিনবুর্গের মেট্রো রেলে এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে কাজ করতে শুরু করবে.