পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি মার্ক গ্রসম্যানকে দেশে সফরে আসতে বারণ করেছে, যতদিন পর্যন্ত দেশের সুপ্রীম কোর্টে তথাকথিত মেমোগেট স্ক্যাণ্ডাল নিয়ে শুনানী চলছে. এই বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সফর বাতিল করা নিয়ে কোন সরকারি ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নি. তা স্বত্ত্বেও, বোঝা গেছে যে, পাকিস্তান নিজেই এই স্ক্যাণ্ডালের বিষয়ে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে, ওয়াশিংটন থেকে কোন রকমের চাপ ছাড়াই. এটা আমেরিকার লোকেদের ভাল নাই লাগতে পারে. কিন্তু তাদের আপাততঃ শান্ত থাকতে হচ্ছে. পাকিস্তানে খুবই প্রসারিত হয়েছে এমন ধারণা যে, বর্তমানের রাজনৈতিক সমস্যা দেশে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ ছাড়া হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইভগেনি সালতানোভস্কি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি করতে পারে? অর্থ যোগান বন্ধ করতে পারে, কিন্তু তাহলে পাকিস্তান এই বাজেট ঘাটতি তত্ক্ষণাত সৌদি পৃষ্ঠপোষক দের অর্থ দিয়ে ভর্তুকি দেবে ও চিনের থেকে সাহায্য পাবে. পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করাও সম্ভব নয়. এই দেশ খুব কম বড় যুদ্ধ করে নি, তার মধ্যে ভারতের সঙ্গেও হয়েছে. তাদের সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলের একটা সেরা বাহিনী. পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১১০টি পারমানবিক বোমা. আমেরিকার লোকেদের পাকিস্তানে হাত পা বাঁধা. এই এলাকায় তাদের রাজনীতি বর্তমানে কানা গলিতে আবদ্ধ".

    বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি সুপ্রীম কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছেন. এক রুদ্ধদ্বার শুনানীতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কেন এখনও তিনি ২০০৯ সালে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ পেয়েও রাজক্ষমা সংক্রান্ত আদেশ প্রত্যাহার করেন নি, যা রাষ্ট্রপতি মুশারফ ২০০৭ সালে দিয়েছিলেন. এই আদেশের বলে দেশে অনেক বড় দুর্নীতি করা লোকেরা, যাদের কালো হাত, সেই রকমের রাজনৈতিক নেতারা ও যাদের মধ্যে বর্তমানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী সমেত আরও প্রশাসনের বড় কর্তারা রয়েছেন, তারা আজও বহাল তবিয়তে মৌরুসি পাট্টা জুড়ে বসে আছেন. আপাততঃ আদালত বিচার বন্ধ করেছে ১লা ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত.

    অন্য দিকে পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট তথাকথিত মেমোগেট কাণ্ডে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জারদারীর ভূমিকা বিচার করে দেখতে চেয়েছে. পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত আমেরিকার এক ব্যবসায়ী মনসুর ইদজাজ যেমন স্বীকার করেছে যে, তার হাত দিয়েই জারদারীর প্রশাসনের লোকেরা এক গোপন ইচ্ছা পত্র আমেরিকার প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল, যা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল. আশা করা হয়েছে যে, ইদজাজ সুপ্রীম কোর্টের নতুন করে শুনানী শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানে পৌঁছবেন. তাঁর কাছে পাকিস্তানের সুইজারল্যান্ডের রাজদূতাবাস থেকে দেওয়া দেশে প্রবেশের ভিসা এখনই রয়েছে. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব ও আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থার কর্তা ইদজাজ কে সম্পূর্ণ রকমের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়েছেন, পাকিস্তানের ভিতরে. এই ধরনের গ্যারান্টি দেখাই যাচ্ছে যে, দরকার আছে. পাকিস্তানে মনসুর ইদজাজ নামক ব্যক্তির প্রতি সম্পর্ক নানা ধরনের. একদল লোকে মনে করেছেন যে, তিনি দুর্নীতি করা লোকেদের মুখোশ খুলে দেবেন, অন্যরা ভাবেন তিনি আমেরিকার গুপ্তচর ও প্ররোচনা দাতা, যাকে জেলে ভরা উচিত্. গত বছরের মে মাসের অ্যাবত্তাবাদের ঘটনার জন্য তিনি বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি জারদারী ও প্রধানমন্ত্রী গিলানিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল ও বলা হয়েছিল যে, সেখানে ওসামা বেন লাদেনকে খুন করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে. পাকিস্তানের দুই নেতাই এই কথা অস্বীকার করেছেন. এবারে তিনি কি বলবেন – সেটা তাঁর সুপ্রীম কোর্টে বক্তৃতা অবধি অপেক্ষা করবো. পাকিস্তানে রাজনৈতিক সঙ্কট খালি গভীরই হচ্ছে.