আসন্ন রাষ্ট্রপতির নিবাচন, কর্তৃপক্ষ এবং বিরোধীপক্ষের সম্পর্ক, সামাজিক অসাম্য এবং বিশ্ব সঙ্কট অতিক্রমের পথ – এগুলি হল সমস্যার অসম্পূর্ণ তালিকা, যা ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনা করেছেন প্রচার মাধ্যমের সাথে, সঠিকভাবে বললে, রাশিয়ার বৃহত্তম প্রচার মাধ্যমগুলির মুখ্য সম্পাদকদের সাথে সাক্ষাতে. বিতর্ক ছিল স্বচ্ছন্দ ও উত্তেজনাপূর্ণ, সমালোচনা হয়েছে উভয় দিক থেকেই, যেমন প্রচার মাধ্যমের প্রতি, তেমনই ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি.

   ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাত্ অনুষ্টিত হয়েছে সাংবাদিকদের উদ্যোগে, তাই তীব্র প্রশ্নগুলি তোলার আগে দীর্ঘ ভূমিকার সময় ছিল না. “চতুর্থ শাসন ব্যবস্থার” প্রতিনিধিরা আক্রমণ শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এ প্রশ্ন দিয়ে: “৪ঠা মার্চের নির্বাচনের পরে কিভাবে আপনি প্রমাণ করবেন যে, সত্ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে জিতেছেন?”

   আমার মনে হয় না যে, কিছু প্রমাণ করা দরকার. আমি আগে বলেছি এবং আবার বলতে পারি : শাসন ক্ষমতায় কাজ করার খাস ঘটনা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল দেশের সামনে এসে দাঁড়ানো সমস্যাগুলি সমাধানের সুযোগ. এমন পর্যায়ে কাজ করা যেতে পারে শুধু তখনই, যখন নাগরিকদের বাস্তব আস্থা ও সমর্থন রয়েছে, তখনই বাস্তবায়িত করা যেতে পারে যা ভেবেছ তা. যদি তা না থাকে, তাহলে ওদিকে না যাওয়াই ভাল. আমার নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল এই বাস্তব সমর্থন প্রকট করা এবং তা উপলব্ধি করা. আমি চাই, আমাদের দেশে নির্বাচন যেন হয় স্বচ্ছ এবং যথাসম্ভব সত্ভাবে. নাগরিকরা যদি দেশের জন্য, রাশিয়ার জন্য আস্থা, তার নিরাপত্তার জন্য আস্থা, তার অর্থনীতি বিকাশের জন্য আস্থা অন্য ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করে তাহলে তা-ই হোক, তিনিই কাজ করবেন. আর আমি চেষ্টা করব, তা যেন যথাসম্ভব স্বচ্ছ হয়.

   সাংবাদিকদের চিন্তিত করে কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় দুমার নির্বাচনের পরে মিছিল ও সভায় যোগ দেওয়া বিরোধীপক্ষের মাঝে বর্তমানে সংলাপের অভাব. যারা এখন “সত্ নির্বাচনের পক্ষে”  নামে লীগে যোগ দিয়েছে, তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী কি সাক্ষাত্ করবেন? আর তাঁদের মধ্যে আছেন সাহিত্যিক বরিস আকুনিন ও ল্যুদমিলা উলিত্স্কায়া, সাংবাদিক দমিত্রি বীকোভ ইত্যাদিরা. ভ্লাদিমির পুতিন আশ্বাস দেন যে তিনি সংলাপ চালাতে অস্বীকার করছেন না :

   জানেন, আমরা সম্প্রতি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সরকারী পুরস্কার অর্পণ করেছি, এবং যতটা জানি, উপরোক্ত সকলকেই আমন্ত্রণ করা হয়েছিল. তাঁরা আসেন নি. তাঁরা বলছেন : আমরা চাই বিতর্ক, কর্তৃপক্ষ আমাদের শুনছে না. আমরা তাঁদের ডাকছি, অথচ তাঁরা আসছেন না. তাই আমার মনে প্রশ্ন জাগে : তাঁরা কি চান? তাঁরা কি বলতে চান, বিতর্ক নেই, অথবা তাঁরা বিতর্ক করতে চান না? আমরা প্রস্তুত – ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রস্তুত, এবং আমার সহকর্মীরাও প্রস্তুত – তাঁদের সাথে সাক্ষাত্ করতে এবং আলাপ করতে. প্রসঙ্গত বলি, যাঁদের নাম করলেন তাঁদের এবং আপনাদের আরও কিছু সহকর্মীকে একাধিকবার আমন্ত্রণ করেছি. একাধিকবার! একবারও তাঁরা আসেন নি.

   সাক্ষাতের সময় বিশ্বব্যাপী সমস্যাবলি, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক সঙ্কট সম্বন্ধে আলোচনাও বাদ পড়ে নি. প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিচার করে মনে হয় যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অসহজ সময় সামনে রয়েছে. উপরন্তু দেশে স্বাভাবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অর্থে, পরিস্থিতি বজায় রাখা দরকার, যাতে তত্পরভাবে সেই সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা যায়, যা সম্ভবত, জরুরী হয়ে উঠতে পারে.

   দেশের বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজের নাগরিকদের এবং সারা পৃথিবীকে দেখিয়েছে যে কর্তৃপক্ষ ২০০৮-২০১১ সালের গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রতিরোধ করতে সক্ষম. আর ভ্লাদিমির পুতিন আবার মনে করিয়ে দেন যে, রাশিয়ার জন্য প্রধান দিক-নির্দেশক রয়েছে অপরিবর্তনীয় – সামনের দিকে অগ্রগতি, নতুন নতুন কর্মস্থল সৃষ্টি এবং জনসাধারণের আয় বৃদ্ধি, আর এজন্য সঙ্গতি এবং রাজনৈতিক মনোবল রয়েছে.