রাশিয়াতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা নথিভুক্ত করা শেষ হয়েছে. ৪ঠা মার্চের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন চারজন প্রার্থী আর তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন আরও তিনজন রাজনীতিবিদ, যদি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদ তাঁদের জন্য যোগাড় করা ভোটারদের স্বাক্ষর স্বীকার করে নেয়.

আজ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিষদে সমস্ত কাগজ পত্র জমা দিয়েছেন তিনজন প্রার্থী: "ইয়াবলকা" দলের গ্রিগোরী ইভলিনস্কি, ব্যবসায়ী মিখাইল প্রোখোরভ ও ইরকুতস্ক রাজ্যের রাজ্যপাল দিমিত্রি মেজেনত্সভ. এর আগে সব কটি পার্লামেন্টে উপস্থিত দলের প্রার্থীদের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল. এঁরা হলেন "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের হয়ে ভ্লাদিমির পুতিন, "ন্যায় বাদী রাশিয়া" দলের হয়ে সের্গেই মিরোনভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি এবং কমিউনিস্ট গেন্নাদি জ্যুগানোভ. এঁরা সকলেই রুশ জনগনের কাছে পরিচিত. প্রসঙ্গতঃ এঁদের মধ্যে কয়েকজন শুধু তাঁদের বর্তমানের রাজনৈতিক কাজকর্মের জন্যই যতটা নয়, তার চেয়েও বেশী পূর্ববর্তী নির্বাচন গুলিতে অংশ নেওয়ার জন্য. এখানে একমাত্র "আচমকা ঘোড়া" – ব্যবসায়ী নিকাইল প্রোখোরভ, এই কথা মনে করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ বলেছেন

"তিনি নিজের চারপাশে অসন্তুষ্ট লোকেদের আশাকে সমষ্টিবদ্ধ করতে পারেন কি না – তার উপরেই তাঁর ভবিষ্যত নির্ভর করছে. আমাদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে নতুন মুখ দেখা দিচ্ছে, সেই ঘটনা নিজের দিক থেকে কিছু খারাপ ব্যাপার নয়. এখানে প্রধান মতের অমিল রয়েছে এই বিষয়ে যে, প্রোখোরভ মধ্য বিত্ত শ্রেনীর প্রতিনিধি হতে চাইছেন অথচ তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ সব সময়ে এই জনতার স্বার্থের সঙ্গে মেলে না. তা একমাত্র প্রার্থী নিজেই ঘোচাতে পারেন, তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই বিষয়ে সন্দেহ রাখি".

এই দৌড়ে সমাদৃত – বর্তমানের রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন. তাঁর জন্য এটা হবে তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্ পর্ব. কিন্তু আগের নির্বাচন গুলির তুলনায় এটা হবে একেবারে অন্য ধরনের পরিস্থিতিতে, এই সাবধান বাণী দিয়ে মিখাইল রেমিজোভ বলেছেন:

"১৯৯৯ ও ২০০৪ সালের দুটি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব ছিল সমাদৃত ব্যক্তি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাস্তবে প্রায় জয়ী হয়ে গিয়েছিলেন. কেন? কারণ তিনি খুবই শক্তিশালী সিদ্ধান্তের ঢেউয়ের সাথেই চলেছিলেন. ১৯৯৯ সালে এটা ছিল চিচনিয়াতে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের শুরু নিয়ে সিদ্ধান্তে. ২০০৪ সালে – "ইউকস" কোম্পানীকে নিয়ে সিদ্ধান্ত ও প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ভাড়া আদায় বিষয়কে জাতীয় করণ করা নিয়ে. এই সব সিদ্ধান্তের চারপাশে সমাজের ঐক্যবদ্ধ রূপ পুতিনকেও ভোটারদের সমর্থন জুগিয়েছে. তাই বিজয় এক রকমের আগে থেকেই হয়ে গিয়েছিল. ২০১১ সালে কোন এই রকমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি. তাঁর জয় আজকেও সবচেয়ে বেশী সম্ভাব্য বলেই মনে হয়. কিন্তু তা অর্জন করতে অনেক শক্তি খরচ করতে হবে".

নির্বাচন ২০১২ সালের ৪ঠা মার্চ হবে. প্রাক্ নির্বাচনী কাজকর্ম এর মধ্যেই কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে. "ইয়াবলকা" দল "স্বচ্ছ নির্বাচন" নামে তহবিল গড়ার ডাক দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সময়ে পর্যবেক্ষণের কাজ করবে. এই রকম কাঠামো তৈরীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে "ইয়াবলকা" দলের লোকেরা গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময়ে বহুল পরিমানে কারচুপির অভিযোগ থাকাকে উল্লেখ করেছে. সেই গুলির তদন্ত নিয়ে রুশ অভিশংসক দপ্তরে কাজ হয়েছে. আজ রাশিয়ার প্রধান অভিশংসক ইউরি চাইকা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তা অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে ৩০০০ আইন ভঙ্গ ধরা পড়েছে, দুটি ফৌজদারী মামলা করা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন ব্যক্তিকে প্রশাসনিক দায়ভার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে.