২০১১ সালে রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতিতে এশিয়ার দিকে লক্ষ্যের শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কাজকর্মের হিসাব নিকাশ দিতে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, গত বছরে রাশিয়া বহুমুখী ও বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ককে মজবুত করতে পেরেছে, এশিয়ার নেতৃস্থানীয় দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করেছে.

     সের্গেই লাভরভের কথামতো, বিগত বছর দেখিয়েছে যে, ব্রিকস আন্তর্জাতিক ভাবে  অর্থ পূর্ণ উপাদান হতে পেরেছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "গত বছরে ব্রিকস রাষ্ট্র গুলির নেতাদের সাক্ষাত্কারের সময়ে সমর্থন করে বলা হয়েছিল যে, এই প্রভাবশালী জোট, যারা আর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে. কিন্তু একই সময়ে ব্রিকস আন্তর্জাতিক বিষয়ে এক নির্দিষ্ট পথের সন্ধান দিয়েছে ও অনেক দেশের পক্ষ থেকে সমর্থন পেয়েছে. আমরা আশা করি, যে ব্রিকস সংস্থার পরবর্তী নয়া দিল্লী শীর্ষবৈঠকে এই ফোরামের অংশগ্রহণকারীদের পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতা আরও বেশী হবে ও তাদের অবস্থানকে বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগে ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও বেশী করে জোটবদ্ধ করবে."

    একই সময়ে রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেও নিজেদের অবস্থানকে আরও মজবুত করছে বলে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন. রাশিয়া চেষ্টা করছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সম্ভাবনাকে সুদূর প্রাচ্য ও পূর্ব সাইবেরিয়ার উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করার. "এই অঞ্চলের দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা, যা আগেও আমাদের প্রাথমিক কাজের মধ্যে খুবই উঁচু জায়গায় ছিল, বিগত বছর গুলিতে তা আরও বেশী ঘনীভূত হয়েছে", - বলেছেন মন্ত্রী.

    "আমরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি চিন ও ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে, জাপানের সঙ্গে বহুমুখী সহযোগিতাকে গভীর করার জন্য, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, আসিয়ান দেশ গুলি ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অন্যান্য দেশ গুলির সাথেও বাড়ানোর জন্য, তাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও বিনিয়োগ সহযোগিতা করার বিষয়ে. গত বছর থেকে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব এশিয়ার শীর্ষবৈঠকে যোগ দিয়েছে. এটা আগ্রহজনক ও বহু সম্ভাবনাময় কাঠামো, এই অঞ্চলে স্বচ্ছ ও ভারসাম্য যুক্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতার স্থাপত্য তৈরীর জন্য."

    লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতাকে মজবুত করার জন্য ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভ্লাদিভস্তকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষবৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে.

    চিনের সঙ্গে সম্পর্কের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, মস্কোতে খুবই উঁচু মান দেওয়া হয়েছে রুশ চিন সহযোগিতার বিষয়ে. তিনি তাঁর বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন যে, "এটা আমাদের চিনের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার বিষয়ে কোন রকমের সুবিধাবাদীত্ব না করেই করা". মন্ত্রীর কথামতো, মস্কো ও বেইজিং এর সহযোগিতা আন্তর্জাতিক বিষয়ে স্বাভাবিক চরিত্রের ও তা তৈরী করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ভাবেই, কারণ তা আমাদের দেশ গুলির জাতীয় স্বার্থের নৈকট্যের উপরে নির্ভর করে করা হয়েছে.

    রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের আসন্ন জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকেরা মন্ত্রীর কুরিল দ্বীপপূঞ্জ সম্বন্ধে মত সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ করলে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, কুরিল দ্বীপপূঞ্জের দক্ষিণ দিকের দ্বীপগুলিতে রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোন সন্দেহ নেই. মন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, "সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা সমাধানে কোন রকমের তাড়াহুড়ো বা আবেগের জায়গা নেই. এই সমস্যা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন শান্ত ভাবে কোন রকমের আগে থেকে করা ধারণা না নিয়ে, তার মধ্যে দুই দেশের ঐতিহাসিকদের মতের নির্দেশ মেনেই".

    সাংবাদিকদের সামনে ২০১১ সালের কার্যক্রম নিয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ আশ্বাস দিয়েছেন যে, "বিদেশী সহকর্মীরা ২০১২ সালের মার্চ মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরেও এই দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে পরম্পরা লক্ষ্য করতে পারবেন".