১৮ থেকে ২১শে জানুয়ারী মস্কোতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন "রাশিয়া ও বিশ্ব: ২০১২- ২০২০" চলছে. রাশিয়া ও বিদেশের বিশেষজ্ঞরা আগামী আট বছরের জন্য দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে প্রস্তাব রাখবেন ও আলোচনায় বসবেন.

    এই ফোরামের প্রধান বিষয় হবে উদ্ভাবনী উন্নয়ন. রাশিয়াতে ভাল বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি তৈরী করে দেওয়া, রাশিয়ার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলিকে মজবুত করা. পরিকল্পনা মূলক আলোচনা, গোল টেবিল বৈঠক ও সেমিনার চলবে খুব ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি.

    প্রথম দিনে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির সাধারন সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা হবে, দ্বিতীয় দিনে – ম্যাক্রো অর্থনৈতিক প্রশ্ন সমষ্টি ও ইউরোপীয় সঙ্কট, তৃতীয় দিনে রাশিয়ার সামাজিক রাজনীতি নিয়ে ও চতুর্থ দিনে আলোচনা হবে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে.

    এই ফোরামের এক উদ্যোক্তা – ইগর গাইদারের নামাঙ্কিত অর্থনৈতিক রাজনীতি ইনস্টিটিউট, যারা রাশিয়াতে এই নিয়ে দশমবার এই ধরনের সাক্ষাত্কারের বন্দোবস্ত করেছে. এই ইনস্টিটিউটের প্রধানদের সভার সদস্য ও সম্মেলনের সহ আয়োজক ভ্লাদিমির মাউ ঘোষণা করেছেন যে, এই সম্মেলনের মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশ করবেন, তাই তিনি বলেছেন:

    "যা আমরা প্রস্তাব করবো, তা আমাদের মতে দেশের জন্য উন্নতির লক্ষণ ও বাধাকে হিসাবের মধ্যে গণ্য করে সবচেয়ে ভাল উপায় হবে. অন্য লোক ও অন্য রাজনীতিবিদদের আলাদা ধারণা থাকতেই পারে. এখানে আলাদা বিভাগ নিয়ে আলোচনা হবে, রাশিয়ার উন্নতির স্ট্র্যাটেজি নিয়েও আলোচনা হবে. অনেক রকমের সমাধান থাকতে পারে. একটা এমন প্রস্তাব আছে যা আমরা দায়িত্ব নিয়ে করতে পারি, তার বাইরে চলে যায়, তবুও আরও অনেক সমাধান রয়েছে, যা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই করা সম্ভব. সমাধান কখনোই দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে না, তা যেমন আর্থ- বাজেট বিষয়ে, তেমনই সামাজিক– রাজনৈতিক ক্ষেত্রে".

    রাশিয়া ও বিশ্ব নামের প্রথম ফোরাম হয়েছিল গত বছরে. ভ্লাদিমির মাউ উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সম্মেলনের মধ্যে পার্থক্য হল যে ২০১২ সালের ফোরাম রাশিয়ার সমাজের সামনে যে উদ্বেগ উপস্থিত হয়েছে, তার কথা মনে রেখেই করা, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

    "এই বছরের ফোরাম নতুন মডেলের সম্বন্ধে সমাজের স্পষ্ট দাবীর জন্যই আলাদা রকমের. এই দাবী রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও. এখানে মনোযোগ দেওয়ার বিষয় হল প্রশাসন সমাজের চেয়ে এক বছর আগেই এই প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিল. আমাদের সামনে কাজ রাখা হয়েছিল নতুন উন্নতির মডেল তৈরী করা ও ২০১০ সালের শেষেই বলা হয়েছিল নতুন সামাজিক রাজনৈতিক মডেল তৈরী করার কথা. সমাজ এই বিষয় নিয়ে কড়া ভাবে মিটিং ও সংবাদ মাধ্যমে দাবী করেছে ২০১১ সালের শেষে".

    ২১৯ জন বিশেষজ্ঞ এই ফোরামে তাঁদের রিপোর্ট ও ধারণা নিয়ে কথা বলবেন, তাঁরা এসেছেন রাশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে. রাশিয়ার ম্যাক্রো অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ইউরোপ দপ্তরের উপ প্রধান ইউখা কাখোনেন, গ্রেট ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক রাজনীতির সম্মাননীয় প্রফেসর রবার্ট স্কিদেলস্কি আর সিটিগ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম বুইটলার. রাশিয়াতে নতুন আর্থ সামাজিক উন্নতির মডেল নিয়ে বক্তৃতা দেবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফরি স্যাক্স ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া দপ্তরের উপ সভাপতি ফিলিপ লে উয়েরু. তাঁদের সঙ্গে বিতর্কে যোগ দেবেন ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা হলেন – রাজনীতিবিদ, অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা, বিজ্ঞানীরা, জাতীয় কেন্দ্র গুলির প্রধানেরা, ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগ কোম্পানীর নেতৃস্থানীয় লোকেরা.