চিনের পরে ভারত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকার করেছে. এই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা অব্যাহত থাকবে.

নিউ দিল্লী তাদের মত সমর্থন করেছে এই যুক্তিতে যে, "রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ভারতবর্ষ মানবে. আর একই সঙ্গে আলাদা কোন দেশের নেওয়া নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিতে বাধ্য নই. আমরা পরবর্তী সময়ে ইরান থেকে খনিজ তেল কেনা চালিয়ে যাবো". এই ভাবেই ভারতের উচ্চপদস্থ কূটনীতিবিদেরা সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন.

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ওয়াশিংটনের ভারতের সঙ্গে আরও বেশী ঘনিষ্ঠ সহকর্মী সুলভ সম্পর্ক তৈরীর ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি দ্বন্দ্বের আহ্বান জানিয়েছে. ভারত ইরানের খনিজ তেলের এক প্রধান আমদানীকারক দেশ. দেশের জ্বালানী সংক্রান্ত নিরাপত্তা এর সঙ্গে অনেকটাই জড়িত. তাই খনিজ তেল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা সংক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবী – সেই খড়ির গণ্ডি, যা ভারত পার হবে না.

গতকাল গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের জাতীয় সভার প্রধানমন্ত্রী ভেন জিয়াবাও সৌদি আরবে এই কথা সমর্থন করেছেন যে, চিন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মানবে না. চিন ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা. প্রসঙ্গতঃ চিন এই প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে না বলা প্রথম বড় দেশ, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের আলেক্সেই মাসলভ বলেছেন:

"চিন ইরানে প্রথম মার্কিন স্বার্থের এলাকায় প্রবেশ করেছে. এটা সম্ভবতঃ প্রথম ঘটনা, যখন চিন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে, যা অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এক সারি প্রত্যুত্তর নিয়ে আসবে. ২০১২ সালে তেহরানের উচিত্ চিনের সঙ্গে অনেকগুলি বড় খনিজ তেল সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা অথবা অন্যান্য বাধা ইরানের খনিজ তেল রপ্তানী সম্বন্ধে নেওয়া হলে চিন খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে. তাই চিন শেষ অবধি লড়াই করবে".

মনে হচ্ছে শেষ অবধি দক্ষিণ আফ্রিকাও লড়াই করবে বলে স্থির করেছে.ইরান থেকে তাদের খনিজ তেল আমদানী দেশের মোট আমদানীর শতকরা দশ ভাগের মতো. আজ সিওল নিজেদের মুখ্য সহযোগী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী আলোচনা করতে বসেছে এই প্রশ্ন নিয়েই. সিওল চেষ্টা করছে নিজেদের জ্বালানী সংক্রান্ত স্বার্থ ইরানে সুরক্ষিত করতে আর একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করতে চায়. ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানীর বিষয় পরিকল্পিত ভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া জাপানের তুলনায়, যারা সমুদ্র পারের চাপের কাছে অবিলম্বে নতি স্বীকার করেছে, সিওল অন্য পথই ধরেছে.

তুরস্কের অবস্থানও এই ক্ষেত্রে নজর কেড়েছে. মঙ্গলবারে এই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে যে, আঙ্কারা তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজেদের কোন রকমের বাধা দিয়ে সীমিত বলে মনে করছে না, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞার অতিরিক্ত. আঙ্কারা ক্রমবর্ধমান বিরক্তির সঙ্গে লক্ষ্য করছে কি করে ইরান আরব বসন্তের থেকে এই এলাকায় নিজেদের পয়েন্ট অর্জন করছে ও শক্তিশালী হচ্ছে. কিন্তু আরও বেশী করে তুরস্ক বিরক্ত এই কারণে যে, ব্রাসেলস তাদের মুখের সামনে ইউরোপীয় সঙ্ঘের দরজা বাস্তবে বন্ধ করে দিয়েছে. ফলে ইরান একটা বাছাই করেছে – খনিজ তেল নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানকে সমর্থন করা.

মঙ্গলবারে ওপেক সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি মুহামেদ আলি হাবিবি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় সঙ্ঘের এলাকায় ইরানের খনিজ তেলের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞাই আত্মঘাতের সমতূল্য হবে. তেহরান একই সঙ্গে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছে বিশ্বের বাজারে ইরানের খনিজ তেলের ব্যাপারে ভর্তুকি না দিতে, যদি সমস্ত কিছু স্বত্ত্বেও ২৩শে জানুয়ারী ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়.