পাকিস্তানে রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরোতর বেড়েই চলেছে. পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে খোলাখুলি ভাবেই দেশে সরকার বদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বিগত সোমবারে ইসলামাবাদে দুটি বড় অনুষ্ঠান হয়েছে. দেশের জাতীয় সভা (পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ) অধিবেশনে বসেছিল আর পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট ২২০৭ সালে রাজনৈতিক ক্ষমা দান বিষয়ে অভিযোগের শুনানী শুরু করেছে. সুপ্রীম কোর্ট প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির কাছে এই ক্ষমা দান সংক্রান্ত বিবৃতি প্রত্যাহার করার দাবী করেছে, যা দেশের প্রথম সারির নেতাদের আইনত অভিযোগের হাত থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল, আর তাদের মধ্যে দুর্নীতির অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ও অন্যান্য অনেক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতা. দেশের নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির প্রধানেরা প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান করে দিয়েছেন এই বলে যে, সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে বিবাদ যেমন তাঁর নিজের গদির জন্যই বিপজ্জনক তেমনই রাষ্ট্রপতির জন্যেও. বিরোধী পক্ষের মনোভাব দেশের তেহরিক ও ইনসাফ বা ন্যায় বাদী দলের নেতা ইমরান খান ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, সরকার সমস্ত উপায়ই ব্যবহার করছে, যাতে দুর্নীতি ঢাকা দেওয়া যায়, সামরিক বাহিনীকে উস্কানি দিচ্ছে, যাতে দেশে শৃঙ্খলা বজায় করার নামে দুর্নীতি সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ করা যায়.

    এই দুটি ঘটনাই সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের বিপক্ষে, যদিও প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিবর্তন খুবই সক্রিয়ভাবে সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে. একদিকে সরকার ও লোকসভার আর অন্য দিকে সরকার ও সামরিক বাহিনী এবং সুপ্রীম কোর্টের মধ্য খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে. পাকিস্তানের রাজনৈতিক শক্তিরা মনে করেছে এই প্রশ্ন গণতান্ত্রিক উপায়ে নিরসনের প্রয়োজন, একই কথা মনে করে রাশিয়ার কার্নেগী কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, একমাত্র সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে সরকার বরখাস্ত করলে তবেই কোন সামরিক অভ্যুত্থানের কথা উঠতে পারে, আর সরকার মনে হয় না সেই খড়ির গণ্ডি পার হবে.

    পাকিস্তানের প্রশাসনও চাইছে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পদ ছেড়ে দিতে তৈরী আবার দেশের লোকসভা সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেছে যে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গণতন্ত্রকে মজবুত করতেই চাইছেন, তাই পার্লামেন্ট তাঁদের প্রতি গভীর ভরসা প্রকাশ করেছে.

    আপাততঃ অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে গিলানির নিজের পদ ছেড়ে দেওয়ার কথার মানে কি পাকিস্তানে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়া. দেশে রাজনৈতিক সক্রিয়তা খুবই বেড়েছে. প্রাক্ নির্বাচনী জোট তৈরীর জন্য নানা রকমের ধারণা প্রকাশিত হচ্ছে কাগজে. নির্বাসন থেকে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ ইমরান খানের ন্যায় বাদী দলে সম্ভবতঃ যোগ দিতে চাইছেন, যিনি সরকারের সমালোচনা করে বিগত কালে যথেষ্ট রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন.

    রাজনৈতিক সঙ্কট এতই তীব্র হয়েছে যে সরকার বদল অবশ্যম্ভাবী. প্রশ্ন হল, এটা যেমন বলা হচ্ছে, তেমনই এই বছরের মাঝামাঝি সংবিধান মেনেই করা হবে, নাকি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে করা হবে, যা পাক ইতিহাসে বহুবার ঘটেছে.