রাশিয়ার আন্তর্গ্রহ মহাকাশ স্টেশন "ফোবোস- গ্রুন্তের" মিশন শুরু না হয়েই প্রশান্ত মহাসাগরের জলের গভীরে শেষ হয়েছে. মঙ্গল গ্রহের দিকে পাঠানো মহাকাশ যান প্রয়োজনীয় আবক্র পথে বের হতে না পেরে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে দুমাসের বেশী সময় ধরে পাক খেয়েছে, যতদিন না শেষ অবধি পৃথিবীর উপরেই ভেঙে না পড়েছে.

    অপ্রমাণিত তথ্য অনুযায়ী, "ফোবোস – গ্রুন্তের" পতন ঘটেছে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে. পতনের স্থান ও কাল নিয়ে একই সঙ্গে অনেকগুলি মহাকাশ সংস্থা ধারণা প্রকাশ করে যাচ্ছিল: রসকসমস, নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা. এমনকি মহাকাশ গবেষক অপেশাদার লোকেরাও মহাকাশ যানের পড়ার জায়গা ও সময় নিয়ে নানা রকমের অঙ্ক কষেছেন ও সংবাদ মাধ্যমের নানা ধরনের জল্পনা কল্পনার ইন্ধন জুগিয়েছেন. শেষে দেখা গেল যে, রাশিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী সব থেকে সঠিক হয়েছে- তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল পতনের সময় ও হিসাব অনুযায়ী বর্গ ক্ষেত্র নির্ণয়ের. কিন্তু একেবারে নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে শুধু এখন কল্পনাই করা যেতে পারে. প্রথমতঃ, তা সভ্যতার কেন্দ্র থেকে বহু দূরে বলে, দ্বিতীয়তঃ, জানা নেই এই মহাকাশ যানের ভাঙা যন্ত্রাংশ বিশ্বে পৌঁছেছে নাকি তা পৃথিবীর বায়বীয় স্তরেই জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গিয়েছে. এই বিষয়ে মন্তব্য করে রসকসমস সংস্থার উপপ্রধান আনাতোলি শিলভ বলেছেন:

    "পৃথিবীর থেকে দশ কিলোমিটার উঁচুতে ব্রাজিলের এলাকার উপরে মহাকাশ যান পুড়তে শুরু করেছিল. এটা হিসেব করে পাওয়া জায়গা, এই সময়ে কেউই কোন মহাকাশ যান ভেঙে পড়তে দেখে নি, তাই সেটা সমর্থন যোগ্য কোন রকমের চোখে দেখা বা অন্য তথ্য পাওয়া যায় নি. যদি মাটি অবধি কিছু উড়েও আসে, তাহলে আমরা তার সম্বন্ধে প্রমাণ পাবো. যদি কিছুই খুঁজে না পাই, তাহলে নথিভুক্ত হবে যে, সমস্ত মহাকাশ যানই বায়বীয় স্তরেই জ্বলে গিয়েছে".

    স্বয়ংক্রিয় আন্তর্গ্রহ মহাকাশ যান ফোবোস- গ্রুন্ত তৈরী করা হয়েছিল মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখার জন্য, আর তা ছাড়া হয়েছিল বৈকানুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে ২০১১ সালের ৯ই নভেম্বর ভোর রাতে. রকেট পরিবাহক "জেনিথ – ২" এর দুটি স্তরই ঠিক করে কাজ করেছিল, কিন্তু তার পরের স্তরে প্রয়োজনীয় আবক্র কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইঞ্জিন শেষ অবধি তা মঙ্গলের দিকে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছিল. রসকসমসের ক্ষতির পরিমান হয়েছিল প্রায় পাঁচশো কোটি রুবল (১২ কোটি ৫০ লক্ষ ইউরো). এই প্রোগ্রাম কেন বাতিল হল, তা বিচার করে দেখবে বিশেষ কমিশন, যা রসকসমস সংস্থা সৃষ্টি করেছে. একই সময়ে অনেক বিশেষজ্ঞই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এই কমিশনের পক্ষে ঘটনার আসল কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে না. এই যান থেকে গতিবিধির খবর প্রায় পাওয়া যায় নি, আর ভাঙা টুকরো থেকে, তা যদি খুঁজেও পাওয়া সম্ভব হয়, কোন রকমের সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে কঠিন. যা ঘটেছে, তা নিয়ে বিচার করা সম্ভব শুধু পরোক্ষ তথ্য থেকেই, আর তাই যথেষ্ট হতে পারে.

    রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার জন্য বিগত সাল সত্যই এক অখুশী হওয়ার বছর হয়েছে: এক সঙ্গে পরপর অনেক গুলি বড় দূর্ঘটনা, যা রসকসমসের প্রাক্তন প্রধান আনাতোলি পের্মিনভের পদত্যাগের একটা কারণ হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, গাম্ভীর্য বজায় রেখে আশাবাদী হওয়ার মতো কারণ তাও রয়েছে. বিগত দশকের তুলনায় এক বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক উড়ানের সময়ে এটা হয়েছে, "মঙ্গল- ৫০০" অভিযানের পরীক্ষা সাফল্যের সঙ্গেই শেষ হয়েছে. এই বছরে উড়ানও কিছু কম হবে না – ৩৫টি. উড়ান শুরুর ক্ষেত্র হিসাবে সবচেয়ে বড় মহাকাশ ক্ষেত্র গুলি ব্যবহৃত হবে, যেমন প্লিসেত্স্ক ও বৈকানুর. তাছাড়া ফরাসী গায়ানার কুরু উড়ান ক্ষেত্র থেকে "সইউজ" মহাকাশ যান ছাড়া হবে, যা ইউরোপ ও রাশিয়ার সম্মিলিত প্রয়াসের অংশ.