১৫ই মার্চ ২০১১ থেকে ১৫ই মার্চ ২০১২ অবধি দেশে নানা ধরনের আইন ভঙ্গের ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তাদের সকলকে দামাস্কাস গণ অব্যাহতি দিয়েছে. এই পদক্ষেপ সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধানের সূত্র হিসাবে আরব লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া পথ নির্দেশের একটি ভিত্তি মূলক দাবী ছিল. প্রসঙ্গতঃ, এই দাবী মেনে নেওয়াও আরব লীগের কিছু সদস্যের জন্য সিরিয়াতে আরব লীগের সেনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার পথে বাধা হয় নি.

আরব লীগের সভা নিজেদের বৈঠকে আরব সেনা বাহিনী অনুপ্রবেশের বিষয় নিয়ে ধারণার সম্বন্ধে আলোচনা হতে পারে. সেই ভাবেই লীগ কাতারের এমির শেখ হামাদ বেন খলিফা আল- তানি কর্তৃক পেশ করা প্রস্তাবে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. সিরিয়ার নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের নেতৃত্বের প্রস্তাব অনেকটাই অদ্ভূত ঠেকেছে, এই কথা মনে করে সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকট প্রাচ্য নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক গুমের ইসায়েভ বলেছেন:

"একটু কল্পনা করে দেখুন, অনেক লোককে অব্যাহতি দেওয়ার মানে কি, যাদের মধ্যে সত্যই সেই সব লোকের রয়েছে, যারা দেশের আইন ভঙ্গ করেছে, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম করেছে. প্রশাসন চেষ্টা করছে, কোন না কোন ভাবে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে, আর তাকে তা করতে দেওয়াই হচ্ছে না, এটা এই সব ঘটনার মধ্যেই, যখন আমরা প্রত্যেক দিন শুনতে পাচ্ছি সন্ত্রাসের কাণ্ডের কথা, শহর গুলিতে বিস্ফোরণের কথা. দেখা যাচ্ছে যে, কিছু লীগের সদস্যের কাছে এটাও চলছে না, আর তারা সিরিয়ার জন্য একেবারেই ভাবা যায় না এমন সব ব্যাপার, প্রস্তাব করছে – সেনা অনুপ্রবেশের প্রস্তাব".

১৯শে জানুয়ারী পর্যবেক্ষক দলের লোকেরা লীগের দেশ গুলির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানদের সামনে তাদের কাজের ফলাফল নিয়ে রিপোর্ট পেশ করবেন. এখন অবধি সামগ্রিক ভাবে পর্যবেক্ষক দলের লোকেদের জন্য সিরিয়ার সরকারের কাজকর্ম যথেষ্ট ভাল মূল্যায়নই পেয়েছে. আর এটাই হয়েছে সমস্যার বিষয়, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব ও ঐস্লামিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার ফিলোনিক বলেছেন:

"আরব দেশ গুলি দেখা যাচ্ছে বোধহয়, একটা দিকশূণ্যতায় ভুগছে, তারা জানে না, কি করতে হবে. লীগের মিশনের প্রতিনিধিরা আসাদের প্রশাসন নিয়ে ভাল মূল্যায়ণ করেছে ও আস্থা প্রকাশ করেছে যে, সিরিয়ার নামে এমন সব কাজের কথা বলা হচ্ছে, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না. যদি ১৯শে জানুয়ারী তারা লীগের পর্যালোচনার জন্য কোন রিপোর্ট দেয়, তাহলে এটা তাদের সিরিয়াতে থাকার শেষ পর্যায় হয়ে দাঁড়াবে. সেই উত্তেজনার কথা বিচার করলে, যা আজ সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে করা হচ্ছে, তাহলে মনে হয় খুব সম্ভবতঃ যে, এই মিশন ততদিন অবধি সিরিয়াতে বসে থাকবে, যতদিন না কোন বাস্তব তথ্য জোগাড় করা যায় যা দিয়ে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করা সম্ভব".

মস্কো নিজের পক্ষ থেকে দামাস্কাসের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দী মুক্তির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে. আগের মতই, রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে সিরিয়ার এই বিরোধের যে কোন পক্ষ থেকেই হিংসা বন্ধ করার কথা ও সিরিয়াতে সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা নিয়ে প্রয়োজনীয়তার কথা.

এরই মধ্যে সিরিয়ার লোকেরা তাদের রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সমর্থনে দশ কিলোমিটার লম্বা এক চিঠিতে স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযান শুরু করেছে. সক্রিয় কর্মীরা ঘোষণা করেছে যে, এটা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ জন্মভূমি ও তার নেতার উদ্দেশ্যে লেখা আস্থা প্রকাশের বার্তা আর তা দেশের সমস্ত রাজ্য দিয়েই নিয়ে যাওয়া হবে. তাদের কথামতো, এই কাজের উদ্দেশ্য – দেশের বিরুদ্ধে বিদেশী চক্রান্তকে হতে না দেওয়া.