বিজ্ঞানীরা মনে করেন যেসব লোকেদের সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট ও অনলাইন- চ্যাট ছাড়া জীবন বেকার মনে হয়, তাদের মগজে মদ্যপ ও নেশাখোরদের মতই প্রক্রিয়া চলে. সবচেয়ে কঠিন ধরনের নির্ভরতা বা নেশা স্মার্টফোনের মালিকদের – তাদের ভুতুড়ে কম্পণের অনুভূতি হয়ে থাকে.

ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, আপনি একটানা টেনশন করছেন অনেক ফোন কল আর এসএমএস আপনার টেলিফোনে আসছে বলে? তাহলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আপনি এখনও সমাজের কাছে বাতিল হয়ে যান নি. সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল, এটা যখন ঠিক উল্টো, কোন মেসেজ নেই, আর আপনাকে এটা উত্যক্ত করে তুলছে.

ওয়রচেস্টার ইউনিভার্সিটির মনস্তত্ত্ববিদরা, যেটা ইংল্যান্ডে আছে, তারা একটা চিত্তাকর্ষক গবেষণা করেছেন. কয়েকশো স্বেচ্ছায় রাজী হওয়া লোককে তারা জিজ্ঞেস করে দেখেছেন – তাদের মধ্যে ছাত্ররা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সেলসম্যান ও কোম্পানীর মাথারা, তারা যারা আইফোন বা ব্ল্যাকবেরী ব্যবহার করেন. বোঝা গিয়েছে: তারা সর্বক্ষণ চাপের মধ্যে রয়েছেন. নিয়মিত ইমেইল চেক করছেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে স্ট্যাটাস পাল্টাচ্ছেন ও কাজ নিয়ে নানাখবর পড়ে দেখছেন. তারা যারা এটা প্রত্যেক মিনিটেই করছেন, তাদের চাপ সবচেয়ে বেশী করে ভয়ঙ্কর বলে লক্ষ্য করা যায় – তারা ভুতুড়ে ভাইব্রেশন টের পেতে থাকেন – তাদের মনে হয়যে, টেলিফোন তাদের পকেটের ভেতরে ভাইব্রেট করছে, যেন কোন মেসেজ এসেছে.

গবেষকদের প্রধান রিচার্ড বোল্ডিং উল্লেখ করেছেন: কোন কোম্পানী মনে তো হয় না যে খুব উন্নতি করবে, যদি তাদের কর্মচারীরা একটানা চাপের মধ্যে থাকেন, তাই কর্মদাতাদের দিক থেকে কর্মচারীদের সেল ফোন কিছু সময় বন্ধ করে রাখার জন্যই উত্সাহিত করার ব্যবস্থা করা উচিত্.

ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের সমর্থনে চিনের বিজ্ঞানীরাও কথা বলেছেন. তারা প্রমাণ পেয়েছেন: ইন্টারনেট – নেশা মদের বা মাদক দ্রব্যের নেশার মতই. মানুষের মগজে, যে এক ঘন্টার বেশী অনলাইন থাকতে না পারলে ক্ষেপে যায়, তার মাথার ভেতরেও সেই সব প্রক্রিয়া চলে, যা হয়ে থাকে, যারা কোকেইন শোঁকে তাদের মতই. একটানা নেশার বস্তুর দরকার হয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ এটা এমনকি শরীরের অবস্থাতেও বোঝা যায়. যদি স্মার্টফোনের ব্যাটারী ফুরিয়ে যায়, তবে সেই লোকের শরীরে কাঁপুনি হতে থাকে, তার মাথায় সব উদ্ভট ধারণা আসতে থাকে, এমনকি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে হাতের আঙ্গুল গুলোও চলতে থাকে – যেন সে একটানা মেসেজ লিখছে. কিছু তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক দশম ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীই সত্যিকারের নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে. এই ধরনের মানসিক রোগ সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ্য করা যায়. এই সব লোকেরা মনিটরের ভিতরের বা উল্টো দিকের ব্যাপার স্যাপার নিয়ে এত মগ্ন হয়ে যায়, যে তারা নাওয়া খাওয়ার কথাই ভুলে যায়, সারা দিন এমনকি এক গ্লাস জল না খেয়েও কাটিয়ে দিতে পারে. চিনের বিজ্ঞানীরা মনে করেছেন এই ইন্টারনেট নেশাকে অনেক আগেই আলাদা মানসিক রোগ বলে চিহ্নিত করা উচিত্ ছিল. আর লোকেদের এর জন্য চিকিত্সার প্রস্তাব করাও জরুরী.

ব্রিটেনে কিছুদিন হল বিনা মূল্যের এক ক্লিনিক খোলা হয়েছে, যেখানে ইন্টারনেটের নেশা সারানো হয়ে থাকে. ডাক্তারদের কথামতো বেশীর ভাগ সময়েই তাঁদের কাছে আসেন ইন্টারনেটের খেলোয়াড়েরা, যাদের গেইমার বলা হয়. লোকেরা যারা এই রকমের ইন্টারনেটে খেলা নিয়ে এত বেশী মত্ত ছিল যে, বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগই হারিয়ে ফেলেছে – পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে অথবা এমনকি ডিভোর্স করে বসেছে, যাতে কোন কিছুই তাদের খেলার সময়ে অসুবিধার সৃষ্টি না করে. এই সব রোগীদের চেনা খুব সহজ – এরা একেবারে হা ক্লান্ত হয়ে যায়, কিন্তু রাতভর খেলার নেশা ছাড়তেই পারে না.