মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনকে অর্থনৈতিক ভাবে বেঁধে রাখার জন্য রাজনীতি কঠোর করছে. রাষ্ট্রপতি ওবামার নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনের ভিতরে কার্যকরী পরিষদ তৈরী করা হবে চিনের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ও অন্য যো কোন ধরনের নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও রোধ করার জন্য, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থহাণী করতে সক্ষম. প্রভাব শালী ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, এই নতুন পরিষদে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্লকের প্রধান প্রতিনিধিরা – অর্থ বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানী শক্তি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা থেকে যোগ দেবেন.

    চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঋণ দাতা. আমেরিকা- ইউরোপীয় সঙ্ঘের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনে তৈরী জিনিষ পত্রের ক্রেতা. গত বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান ৪৪হাজার সাতশো কোটি ডলার অবধি হয়েছে. এটা রেকর্ড ফল, যা প্রায় শতকরা ১৬ভাগ ২০১০ সালের সূচকের চেয়ে বেশী. আর দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য আপাততঃ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি চিনের সঙ্গে বর্তমানে ৩০হাজার কোটি ডলারের কাছে পৌঁছেছে ও তা বেড়েই চলেছে.

    চিন যে পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সর্ব শক্তিমান আমেরিকাকে হারিয়ে দিতে পারে, তা ওয়াশিংটনের জন্য খুবই অপ্রিয় আবিষ্কার ও সত্যিকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে, - এই মন্তব্য করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের চিন সংক্রান্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই অস্ত্রোভস্কি বলেছেন:

    "২০০১ সালে চিনের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের উত্পাদকদের জন্য নিজেদের বাজারের দরজা খুলতে বাধ্য হয়েছিল, আর তখনই পরিস্কার হয়ে গেল যে, চিনের জিনিস, আবার তার মধ্যে বেশী করে বাড়তি মূল্য যোগ করা দ্রব্য আমেরিকার বাজারে নতুন পরিস্থিতিতে খুবই প্রতিযোগিতার উপযুক্ত হয়েছে. চিন থেকে আমদানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকায় হঠাত্ করেই বেড়ে গিয়েছিল. একই সময়ে আমেরিকা থেকে চিনে রপ্তানী খুব একটা বাড়ে নি – মুখ্য কারণ এই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিনের সম্পর্কে নেওয়া উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত দ্রব্য রপ্তানী সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা. কিন্তু এটা আমেরিকার লোকেদের জন্য কোন বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় নি, যাতে তারা চিন তাদের কাজের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে ও আমেরিকার কোম্পানীদের তাদের নিজেদের দেশের বাজার থেকে ঠেলে বের করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করার".

    এখন ওবামার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিনের তরফ থেকে বাণিজ্য সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও রোধ করার পরিষদ তৈরী হলে – এটা আসলে হবে আমেরিকার শিল্প পতি ও তাদের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে লবি করা লোকেদের জন্য একটা বিশেষ সুবিধা করে দেওয়া, যারা হোয়াইট হাউসের কাছে দাবী করেছে এশিয়ার এই ড্রাগন কে খেলার নিয়ম অনুযায়ী খেলতে বাধ্য করতে. বোঝাই য়াচ্ছে যে, এখানে নিয়ম সেটাই হবে, যা ওয়াশিংটনে লিখে দেওয়া হবে.

    অর্থনৈতিক শক্তি একত্রিত করে চিন সারা বিশ্বেই অগ্রসর হচ্ছে. চিনের ব্যাঙ্ক গুলি থেকে আরও স্বেচ্ছায় এখন ঋণ নেওয়া হচ্ছে এমনকি বিশ্ব ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বদলে, কারণ তা আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. চিন অনেক দিন ধরেই এশিয়ার বাজার থেকে সমুদ্র পারের প্রতিযোগীকে বের করে দিয়েছে. চিনের বিনিয়োগ এর মধ্যেই নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকাতে রন্ধ্র বের করে ঢপকে পড়েছে. এমনকি আমেরিকার ঐতিহ্য মণ্ডিত লাতিন আমেরিকাতেও এখন আমেরিকা ও চিনের মূলধনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে. আর এই "বিনিয়োগের যুদ্ধে" "অমর চিন" বর্তমানে ব্রাজিলকে "জিতে নিয়েছে".

    চিনের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি করতে পারে? অবশ্যই আমেরিকার লোকেরা বুঝতে পারছে যে, খালি হাতে চিনকে আর পাকড়ানো যাবে না. আবার একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিনা যুদ্ধে বিশ্বের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবে না.