বিশ্ব জ্বালানী শক্তির প্রয়োজন নিয়ে ১৩০ টিরও বেশী দেশের প্রতিনিধিরা আবু ধাবি শহরে "বিশ্ব ভবিষ্যত শক্তি সম্মেলনে" আলোচনা করছেন. তার আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তি উত্স সংস্থার উদ্যোগে.

    চার দিনের মধ্যে (১৬ থেকে ১৯শে জানুয়ারী) এই সম্মেলনের ৮০০রও বেশী প্রতিনিধি "পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তি উত্স" বাজারের ভবিষ্যত নিয়ে সমীক্ষা করবেন ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে কথা বলবেন. জ্বালানী শক্তি ও পরিবেশের সমস্যা যা বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তনের পরে আরও তীব্র হয়েছে, আর তারই সঙ্গে "ফুকুসিমা" পারমানবিক কেন্দ্রের বিপর্যয় – সবচেয়ে তীক্ষ্ণ আলোচনার বিষয়. এটা সম্পূর্ণ ভাবেই পরম্পরাগত ভাবে হয়েছে বলে মনে করে জ্বালানী শক্তি উন্নয়ন তহবিলের ডিরেক্টর সের্গেই পিকিন বলেছেন:

    "পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী নতুন করে ব্যবহার যোগ্য শক্তির উত্সকে দখলে আনার জন্য প্রচেষ্টা করছে. তার সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে না যে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের কতটা এটা থেকে মেটানো সম্ভব হবে. "ফুকুসিমা" দূর্ঘটনার পর থেকে পারমানবিক শক্তির ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তা হয়েছে. কিছু দেশ পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করা থেকে অস্বীকার করলেও বহু দেশ এখনও এই শক্তিকেই একমাত্র উন্নত করার কথা ভাবছে. তাই একই সঙ্গে ঐতিহ্য অনুযায়ী ব্যবহৃত ও নতুন শক্তির উত্স নিয়ে আলোচনা সময়োচিত ভাবেই হচ্ছে. এখানে দেখার বিষয় হবে এই ধরনের উত্স গুলির মধ্যে বাস্তবে কতটা ব্যবহার যোগ্য. তার কারণ অর্থনৈতিক সঙ্কট চললেও সারা বিশ্বেই প্রতি বছরের সঙ্গে শক্তির ব্যবহার শুধু বাড়ছে".

    আবু ধাবি সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন যে, তাঁরা মনে করেন সরকার গুলিকে আজই নতুন শক্তির উত্স সন্ধানে উন্নতি করার জন্য নীতিগত ভাবে প্রাধান্য দিতে হবে, যাতে কয়েক বছর পরে সেগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে. এটা আজকের দিনের প্রশ্ন এই বিষয়ে আস্থা নিয়ে বিকল্প শক্তির উত্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন দিয়েস্পেরভ বলেছেন:

    "আমরা সকলেই কার্বন যৌগের অর্থনীতিতে বেঁচে রয়েছি, কিন্তু তার ফলপ্রসূ হওয়া সময়ের সঙ্গে কমে যাচ্ছে. আগে থেকে সন্ধান করা ভাণ্ডার সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, নতুন ধরনের উত্স থেকে শক্তি পাওয়ার জন্য অনেক বেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন. সুতরাং খনিজ নিষ্কাশন ও তা পরিশোধনের শিল্পে লাভের পরিমান কমে আসছে. কার্বন যৌগের অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেওয়ার মতো উত্স সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত এখনও কোথাও নেই. একই সঙ্গে জৈব উত্স থেকে বেশ কিছু মূল্যবান দ্রব্য পাওয়ার মতো প্রযুক্তি উদ্ভব হয়েছে. আবু ধাবি শহরের সম্মেলন তাই অর্থবহ হবে, যদি খাদ্য নয় এমন জৈব উত্স থেকে শক্তি পাওয়ার প্রযুক্তি ফলপ্রসূ হতে পারে দেখতে পাওয়া যায়".

    রাশিয়ার জন্য বিপুল পরিমানে খনিজ তেল ও গ্যাসের নির্দিষ্ট সঞ্চয় থাকায় এই সমস্যা বর্তমানে তত বাস্তব না হলেও বেশ কিছু বছর আগেই এই বিষয়ে লক্ষ্য করা হয়েছে ও সক্রিয়ভাবে কাজ করা হচ্ছে. এই বিষয়ে সের্গেই পিকিন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন. তাঁর মতে, রাশিয়া এই ধরনের সমস্যা নিয়ে কাজ করছে যদিও অনেকটাই আলাদা বিষয়ে প্রকল্প তৈরী করে, তাও এই ধরনের সম্মেলনে আমাদের অংশগ্রহণ এই কারণে লাভজনক যে, তা আমাদের সুবিধা করে দেয় কি করে এই প্রকল্প ও নতুন প্রযুক্তি নাগরিক জীবনে কাজে আসছে. জ্বালানী শক্তি সম্বন্ধে দায়িত্ব প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় দপ্তর ও মন্ত্রীসভার নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে যেন এই বিষয়ে করা হয়, তাই আশা করি. এটা সেই দিকেই নিয়ে যাবে, যাতে রাশিয়াতেও এই বিষয়ে কাজ করার জন্য উত্সাহ দেওয়া হয়, যা শুধু চলে আসা শক্তি উত্সকেই নয়, বরং নানা রকমের পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তির উত্স সংক্রান্ত প্রযুক্তিকেও উন্নত করবে.

    রাশিয়ার আন্তর্জাতিক পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তি উত্স সংস্থায় যোগদান এই সমস্ত ধরনের কাজের আয়োজনের জন্য পথ কুলে ধরবে. এটা এখন এই সংস্থার সাধারন সভাতে আলোচনা করা হচ্ছে. পরিকল্পনা হয়েছে এই সংস্থাকে আরও প্রসারিত করে চিন ও ব্রাজিলকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে. এই সম্মেলনে বেসরকারি ব্রিকস সংস্থার এই তিনটি দেশের প্রচুর ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে ব্যতিক্রমী শক্তির উত্স খোঁজার জন্য ও উদ্ভাবনী মূলক "সবুজ" প্রযুক্তি বিষয়ে উন্নয়নের জন্য.