www.putin2012.ru – সাইট ও "ইজভেস্তিয়া" সংবাদপত্র প্রকাশিত প্রবন্ধে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে ভ্লাদিমির পুতিন দেশের উন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে সমগ্র রুশ সমাজকে আলোচনায় আহ্বান করেছেন. প্রবন্ধে পুতিন ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছেন ও সেই সমস্ত বিষয় গুলি উত্থাপন করেছেন, যা তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনায় রাখা হতে চলেছে, আর একই সঙ্গে নাগরিক সমাজকে আরও কড়া ভাবে রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন.

ইতিহাসে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি হওয়া রুশ সমস্যা, প্রধানমন্ত্রীর মতে, - এটা দেশের এক নেতৃস্থানীয় অংশের তরফ থেকে পরম্পরা মেনে উন্নয়নের বদলে বিপ্লবের আহ্বান. একই সঙ্গে শুধু রাশিয়াতেই নয়, বরং সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতাই দেখিয়েছে ঐতিহাসিক ঝাঁকুনি দিয়ে এগিয়ে চলা ও সৃষ্টির বদলে টেনে নামানোর আত্মঘাতী পরিনাম. প্রসঙ্গতঃ প্রত্যেক সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেই "যারা টেনে নামিয়েছে", তারাই আক্ষরিক অর্থেই দেখতে গেলে "মালিক" শ্রেনীতে রূপান্তরিত হয়েছে, যারা নিজেরাই যে কোন ধরনের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ও খুবই ঈর্ষা কাতর ভাবে নিজেদের মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি সুরক্ষায় ব্যস্ত. এখান থেকেই – বর্তমানের ক্ষমতা রক্ষার প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক বাধ্য বাধকতার উত্পত্তি অথবা তা পুনর্বন্টনের প্রশ্ন.

এই ধরনের পরিস্থিতি ঐতিহ্য মেনেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে সমাজের দিক থেকে দুর্বলতার উদ্ভব ঘটিয়েছে ও রাশিয়াতে নাগরিক সমাজের অনুন্নতির কারণ হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতির বদল ঘটেছে. রাশিয়াতে গত ১০ বছরে যথেষ্ট পরিমানে সমাজে মানুষের স্তর সৃষ্টি হয়েছে, যাদের পশ্চিমে মধ্যবিত্ত শ্রেনী বলে নির্ণয় করা হয়. এরা সেই সমস্ত লোক যাদের আয় তাদের যথেষ্ট বিস্তৃত ক্ষেত্রে সুযোগ দিয়েছে ক্রয় ও বিশ্রামের জায়গা নির্ণয় করার জন্য নির্বাচনের. তারা কাজ বেছে নিতে পারেন, যা তাদের পছন্দ. সর্ব শেষে এই ধরনের লোকেরা রাজনীতিও বাছতে পারেন, কারণ তাদের পড়াশোনার মান প্রার্থীদের প্রতি সজ্ঞানে সম্পর্ক নিরুপণে সুবিধা করে দেয়.

ভ্লাদিমির পুতিন লিখছেন যে, বিশ্ব বর্তমানে উন্নতির নতুন এক অধ্যায়ে রয়েছে. সেই অর্থনৈতিক কাঠামো, যা ঋণ গ্রহণের মাত্রাকে বন্ধন মুক্ত করে দিয়েছিল, ভবিষ্যতের সঞ্চয়কে বর্তমানেই ঋণের মাধ্যমে শেষ করতে দিচ্ছিল, তা এখন কানা গলিতে পৌঁছেছে. "অন্যের কুঁজে" ভর দিয়ে রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির দিন শেষ হতে চলেছে. রাশিয়া এটা অনেকের আগেই বুঝতে পেরেছিল. এই দেশ কোন "শূণ্য চুষি কাঠির খেলায়" মাতে নি. ৯০ এর দশকে দেশ সত্যিকারের পতনের ধাক্কা টের পেয়েছিল, সামাজিক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল, - তাও টিকে থাকতে পেরেছিল. এখন সোভিয়েত পরবর্তী যুগের উন্নতির অধ্যায় শেষ হয়েছে. উন্নতির জন্য সমস্ত রকমের শর্তই তৈরী করা হয়েছে – নতুন ভিত্তির উপরে ভর করে ও নতুন গুণমান সম্পন্ন করেই তা হয়েছে বলে ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন. ব্যবহারিক রাজনীতি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ওলগা ক্রীশ্তানোভস্কায়া ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

    "সত্যই সোভিয়েত পরবর্তী অধ্যায়ের উন্নতি যেমন আমাদের দেশে, তেমনই পারিপার্শ্বিক দেশ গুলিতে শেষ হয়েছে. এমনকি রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে বিচার করলেই তা বোঝা সম্ভব: কত কম সংখ্যক লোক রয়েছেন, যারা কোন না কোন ভাবে সোভিয়েত শাসনের বছরগুলির সময়ের ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন. নতুন প্রজন্ম আসছে. তারা অন্যভাবে বিশ্বকে দেখে ও শুধু বই থেকেই জানে, সোভিয়েত দেশ কি ছিল. সম্ভাবনা এসেছে সোভিয়েত অভিজ্ঞতাকে শুধু উত্তপ্ত হৃদয়ের বদলে ঠাণ্ডা মাথা দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখার. আর তার থেকে সেই সব ভাল ব্যাপার আলাদা করে নেওয়ার, যা তখন করা হয়েছিল. যদি একটা সময় ছিল, যখন চারপাশে পাথর ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল, তবে আজ সময় এসেছে সেই সব পাথর কুড়িয়ে জমা করার – নতুন সমাকলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা পুতিন নেতৃত্ব দিতে সক্ষম".

    ২০১২ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচনের লড়াইতে নেমে ভ্লাদিমির পুতিন এক সহজ বাস্তবের উপরে নির্ভর করেছেন. যখন তিনি তাঁর সঙ্গে একই রকম ভাবে চিন্তা করা লোকেদের সঙ্গে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল রাশিয়াকে গৃহযুদ্ধের কানাগলি থেকে বের করে আনার, সন্ত্রাসবাদের পাঁজর ভেঙে দেওয়ার, দেশের সীমান্ত রক্ষা করে দেশকে একত্রিত করে রাখার ও সাংবিধানিক নিয়ম পুনর্স্থাপন করার, অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করার ও বিশ্বের একটি অন্যতম দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতিতে পরিনত করার এবং নাগরিকদের সত্যিকারের আয় বাড়ানোর. আজ ভ্লাদিমির পুতিন দেখতে পাচ্ছেন, আগে কি সফল ভাবে করা হয়েছে, কি ফলপ্রসূ ভাবে কাজ করেছে. আর, তার উল্টোটাও – কি সংশোধন করা দরকার, কি ধরনের বিষয় থেকে সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করার দরকার. খুবই শীঘ্র প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন সামাজিক আলোচনার উদ্দেশ্য নিজের এই সমস্ত বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট ধারণা জনসমক্ষে উপস্থিতি করার.