পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মন্তব্য করেছেন যে, রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে চিতাবাঘের সংখ্যা বাড়ছে. প্রিমোরস্ক প্রান্তরাজ্যে যেখানে “চিতাবাঘের জায়গা” নামের সংরক্ষিত অরণ্য বানানো হয়েছে, সেখানে একটা “বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার” বিশেষজ্ঞদের লাগানো স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাতে একটা নতুন চিতাবাঘকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে. কোথা থেকে এই নতুন গায়ে ছোপ দাগ ওয়ালা অতিথি উপস্থিত হয়েছে, তা এখনও ঠিক করতে বাকি. কিন্তু আপাততঃ একটা ব্যাপার পরিস্কার বুঝতে পারা যাচ্ছে: হারিয়ে যেতে বসা প্রাণীর সংখ্যা সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় ফল মিলেছে.

       সুদূর প্রাচ্য বা আমুর অঞ্চলের চিতাবাঘ – বিশ্বের এক বিরল ধরনের বন বেড়াল. সারা বিশ্বে এর সংখ্যা ৪৫টির বেশী নয়. তাদের থাকার জায়গা খুবই সীমিত. এই ধরনের চিতাবাঘ রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে তাইগা অঞ্চলের পাহাড়ী অরণ্যের দূর্গম এলাকায়, চিনের উত্তর পূর্বে ও কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়.

       এই ধরনের বুদ্ধিমান, রাজকীয়, অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর কিন্তু খুবই গোপনীয় হয়ে থাকতে চাওয়া প্রাণীকে লক্ষ্যের মধ্যে রাখা খুব সহজ কাজ নয়. প্রিমোরস্ক অঞ্চলের সংরক্ষিত বনে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে. ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে দেখতে পাওয়ার জন্য আজ বনকর্মীরা তাঁদের সমস্ত চিতাবাঘকেই “আলাদা” করে চিনতে পারেন.

       নভেম্বর মাসে একটি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার লেন্সে এই এলাকায় আগে না দেখা একটি চিতা বাঘ ধরা পড়েছে. ফোটোতে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, প্রাণীটি তার শরীরের বাঁ দিকে খুবই আলাদা রকমের “চিত্রলিপি”. এই এলাকায় অনেকদিন ধরেই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে একটা পুর্নবয়স্ক চিতাবাঘ, যাকে “মোটা” নামে ডাকা হয়ে থাকে, আর একটা বাঘিনী. গরমকালে সেটা ছিল একেবারেই একটু বড় বেড়ালের মতো. কিন্তু এই বাঘ দুটির গায়ের ডোরার সঙ্গে এবারে যে বাঘের ছবি পাওয়া গিয়েছে, তার কোন মিলই নেই.

       জানা আছে যে, চিতাবাঘ আলাদা করা হয় তাদের গায়ের ছোপের আকার ও সেই সব ছোপ কি রকম ভাবে দল বেঁধে রয়েছে তা দেখে. তা দেখলে নক্ষত্র মণ্ডলের কথা মনে হয়. যদি স্পষ্ট ছবি দেখতে পাওয়া যায়, তবে একটা চিতাবাঘকে অন্যটা থেকে আলাদা করতে পারা যায় অনায়াসে. এখন আবার হাতের আঙ্গুলের ছাপ নির্ণয় করার মতো প্রোগ্রাম তৈরী করা হয়েছে, যা দিয়ে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই চিতাবাঘদের গায়ের দাগ দেখে আলাদা করা সম্ভব হয়.

       সংরক্ষিত অরণ্যে নতুন চিতাবাঘের উদয় হওয়াকে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করছেন এই ভাবে যে, এখানে জন্তুরা নিজেদের নিরাপদ বলে বুঝতে পারে. “চিতাবাঘের জায়গা” নামের জাতীয় সংরক্ষিত অরণ্য তৈরী করার পরে এই এলাকা অনেক বেড়েছে. এই বিশাল প্রকল্পে এমনকি রুশ- চিন রাষ্ট্রীয় সীমান্তকে নতুন করে তৈরী করার ব্যবস্থা হয়েছে.

       বিশেষজ্ঞদের জন্য শীত ও বসন্তের শুরু – সবচেয়ে সেরা সময় বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম করার জন্য. গাছের ডালপালা ভিডিও ক্যামেরার সাহায্যে লক্ষ্য করার কাজের অসুবিধা করে না, আর বরফের ওপরে পায়ের ছাপ সহজেই লক্ষ্য করা সম্ভব হয়. রাশিয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আশা করেছেন যে, সুদূর প্রাচ্যের জঙ্গলে চিতাবাঘের সংখ্যা বাড়বে, আর এই বিরল বন বিড়ালদের জীবনের সম্বন্ধে ফোটো সিরিজ জানতে সাহায্য করবে.