সারা বিশ্বেই নানা রকমের চরম বিপজ্জনক খেলা বর্তমানে জনপ্রিয় হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ লোকে এখন সমস্ত কিছুতেই এমনকি এই ধরনের ব্যাপারের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়, এমন সমস্ত জায়গায় তীব্র অনুভূতির খোঁজে হাজির হচ্ছে. এই তো এই বারে রুশ এক অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিতে চাওয়া লোক প্যারাশুট নিয়ে না লাফিয়ে, স্নো বোর্ড নিয়ে পাহাড় থেকে না নেমে বা পাহাড়ের মাথায় চড়তে না গিয়ে, চড়তে গিয়েছিল অন্য একটা চূড়া - একটা ট্রেনের কামরা.

       নিজের পরীক্ষার জন্য সে রাশিয়ার প্রথম সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন “সাপসানকে” বেছে নিয়েছিল. এই ট্রেন ঘন্টায় আড়াইশো কিলোমিটার অবধি গতিতে ছোটে. ট্রেনটা যাচ্ছিল মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ. মস্কো থেকে ট্রেনটা ছাড়ার ঠিক আগে আগে এই চরম অনুভূতির অনুসন্ধানী লোকটি সময় বেঠে বার করে নিয়েছিল. আর, যখন কেউ লক্ষ্য করে উঠতে পারে নি, তখন দুটো কামরার মাঝখানে নিজে সেঁটে গিয়েছিল. “সাপসান” ট্রেনে ও প্যাল্টফর্মের অন্যদিক থেকে উঠেছিল, যেদিকে রেল লাইন, আর পুলিশের নিরাপত্তা কর্মী ও রেলের গার্ডরা কেউই ছিলেন না. তার পিঠে ছিল একটা কোমরে বাঁধার জন্য শক্ত দড়িভরা ব্যাগ. আর মাথায় ছিল একটা ভিডিও ক্যামেরা লাগানো হেলমেট.

       ট্রেনের গতি বেড়ে যখন ঘন্টায় দুশো কিলোমিটার হয়েছিল, তখন সে ট্রেনের মাথায় চড়েছিল. নিজে দড়ি দিয়ে দুটো কামরার মাঝখানে ঝুলে থেকে যাত্রাপথে বাইরে থেকে কামরার মধ্যে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখছিল, ভেতরের যাত্রীদের. কিন্তু পিটার্সবার্গ অবধি এই যুবকের যাওয়া আর হয়ে ওঠে নি, এই কারণে অবস্য নয় যে, সে পড়ে গিয়েছিল, কারণ হয়েছিল যে নিরাপত্তা কর্মীদের চোখে সে ধরা পড়ে গিয়েছিল. তারা ট্রেন থামাতে বাধ্য হয়েছিলেন যাতে এই দুরন্তকে ট্রেনের ওপর থেকে নামানো যায়.

       কিন্তু তাকে ধরা যায় নি. মস্কো উপকণ্ঠের এক স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে, যেখানে ট্রেনটাকে থামানো হয়েছিল, সেখানের অল্প কিছু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা লোকেরা দেখতে পেয়েছিল দ্রুত পলায়নরত এক যুবককে. সেই ওয়াগনের গার্ড, যেটার মাথায় চড়ে এই ছোকরা যাচ্ছিল, যে খুব জোরে চীত্কার করতে শুরু করেছিল, তাতে সেই ছেলে এত দ্রুত দৌড়ে পালাতে শুরু করেছিল যে, সবাই মিলে ঠিক করা হয় যে তার পেছনে দৌড়ে কোন লাভ হবে না, সে ততক্ষণে পগার পার হয়ে যাবে.

       ট্রেনের মাথায় দড়ি দিয়ে নিজেকে বেঁধে ঝুলে যাওয়ার পরে এই  যুবক নিজের এই অ্যাডভেঞ্চারের ভিডিও ইউটিউব সাইটে রেখেছিল, অবশ্য সে সকলকেই তার এই চালাকি আবার করার চেষ্টা করতে বারণ করেছে. এই ভিডিও নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সে স্বীকার করেছে যে, এই যাত্রার বিভিন্ন বিশেষ সময়ে সে স্রেফ ভাগ্যের জোরে পার পেয়ে গিয়েছে.

       এখানে উল্লেখ করার মতো হল যে, সেই যুবক, যে “সাপসান” ট্রেনের মাথায় চড়ে বসেছিল, সে মোটেও প্রথমবার ট্রেনের মাথায় চড়া লোক নয়. তারই ইউটিউবের ভিডিও ব্লগে দেখতে পাওয়া যায় যে, সে এই ধরনের “যাত্রা” আগেও করেছে মেট্রোর কামরার মাথায় চড়ে, মালগাড়ীর মাথায় চড়ে. তার কোন ভিডিওতেই তার মুখ দেখতে পাওয়া যায় না. তার একটাই কারণ যে, সে তার ক্যামেরা হেলমেটে বা কান ঢাকা টুপিতে লাগিয়ে মাথায় পরে নেয়. তাই সাক্ষী না পেলে এই দুরন্ত পাজীকে ধরা সম্ভব হবে না.