২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে রাশিয়াতে বিয়ের জন্য ৭১ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে. ঠিক এতটা সময়ই বিবাহেচ্ছু মহিলা ও পুরুষটির বিয়ে করার জন্য নির্দিষ্ট ভবনে কাটানো উচিত্, যেখানে দেশের আইন মেনে সরকারি ভাবে তাদের বন্ধনকে স্বীকৃতী দেওয়া হয়ে থাকে. এই ধরনের একটা সময় নির্ঘন্ট তৈরী করেছে রাশিয়ার আইন মন্ত্রক.

       রাশিয়াতে সরকারি ভাবে সেই বিয়ে করাকেই স্বীকৃতী দেওয়া হয়ে থাকে, যা এর জন্য ঠিক করে দেওয়া সরকারি দপ্তরে নথিভুক্ত করা হয়. কিন্তু সব সময়েই এই রকম ছিল না. সোভিয়েত প্রশাসন দেশে বহাল হওয়ার আগে অর্থাত্ ১৯১৭ সালের আগে বিয়ে করানো ও লোকেদের দেওয়ানি অবস্থার আইনত প্রথা রক্ষার দায়িত্ব ছিল গির্জার হাতে.

       বিভিন্ন ধর্মীয় মতের মানুষ, তাদের ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী বিভিন্ন আইনের আওতায় ছিলেন. ভিন্ন ধর্মের মানুষের বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ত দেশের সরকারের উচ্চপদস্থ লোকেদের ও নিজেদের সেই সমস্ত ধর্ম গুলির প্রধান ধর্মীয় সংস্থা থেকে বিশেষ অনুমোদনের. বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নব বিবাহিতদের একই ধর্ম গ্রহণ করতে হত.

       বিপ্লবের পরে ১৯১৭ সালে, যে সময়ে রাশিয়াতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো হয়েছিল, তখন শুরু হয়েছিল পারিবারিক আইন গ্রহণের নতুন অধ্যায়. রাশিয়ার সমস্ত মানুষের জন্যই একমাত্র নাগরিক জোটবন্ধনের উপায় হয়েছিল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সরকারি দপ্তরে বিবাহকে নথিভুক্ত করা. ধর্মীয় সংস্থায় করা বিবাহকে আর কোন রকমের আইন সঙ্গত ও পরবর্তীতে উল্লেখ যোগ্য অধিকার দেওয়া হয় নি.

       পরবর্তী কালে সোভিয়েত দেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহ নথিভুক্ত করণের প্রথা চালু হয়. বিয়ের আগে বর ও কনে, তাদের বাড়ীর লোকজন, আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে আসেন বিয়ের ভবনে, উত্সব উপযুক্ত কক্ষে তাদের ফোটো তোলা শেষ হলে তারা বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট হলঘরে আসেন, সেখানে তাদের সম্ভাষণ জানান সরকারি রেজিস্ট্রি অফিসার. জার্মান সঙ্গীতকার ইয়াকব মেন্ডেলসনের বিয়ের প্যারেডের বাজনার সাথে আমলা একটি ভাষণ দেন ও বর ও কনের বিয়ের বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগত সম্মতি আছে কিনা জেনে নেন. এর পরে বর ও কনে আংটি বদল করেন ও উপস্থিত অতিথি ও অভ্যাগতদের কাছ থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন.

       তাদের সঙ্গে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের খাতায় স্বাক্ষর করেন সাক্ষীরাও. এটাও সোভিয়েত সময় থেকে চলে আসা আর একটি ঐতিহ্য. তখন বিয়েকে আইন সম্মত বলে মনে নেওয়ার জন্য বর, কনে ও সরকারি রেজিস্ট্রেশন আমলা ছাড়াও এই বিয়েতে নিঃস্বার্থ লোকেদের সইয়ের দরকার হত. বর্তমানে স্বাক্ষীদের সই অবশ্য প্রয়োজনীয় নয়, কিন্তু স্বাক্ষীরা প্রায় সমস্ত বিয়েতেই হাজির থাকেন. সাধারনত এই ভূমিকা নিয়ে থাকেন কনের সেরা বান্ধবী ও বরের সেরা বন্ধু.

0       নতুন বিয়ের নিয়ম নির্ঘন্ট অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ার জন্য ২০ মিনিটের বেশী সময় দেওয়া যাবে না. আর বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা রেজিস্ট্রি অফিস থেকে চলে যাওয়ার পরে বর কনে ও বাড়ীর লোকেরা যত খুশী বিয়ের জন্য অনুষ্ঠান করতেই পারেন.