মস্কো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ আরোপের সমালোচনা করছে এবং একই সাথে এই পরিস্থিতি তেহরানের ওপর সামরিক হামলার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলল।রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেনাদী গাতিলভ এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।একই সাথে মস্কো তেহরানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে।

ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শর্তাবলী উপেক্ষা করে নিজেদের পারমানবিক প্রকল্প উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।এছাড়া ইরানী কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনকে না মেনে ইরানের কুম শহরের কাছে  ইউরেনিয়াম পরিশোধনের কাজ চালিয়ে চাচ্ছে।একই সাথে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় জানিয়েছে,ইরান তাদের ওই ইউরেনিয়াম পরিশোধনের কারখানার কাজ আইএইএ’র শর্তানুযায়ি নাকি করছে এবং কারখানার সব যন্ত্রপাতি এই সংস্থার নিয়ন্ত্রানাধীন রয়েছে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের  বিশ্বাষ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করতে তৈরী আছে।এর জন্য তেহরানকে অবশ্যই আইএইএ’র সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং খুব দ্রুত পারমানবিক সমস্যা নিয়ে ছয় জাতির সাথে আলোচনা বৈঠকে বসতে হবে।

মস্কোর এই আহবান তেহরানসহ অন্যান্য রাষ্ট্রও শুনেছে।এদিকে তুরষ্ক সফররত ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার আলী লারিদজানি বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় বলেছেন,আলোচনা বসতে ইরান রাজী আছে।তিনি পুনরায় উল্লেখ করেছেন,ইরানে পারমানবিক প্রকল্প শুধুমাত্র শান্তিময় কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।ইরান ওই কোম শহরেই নাকি নিজেদের সামরিক শক্তির বৃদ্ধি ঘটাতে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করে যাচ্ছে ভেবে পশ্চিমা দেশগুলো সংশয় প্রকাশ করছে।যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেওন পানেটা স্বীকার করেছেন,বর্তমানে ইরানের তা নেই।অন্যদিকে ইরানের পারমানবিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলের হামলার সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি অব্যহত রাখছে।এদিকে ইরানকে মনস্তা্ত্বিক দিক দিয়ে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নতুন একটি সামরিক যুদ্ধ জাহাজ কার্ল ভিনসন ভারতীয় মহাসাগরে অবস্থান নিয়েছে।অন্যদিকে ইরান তাদের পক্ষ থেকে জানিয়েছে,শিঘ্রই তারা হরমুজ প্রণালীতে নতুনভাবে সামরিক মহড়া শুরু করবে।প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইরিনা ফেদওরোভা বলছেন,যুক্তরাষ্ট্র,ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইরান পিছনে ফিরে যাওয়ার পথ থেকে খুব নিকটে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশী।বলব,৫০ ভাগের মধ্যে ৫০ ভাগই।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া আক্রমনাত্বক বিবৃতি এই সংকটকে আরও অধিক ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে আমার মনে হচ্ছে যুদ্ধ হবে না।এই অঞ্চলের জন্য এবং সামগ্রিক অর্থে পুরো বিশ্বের জন্য এর কোন তাত্পর্য নেই।

একই ইনস্টিটিউটের অপর বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর সাটনিকোভও মনে করেন,পরিপূর্ণ কোন সামরিক সংঘাত অপেক্ষা করছে না।তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট সীমানা রয়েছে তা উভয় পক্ষই জানেন।সংগত কারণেই কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন করা শ্রেয়।যুক্তরাষ্ট্র বলছে,ইরানের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু তা স্বয়ং প্রসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্যও লাভজনক হবে না।আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই যুদ্ধ কোন ভাবেই ওবামার রেটিং বৃদ্ধি করবে না’।

ইরানকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিল সমস্যা নিয়ে মস্কো তার অন্য সব সহযোগিদের চিন্তাভাবনা করেই কাজ করার আহবান জানিয়েছে।রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনায়ের বিবৃতিতে বলা হয়,এটি সত্যিকার অর্থেই সামরিক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।এ কারণেই জার্মানিসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্রের সাথে ইরানের পারমানবিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করা উচিত।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান কাজ হচ্ছে যতদ্রুত সম্ভব আলোচনা বৈঠক শুরু হোক।রাশিয়া ও চীন অবশ্য তাই চাচ্ছে।