0তুরস্কের ব্যাঙ্ক ভারতের খনিজ তেল পরিশোধন শিল্পকে সাবধান করে দিয়ে খবর দিয়েছে মার্কিন ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার জন্য আর তারা ভারতে আমদানী করা ইরানের তেলের দাম দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে না. এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.


0    গত বছরের গরম কাল থেকেই ইরান থেকে আমদানী করা খনিজ তেলের দাম দেওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ভারত, এটা বর্তমানের শুধু সমস্যা নয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দেওয়া চাপের জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এশিয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল. আর এই ভাবে ইরানের সঙ্গে খনিজ তেলের দাম দেওয়ার ব্যবস্থা বাস্তবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল.


0    ইরান- খনিজ তেলের বিষয়ে ভারতের জন্য সৌদি আরবের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানী কারক দেশ, ভারতের বাত্সরিক চাহিদার শতকরা ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে. ইরানের জন্য আবার ভারতবর্ষ চিনের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রাহক দেশ. গত বছরে ভারতের হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আগামী দুই বছরের জন্য ইরানের সঙ্গে ৩৫ লক্ষ খনিজ তেল আমদানীর চুক্তি করেছিল.


0    বর্তমানের পরিস্থিতিতে ইরানকে আমেরিকা বয়কট করায় ভারতের বাধ্য হতে হয়েছে ইরানের খনিজ তেলের জন্য দাম দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পথ খুঁজতে, আর প্রায়ই খুব ব্যতিক্রমী পথ বার করতে. অংশতঃ, গত বছরের গরম কালে ভারতকে পত্র বাহকের মাধ্যমে নগদ টাকায় ইরানে পাঠাতে হয়েছিল বিশাল পরিমানে অর্থ, তেলের দাম হিসাবে. পরে, ব্যতিক্রমী পথ হিসাবে ভারত একাধিকবার চেষ্টা করেছে সংযুক্ত আরব আমীর শাহী, রাশিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে দাম দেওয়ার. এই সব দেশই ছোট মাপের অর্থ পাঠাতে আপত্তি করে নি. কিন্তু এখন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়াতে তুরস্কের "তুর্কিয়ে হাল্ক ব্যাঙ্কাসি এ এস", এই কাজ করতে অস্বীকার করেছে. মস্কোর জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ফ্লেইগিন বলেছেন:


0    "এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগ কাঠামোর উপরে নির্দিষ্ট প্রভাব বিস্তারের ফলেই ঘটেছে. ভারত তাদের সঙ্গে জড়িত আর অবশ্যই চায় যে, নিজেদের প্রতি সেই সব কাঠামোর সম্পর্ক ভাল রাখতে. এখানে এখন আর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে শুধু কথা হচ্ছে না. তা একটা নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে আটকে রয়েছে ও কোন ফল দিচ্ছে না. তাই চেষ্টা করা হচ্ছে পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা ব্যবহারের, যা ইরানের কোম্পানী গুলির সেই সমস্ত দেশের ব্যবসা বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে, যারা তাদের সঙ্গে কাজ করে থাকে".


0    ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সুধীর ভার্গব যে রকম খবর দিয়েছেন, তার থেকে জানা গেছে যে ভারতের খনিজ তেল পরিশোধন কোম্পানী গুলি ভরাত সরকারের কাছ থেকে ইরান থেকে আমদানী কমানোর জন্য কোনও রকমের নির্দেশ পায় নি. কিন্তু এই ধরনের বিপদ সত্যই রয়েছে. আর এটা ভারতকে বাধ্য করেছে ইরানের খনিজ তেলের দাম দেওয়ার জন্য অন্য পথ খোঁজার. ভারতের বেশ কয়েকটি খনিজ তেল পরিশোধন কোম্পানীর নেতৃত্ব, যাদের মধ্যে রয়েছে ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যালস্ লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, খনিজ তেল শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন রাশিয়ার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব করার সম্ভাবনা নিয়ে. ব্লুমবর্গ সংস্থার তথ্য উত্স থেকে জানা গিয়েছে যে, এই রকমের একটি সম্ভাব্য মাধ্যম হল গাজপ্রম ব্যাঙ্ক. এই প্রশ্ন গুলি আলোচনা করা হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মস্কো সফরের সময়েও.


0    ভারত ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আশা করা হচ্ছে বাণিজ্য বিষয়েও হতে পারে. কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানী শক্তি বিষয়ে সহযোগিতার উন্নতির ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে. কিন্তু এই সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না যে, ভারতকে ইরান থেকে আমদানী করার বিষয়ে সঙ্কুচিত হতে বাদ্য করা হবে. দিল্লী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণের জন্য সেই ধরনের সম্ভাবনা রাখে না, যা চিনের রয়েছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার সম্বন্ধে সহযোগিতা করা অস্বীকার করতে পেরেছে. এই দেশে কয়েকদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি টিমোথি হাইটনারের সরকারি সফরের সময়ে চিন সিদ্ধান্ত মূলক ভাবে অস্বীকার করেছে ইরানের পারমানবিক সমস্যা ও খনিজ তেল আমদানীকে এক সূত্রে আলোচনা করতে.