0রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার আহ্বানে দেশ থেকে বিদেশে স্থানান্তরিত উত্পাদনের ক্ষেত্র ও কাজের জায়গা ফিরিয়ে আনা ও ভবিষ্যতে না নিয়ে যাওয়া সম্বন্ধে মার্কিন ব্যবসায়ীরা ও কোম্পানীরা যে সাড়া দেবেন না, তা নিয়ে সমস্বরে মন্তব্য করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞরা.


0    এই ঘোষণা করা হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে, দেশের ব্যবসায়ের প্রধানদের সঙ্গে সম্মেলনের মঞ্চ থেকে. প্রথমে এই নিয়ে উদ্বিগ্ন রব তুলেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম. ওবামা আমাদের কাজের জায়গা কেড়ে নিচ্ছেন – এই ধরনের মূল মত সমস্ত প্রকাশিত বক্তব্যেরই. চিন বারাক ওবামার সঙ্গে সরাসরি তর্ক বিতর্কের মধ্যে যায় নি. কিন্তু দেশের বিনিয়োগ ও ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সমস্ত প্রথম সারির নেতারা এই বক্তৃতার পরেই ঘোষণা করেছেন – চিন নিজেদের দেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিবেশকে আরও ভাল করবে. চিনে আমেরিকার উদ্যোগের বৃদ্ধিকে স্বাগত জানানো হয়েছে. শুধু গত বছরেই দেশে আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে হাজারেরও বেশী নতুন ব্যবসা ও কোম্পানী খোলা হয়েছে. এটা সঙ্গত বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া, বলেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের অর্থনীতি বিভাগের ভাইস ডিরেক্টর ভিক্টর সুপিয়ান, তিনি বলেছেন:


0    "আমেরিকার কোম্পানী গুলির বিদেশে নিজেদের উত্পাদন ক্ষেত্র নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া থামানো বা তা ফিরিয়ে আনা অবাস্তব. শ্রমের মূল্য ও কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্যের জন্য উন্নতিশীল দেশ গুলিতে যে খরচ তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম. আর এর অর্থ হল তাদের কোম্পানী গুলি, আর অন্যান্য উন্নত দেশের মতই, ভবিষ্যতে নিজেদের উত্পাদন ব্যবস্থাকে বিদেশে নিয়ে যাবেই. কোন রকমের আহ্বান জানিয়ে এই প্রক্রিয়াকে থামানো সম্ভব নয়".


0    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্ নির্বাচনী প্রচার কার্যে নেমে ওবামা আমেরিকার লোকেদের দেশপ্রেম ও এশিয় লোকেদের স্নায়ু শক্তি নিয়ে খেলছেন, এই রকম মনে করে রাশিয়ার "অনাবাসিক" তহবিলের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ পস্তাভনিন বলেছেন:


0    "আমি বিশ্বাস করি না যে, ব্যবসা এত সহজেই রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দেবে. এশিয়া থেকে চলে গেলেই তারা সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হারাবে. ওবামা নভেম্বর মাসের নির্বাচনের আগে প্রচারের একটা পদক্ষেপ নিয়ে দেখছেন. তাঁর প্রয়োজন ভোটার দের কাছ থেকে ভোট পাওয়া, তাই আর একবার এশিয়ার উপরে কলঙ্ক লেপন করা যেতেই পারে. এই কথা সত্য যে, ভারত ও চিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু ভারী শিল্প, যেমন ইস্পাত, রসায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. তার সঙ্গে চলে গিয়েছে বহু সংখ্যক কাজের জায়গাও. কিন্তু এর মাধ্যমেই নিজেদের দেশের জন্য আমেরিকার কোম্পানীরা পরিবেশ দূষণের পরিমান কম করতে পেরেছে, তারই সঙ্গে আনতে পেরেছে বিপুল লাভের অর্থ. একই সময়ে ভারত ও চিন এই ধরনের কারখানা তৈরী করতে ও সেখানে কাজের জায়গা সৃষ্টি করতে আজ বহুদিন ধরেই সমর্থ হয়েছে".


0    যাই হোক না কেন, এই জনমত তৈরীর জন্য প্রচারের কাজ দেখাচ্ছে যে, এমনকি দেশের বৃহত্ রাজনীতির স্বার্থে বড় কোম্পানী গুলির ব্যবসায়িক স্বার্থকে বলি দেওয়া যেতে পারে. এশিয়া থেকে কোম্পানী ফিরিয়ে আনার আহ্বানকে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা আবার মজবুত করেছেন দেশের প্রশাসনে বিশেষ দল তৈরী করে, যারা এশিয় দেশ গুলিতে ব্যবসায়িক কাজকর্মের ক্ষেত্রে বাস্তব ও সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘণ নিয়ে লক্ষ্য করা চালিয়ে যাবেন.


0    বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই উদ্যোগ হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্র নীতিকে আরও কঠোর করার অংশ হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে চিনের বিরুদ্ধে. বেইজিং এর সঙ্গে জটিল সম্পর্কই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই ধরনের কার্যকরী পরিষদ গঠনের জন্য ইন্ধন জুগিয়েছে. আর এই সম্ভাবনাকেও বাদ দেওয়া যায় না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ লঙ্ঘণ করা, তারা সেই সমস্ত কোম্পানীর কাজের মধ্যেই খুঁজতে যাবে, যা চিন ও অন্যান্য এশিয় দেশ গুলিতে রয়েছে.