0চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের জন্য ঝগড়া করে নি, যাতে বিশ্বের বাজারে কোন আতঙ্ক না ছড়ায়. এটা মুখ্য ও সম্ভবতঃ অন্যতম ফল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি টিমোথি হাইটনারের বেইজিং সফরের. আর এর অর্থ হল ইরানের প্রশ্ন পরেও চিন ও আমেরিকার সম্পর্কের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবে.


0    টিমোথি হাইটনার চিনকে ইরান থেকে খনিজ তেল ক্রয়ের পরিমান অনেক কমিয়ে দিতে আহ্বান করেছেন, এই খবর দিয়েছেন আমেরিকার প্রতিনিধি দলের উত্স. চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি লিউ ভেনমিন এর প্রত্যুত্তরে বলেছেন – ইরানের পারমানবিক সমস্যা খনিজ তেল আমদানী সঙ্গে জুড়তে দেওয়া যায় না. এই ভাবেই বোঝা গিয়েছে যে, আমেরিকার প্রতিনিধি বেইজিং সফরে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন, তা সফল হয় নি. চিন ইরানের খনিজ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ও একই ভাবে সেই দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশী বিনিয়োগ কারীও বটে. তাই নতুন বছর শুরু হওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ইরানকে একঘরে করার জন্য সমস্ত বাধা নিষেধের বেড়া, দেখা যাবে যে, কার্যকরী হয় নি.


0এই বিষয়ে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই মাসলভ বলেছেন:


0"চিন শুনতে পেয়েছে, তাকে কি বলা হয়েছে, কিন্তু তারা পরিস্কার বুঝতে পেরেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত বেশী চাবিকাঠি নেই যা দিয়ে তাদের উপরে প্রভাব ফেলতে পারবে. চিন অবশ্যই কোন না কোন ছোট ছাড় দেবে, তবে বড় মাপের বিশ্ব সমস্যা নিয়ে কোন ছাড় দেবে না. তার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেরা ইরান সম্বন্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তা চিনের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় চিন তাদের স্বার্থকে খর্ব হতেই দেখতে পেয়েছে, আর এই ধরনের প্রভাব তারা কোন দিনই পছন্দ করে নি. তাদের পছন্দ হয়, যদি তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবেই".


0টোকিও আমেরিকার প্রস্তাব গ্রহণ করে ঘোষণা করেছে যে, তারা ইরানের থেকে খনিজ তেল আমদানীর বিষয়ে চতুর্থ বড় দেশ হলেও পরিকল্পনা মাফিক সেখান থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করবে ও প্রস্তাব করেছে যাতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানের ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সংস্থা গুলির উপরে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়েছে বলে কোন রকমের নিষেধাজ্ঞা চাপানো না হয়.


0বেইজিং শহরে এই ধরনের কথাবার্তা বোধহয় হয় নি, আর তার কারণ চিনের কড়া আমেরিকা বিরোধী মনোভাবই নয়, তাই আলেক্সেই মাসলভ যোগ করেছেন:


0"চিনের স্পষ্ট ঘোষণা যে, ইরানের খনিজ তেল আমদানী ও সেই দেশের পারমানবিক সমস্যার সমাধান কোনও পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বিষয় নয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানকেই তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে না, তারা চাইছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ খনিজ তেল রপ্তানী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে করতে. এটা অর্থনৈতিক প্রশ্নও বটে, তাই চিনের পছন্দ হয় নি, যখন কেউ তাদের উপরে নিজের হুকুম চালাতে চেয়েছে".


0ইরানের প্রধান বাণিজ্য সহচর দেশ চিন. তার উপরে তেহরানকে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রধান সহকর্মী বলে মনে করে. তাই ইরানের উপরে যে কোন নতুন চাপকে চিন নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়া বলেই ধরতে পারে. টিমোথি হাইটনারকে এটা বেইজিং শহরে আরও একবার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে.