0পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি দেশের প্রতিরক্ষা সচিব ও অবসর প্রাপ্ত জেনেরাল – লেফটেন্যান্ট নাঈম খালিদ লোধী কে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতে তাঁর মন্তব্যের কারণে বরখাস্ত করেছেন. উচ্চপদস্থ কর্মচারী দেশের সামরিক বাহিনীর সমর্থন পেয়েছিলেন, তাই এই বরখাস্ত করা দিয়ে গিলানি দেশের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে শেষ অবধি বিরোধ শুরু করেছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.


0    এই উচ্চপদস্থ কর্মচারী, দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতে মেমোগেট কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলার শুনানীর সময়ে বলেছেন যে, দেশের প্রশাসন সামরিক বাহিনী ও বিশেষ আন্তর্পরিষেবা গুপ্তচর সংস্থার কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে না, আর এই ভাবেই তিনি সামরিক বাহিনীর পক্ষ নিয়েছেন. প্রধানমন্ত্রী লোধীর এই ঘোষণাকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করে তাঁকে বরখাস্ত করেছেন. এর সামান্য আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চিনের সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে উদ্ভূত বিরূপ মনোভাব সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আশফাক কিয়ানি ও গুপ্তচর সংস্থার প্রধান আখমেদ সুজা পাশার পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ আদালতকে লিখিত সাক্ষ্য দেওয়াকে "বেআইনি" নাম দিয়েছেন.


0    লোধীর বরখাস্ত হওয়া ও নিজেদের দিকে সমালোচনা সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে খুবই অসন্তুষ্ট করেছে. আশফাক কিয়ানি প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানিকে পরবর্তী কালে সামরিক বাহিনীর লোকেদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার বিষয়ে সাবধান করেছেন. তাঁর কথামতো, "প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ধরনের সমালোচনা দেশের জন্যই দুঃখজনক কারণ হতে পারে". অন্য কথায় বলতে হলে, সামরিক নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন, "এই গৃহের কর্তা কে". এই পরিস্থিতিতে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারীর নিজের পদত্যাগ নিয়ে ঘোষণা যে, তিনি তৈরী আছেন, যদি দল ও জোটের সহকর্মী দলেরা তাঁর পদত্যাগ চান, তাহলে পদত্যাগ করতে, এটা একেবারেই অগ্নিতে ঘৃতাহুতি হয়ে গিয়েছে. আর এই সবই আসন্ন সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে কানাকানিতে নতুন শক্তি জুটিয়েছে.


0    এরই মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মনে করেছেন যে, নায়েম খালিদ লোধীর বরখাস্ত হওয়া দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণ হতে পারে না, তিনি বলেছেন


0    "তিনি এমন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি নন, যাঁর জন্য সামরিক বাহিনী দেশের অসামরিক রাজনৈতিক প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত করবে. যদি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী দেশের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে বরখাস্ত করেন, তাহলে এই কথা উঠতে পারে, তবে মনে হয় না যে, পাকিস্তানের ইতিহাস মনে রেখে প্রশাসন এই ধরনের কোনও ব্যবস্থা নেবে. যদিও প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর বর্তমানে সম্পর্ক জটিল, তবুও অভ্যুত্থান হয়তো হবে না, কারণ সামরিক বাহিনীও এখন দৈন্য জর্জর এই অর্থনীতি ও বিপুল সামাজিক দায়ভার নিজের কাঁধে নিতে চাইবে না. তার ওপরে নিজেদের প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা তারা এমনিতেই যথেষ্ট পরিমানে পেয়েছে. তাই বিপদ সীমা অতিক্রান্ত হতে পারে, শুধু সামরিক ও গুপ্তচর বাহিনীর প্রধান নেতৃত্বের পরিবর্তন করা হলে".


0    সত্যই পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরিয়ে আনা অসম্ভব মনে হয়েছে ও সামরিক বাহিনী এই কাজ হাতে নিয়ে অসফল হলে, দেশে তাদের যতটুকু জনপ্রিয়তা আছে, তাও ফুরিয়ে যাবে. এমতাবস্থায় সামরিক বাহিনী সরাসরি আক্রান্ত হলে কি হবে তা মুখে বলা না হলেও টের পাওয়া গিয়েছে.