0রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভ্লাদিমির পুতিন ও তার পরে বারাক ওবামা পুনরায় নির্বাচিত হলে রাশিয়া- আমেরিকার সম্পর্ক ও বিশ্বে পরিস্থিতি সব মিলিয়ে মজবুত হতে পারে. এই বিষয়ে "ইন্টারফ্যাক্স" সংবাদ সংস্থাকে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের মুখ্য সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ.


0নিকোলাই পাত্রুশেভ মনে করেন যে, রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নিজের পদে বহাল থাকার জন্য খুব খারাপ সম্ভাবনা রাখেন না. তাঁর একটি ইতিবাচক স্লোগান হল রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা মজবুত করা. মস্কো একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে. একই সাথে রাশিয়ার জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়েছে আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থার সৃষ্টি ও তার উন্নতি. আজ তা রাশিয়ার জন্য কোন বড় বিপদের কারণ না হলেও ভবিষ্যতে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক ক্ষমতা কম করার জন্যই হয়েছে, এই কথা বলেছেন নিকোলাই পাত্রুশেভ.


0মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভুত্বের বিপদ দেখতে পেয়েছে, প্রাথমিক ভাবে চিনের তরফ থেকে, উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের মুখ্য সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ. চিনের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিপরীত শক্তি হিসাবে তারা ভারতবর্ষকে ব্যবহার করতে চেয়েছে. রাশিয়া উদ্যোগ নিয়েছে সমস্ত এশিয় দেশগুলির সঙ্গেই সহযোগিতা করার ও তাদের মধ্যে কোন রকমের বিরোধের সুযোগ নিয়ে খেলা করতে চায় না. যেমন ওয়াশিংটনের জন্য, তেমনই মস্কো ও ব্রাসেলসের জন্য এবং ইউরোপীয় সঙ্ঘের অন্যান্য রাজধানী গুলির জন্যও নিকোলাই পাত্রুশেভের কথামতো সত্যিকারের বিপদ হল – বর্তমানের অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ জনিত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা.


0পাত্রুশেভ মনে করেন যে, ইরানকে ঘিরে বিরোধ সামরিক উত্তেজনার রূপ নিতে চলেছে, যে দিকে আমেরিকার লোকেদের ঠেলছে ইজরায়েল. রাশিয়া, চিন ও ভারত এবং আরও এক সারি দেশ প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করছে, যাতে এই সমস্যাকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়. কিন্তু এই শক্তি প্রয়োগের ফল আপাততঃ খুবই অল্প হয়েছে. তিনি কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন – কোন রকমের সহমতে পৌঁছনোর মতো প্রচেষ্টাও, বিভিন্ন কারণে বর্তমানে যেমন ইরানের তরফ থেকে তেমনই আমেরিকার তরফ থেকে করা হচ্ছে না.


0নিকোলাই পাত্রুশেভ এই প্রসঙ্গে উপস্থিত তথ্য সম্বন্ধে মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ গুলি ও কিছু পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশ সিরিয়ার সম্পর্কে লিবিয়ার মতো ঘটনা পরম্পরা তৈরী করতে চাইছে. তারা চাইছে বর্তমানের বকলমে আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকে সরাসরি সামরিক অনুপ্রবেশে পরিনত করতে. তিনি সম্ভাব্য হিসাবে দেখতে পেয়েছেন যে, বর্তমানে ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারা সিরিয়ার জন্য "উড়ান বিহীণ" এলাকা তৈরী করতে চাইছে, যেখানে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সামরিক শক্তি জড়ো হতে পারে. এই প্রসঙ্গে নিকোলাই পাত্রুশেভ উল্লেখ করেছেন যে, স্বল্প কাল আগে সিরিয়ার জন্য মৈত্রী সুলভ আচরণ করা তুরস্ক ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই করতে নেমেছে ও তাদের উচ্চাভিলাষ প্রচুর. সেই কারণেই সিরিয়া আজ মনোযোগের কারণ হয়েছে নতুন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জোটের জন্য, নিজের কারণে নয়. তাকে শাস্তি দিতে চাওয়া হচ্ছে শুধু বিরোধী পক্ষকে দমনের জন্যই ততটা নয়, যতটা তেহরানের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক ছেদ করতে না চাওয়ার জন্য করা হচ্ছে. নিকোলাই পাত্রুশেভের এই দৃষ্টিকোণকে সমর্থন করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞা ল্যুদমিলা কুলাগিনা বলেছেন:


0"এই কথা সত্য যে, সিরিয়া ও ইরানের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ. পশ্চিমের উদ্বেগের কারণ হয়েছে যে, সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ইরান, লেবাননের জন্য অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে ও এই ভাবে "হেজবোল্লা" দল সশস্ত্র হচ্ছে. এটা পশ্চিমের জন্য খুবই অপ্রিয় বিষয়. একই সময়ে অবশ্যই পশ্চিম সিরিয়াকে শাস্তি দিতে চেয়েছে এই কারণে, যে তারা এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ, যারা ইরানকে সমর্থন করে. তাদের কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছে না এই কারণে যে, ইরান – ইরাক যুদ্ধের সময়ে তেহরানকে একমাত্র সমর্থন তারাই করেছিল".


0নিকোলাই পাত্রুশেভ, ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অপারেশনের ফলাফল মূল্যায়ণ করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকার দিক থেকে ঘোষিত এই দেশগুলিতে যুদ্ধ শেষ করা, ততটাই অবিশ্বাসের হয়েছে, যতটা ছিল তা শুরু করা নিয়ে ভূমিকা. ওয়াশিংটনে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অনেক সময়েই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে নেওয়া হয়ে তাকে, আর তাই তার পরিণতি যথেষ্ট করে ভেবে দেখা হয় না. যদি উপ রাষ্ট্রপতি জোসেফ বাইডেন কৃত সেই সম্বন্ধে শেষ ঘোষণা বিচার করা হয় যে, তালিবান আন্দোলন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত্রু নয়. তাহলে ব্যাপারটা আসলে সেই রকমই দাঁড়িয়েছে. এটা, আমরা দেখতেই পাচ্ছি আমেরিকার রাজনীতিতে ১৮০ ডিগ্রী উল্টো দিকে ঘুরে যাওয়ার প্রমাণ হিসাবে. এই কথাই বলেছেন নিরাপত্তা পরিষদের মুখ্য সচিব.