0পাকিস্তান থেকে প্রত্যেক দিনই নতুন সব খবর পাওয়া যাচ্ছে, যার সম্মিলিত অর্থ করলে দাঁড়ায় যে, এই দেশে ক্ষমতার হাতবদল হতে আর বেশী দেরী নেই. আক্ষরিক অর্থে কয়েকদিন আগেই সব সংবাদ মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করা হয়েছিল প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের প্রত্যাবর্তন ও তাঁর উদ্দেশ্য করা হুমকি, যা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মুখ থেকেই শুনতে পাওয়া গিয়েছিল, আর এবারে নতুন ঘটনার মোড় ফেরা: দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ও প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির কাছে এক গুচ্ছ চরম দাবী জানিয়েছে, যা পালন করতে হলে পাকিস্তানের ক্ষমতার শীর্ষের সকলকেই একসাথে গদি ছাড়তে হবে.


0    সর্ব্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তথাকথিত জাতীয় পুনর্মিলন অধ্যাদেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানীর সময়ে, যা পারভেজ মুশারফ ২০০৭ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন ও ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আদালত যেটিকে সংবিধান অসম্মত বলে স্বীকার করেছিল. এই অধ্যাদেশের বলে ১৯৮৬ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে ১২ই অক্টোবর ১৯৯৯ সালের মধ্যে পাকিস্তানের প্রায় ৮ হাজার রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মী, যাদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, আর্থিক বিষয়ে অপরাধ ও এমনকি হত্যা ও সন্ত্রাস সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের যাদের সম্বন্ধে করা হয়েছিল, তাদের ক্ষমা করা হয়েছিল. ২০০৭ সালে মুশারফের জনপ্রিয়তা খুবই কমে গিয়েছিল ও তিনি এই অধ্যাদেশ জারী করে নিজের স্বপক্ষে বিস্তৃত জোটকে আনতে চেয়েছিলেন. কিন্তু এই অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ উল্টো কাজই করেছিল: বর্তমানের রাষ্ট্রপতি জারদারী ও বিরোধী পক্ষের প্রধান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সহ দেশের নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদেরা মুক্তি পাওয়ার পরে মুশারফকে নিজেই পদত্যাগ করতে হয়েছিল.


0    বর্তমানের সর্ব্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত প্রথমে প্রধানমন্ত্রী গিলানীকেই আঘাত করেছে. এই কথা বলেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি. বিচারপতিরা গিলানীকেই দেশের সংবিধান অবমাননা করা ও ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসেই আদালতের সিদ্ধান্ত পালন করতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, মুশারফের অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করে দেশের সবচেয়ে উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য, যাদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জারদারীও পড়েন. সর্ব্বোচ্চ আদালতের মতে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের স্বার্থকে দেশের সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ততার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন. এর ফলে যা হতে পারে তা হল, দেশের পার্লামেন্ট সদস্যদের দাবী অনুযায়ী এটা হবে না. আর তার মানে হল যে, তিনি আর দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন না.


0    প্রসঙ্গতঃ আসলে প্রধানমন্ত্রী – স্রেফ লক্ষ্য করার উপযুক্ত লোক. আসল আঘাত হানা হয়েছে দেশের প্রশাসনের সর্ব্বোচ্চ স্তরে – রাষ্ট্রপতি জারদারীর দিকেই, যার বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তাঁকে সেই সময়ে মিস্টার টেন পারসেন্ট নামে ব্যঙ্গ করে বলা হতো.


0জারদারীকে কয়েক দিনের মধ্যেই এই কারণে দেশের পার্লামেন্টে প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা ভোট আনতে হচ্ছে ও তাঁর আশা যে, সেখানে তাঁর দলের সদস্য সংখ্যা বেশী বলে এই যাত্রায় তাঁরা পার পেয়ে যেতে পারেন.


0    ভলখোনস্কির ধারণা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বর্তমানে জোট বেঁধেছে, বিরোধী পক্ষ, সামরিক বাহিনী এমনকি দেশে প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক বিতাড়িত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মুশারফ, এবারে দেশের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব হীণ সর্ব্বোচ্চ আদালতও. তাই যুদ্ধ হবে কঠিন.


0মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, গতবারেও দেশের রাষ্ট্রপতির সমস্যা তুঙ্গে উঠেছিল, যখন তিনি সর্ব্বোচ্চ আদালতের সভাপতি ইফতিকার মহম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন. বর্তমানে পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, তাই আবার হয়তো প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হতে পারে.