0রাশিয়ার সরকার বর্তমানে সোনা ও বিদেশী মুদ্রার তহবিলের সঙ্গে যোগ করতে চলেছে খনিজ তেলের ভাণ্ডার. জ্বালানী শক্তি মন্ত্রণালয়ের ফরমাস পেয়ে বিশেষজ্ঞরা রাশিয়াতে স্ট্র্যাটেজিক কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য এক প্রকল্প তৈরী করেছেন. ধারণা করা হয়েছে যে, মাটির নীচের ভাণ্ডারে বেশ কিছু লক্ষ টন খনিজ তেল জমিয়ে রাখা হবে. তা ব্যবহার করা যেতে পারবে কোন রকমের প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিপর্যয়, বিশ্বের বাজারে গুরুতর সঙ্কট ও দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য.


0রাশিয়া অন্যান্য দেশের উদাহরণ অনুযায়ী তৈরী হয়েছে দুর্দিনের জন্য খনিজ তেলের ভাণ্ডার গঠনের. প্রসঙ্গতঃ, সঞ্চয় করতে চাওয়া হয়েছে খুবই বড় মাপের – একশো পঞ্চাশ লক্ষ টন পর্যন্ত. প্রকল্পে এই সংখ্যাই উল্লেখ করা হয়েছে, যা তৈরী করা হয়েছে জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটে. বর্তমানে রাশিয়া প্রতিদিনে রপ্তানী করে থাকে ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টন কাঁচা খনিজ তেল, আর এর অর্থ হল, এই সঞ্চিত ভাণ্ডারে যত তেল রাখা হবে তা প্রায় ২০ দিন রপ্তানীর পরিমানের সমান. এটা সারা বিশ্বের উত্পাদক দেশ গুলিতে যে ধরনের ভাণ্ডার তৈরী করা হয়, তার সঙ্গে একই মাত্রায়. যদিও বিনিয়োগ কোম্পানী আরবাত ক্যাপিটালের বিশেষজ্ঞ ভিতালি গ্রমাদিন নির্দেশ করেছেন যে, সাধারণতঃ এই ধরনের ভাণ্ডার তৈরী করে থাকে গ্রাহক দেশ গুলি, তাই তিনি বলেছেন:


0"গ্রাহক দেশ গুলি স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয় বলে মনে করে থাকে সেই ধরনের পরিমান, যা তিন মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম. সত্যই তা খনিজ তেলের দামের উপরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে. স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয় তৈরী করা হয়েছিল ওপেক সংস্থার বিপরীতে ও তা যথেষ্ট সফল ভাবে জোটে যুক্ত দেশ গুলির কার্টেলের উত্পাদনের কোটার সঙ্গে সংগ্রাম করতে সমর্থ হয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয়ের পরিমান প্রায় ১০ কোটি টন খনিজ তেল".


0রাশিয়ার খনিজ তেলের সঞ্চয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতই মাটির নীচে আধারেই রাখা হতে চলেছে. কিন্তু তা কোনও কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা জায়গায় নয় – এটা খুবই দামী, বরং তা করা হতে চলেছে স্বাভাবিক ভাবেই ফাঁকা জায়গায় – যেমন, লবণ নিষ্কাশনের পরে খনির অভ্যন্তরে. এই কথা সত্য যে, এর জন্যেও যথেষ্ট গুরুতর বিনিয়োগ করার প্রয়োজন. প্রথমতঃ, প্রয়োজনীয় পরিমানে খনিজ তেল কেনার জন্যই এমনকি দেশের ভিতরের দামেও প্রায় চারশো কোটি ডলারের বেশী অর্থের প্রয়োজন. তার সঙ্গে যোগ হবে যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরীর খরচ. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের খরচ, ভাণ্ডার যথেষ্ট বুদ্ধি করে ব্যবহার করলে, খনিজ তেলের দামের ওঠা নামা ব্যবহার করেই করা সম্ভব, বলে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন. দাম বাড়ার সময়ে তেল বিক্রী করা ও দাম পড়ার সময়ে কিনলেই চলবে. তারই সঙ্গে আভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রভাব বিস্তার করা যাবে দেশে অভাব হলে ও তা দিয়ে দাম কমানোও যাবে.


0কিন্তু এই প্রকল্পে ব্যবসায়িক অংশটিই মুখ্য বিষয় নয়, এই কথা দলিলের এক লেখক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই কনদ্রাতিয়েভ, প্রসঙ্গতঃ তিনি বলেছেন:


0    "সঞ্চয়ের থেকে কাঁচামাল বিক্রী করা হবে, এখন যেমন রাশিয়ার সঞ্চয় ভাণ্ডার থেকে করা হয়ে থাকে, যার কাছে রয়েছে প্রচুর পরিমানে খনিজ তেল থেকে উত্পাদিত পণ্য, নিষ্কাশিত খনিজ তেল নয়. তা বাজারে বিক্রী করা হবে, যদি খনিজ তেলের কোন রকমের অভাব দেখা যায় অথবা আমাদের সহকর্মীরা আমাদের বলে খনিজ তেলের সরবরাহ বাড়াতে, কারণ অন্য দেশ গুলি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে থাকার কারণে, তাদের প্রয়োজনীয় পরিমানে খনিজ তেল সরবরাহ করতে অপারগ হয়. তখন, স্বাভাবিক ভাবেই, এই সঞ্চয়ের তালা খোলা হবে ও বাজারের দামে তা বিক্রী করা হবে".


0সমস্ত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এখন এই প্রকল্প পরীক্ষা করে দেখা হবে ও তার পরেই প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য. প্রসঙ্গতঃ বিশেষজ্ঞরা সন্দেহাতীত ভাবে মনে করেছেন যে, এটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়.