0নিকট প্রাচ্যে বেইজিং ওয়াশিংটনকে শক্তি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছে. ইরানের জ্বালানী শক্তি শিল্পের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে চিন, কারণ তারা এই দেশের সবচেয়ে বড় খনিজ তেলের গ্রাহক. চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি লিউ ভেনমিন ঘোষণা করেছেন যে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারী করেই ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না.


0ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেছেন. এই প্রসঙ্গে যে কোন বিদেশী ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত হবে, যাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে খনিজ তেল আমদানীর জন্য অর্থ পাঠিয়ে দাম দেওয়া হবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যবস্থায় এই ব্যাঙ্ক গুলিকে কাজ করতে দেওয়া হবে না. দেখাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের ব্যবস্থা চিনের যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে, যারা এই ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করে, তার মধ্যে খনিজ তেলের দাম দেওয়াও রয়েছে.


0চিনকে খনিজ তেল রপ্তানী করাই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে ও তার ফলে পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে যেতে পারে, যদি ৩০শে জানুয়ারী ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানেরা ইরানের খনিজ তেল আমদানীর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন. সেই ক্ষেত্রে তেহরান নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – তেহরানকে এর জন্য নমুনা স্বরূপ শাস্তি দেবে বলেছে.


0বেইজিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, আর তা শুধু সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরীর জন্যই নয়, এই রকম মনে করে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই মাসলভ বলেছেন:


0"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট প্রাচ্যে প্রভাব কমানো নিয়ে কথা হচ্ছে. কয়েক দিন আগেই বেইজিং ঘোষণা করেছে যে, এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে দেওয়া যেতে পারে না. চিন অবশ্যই চেষ্টা করবে, যাতে মার্কিন প্রভাব খর্ব হয়, তার মধ্যে পারস্য উপসাগরেও যেন তা হয়. আগে চিন কখনোই পারস্য উপসাগর এলাকাকে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে ঘোষণা করে নি, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক বার্তা প্রেরণকে সেই ভাবেই দেখা প্রয়োজন, যাতে ওয়াশিংটন নিজেদের প্রভাব এশিয়াতে আর না বাড়ায়. এই বছর ও আগামী বছর গুলিতে চিন ও আমেরিকার চাপান উতোর দেখা যেতে পারে. চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এশিয়া থেকে বের করে দিতে চায়, আফ্রিকাতে তাদের প্রভাব ছোট করতে চায়, আর কোন সন্দেহ নেই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজকর্ম পারস্য উপসাগরে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়".


0চিন, ইরানে খুবই প্রসারিত অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকার কারণে ইরান প্রসঙ্গে পশ্চিমের প্রধান বিরোধী পক্ষ. আর তাই যখন বর্তমানে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ও ইরান অন্যদিকে থাকায় উত্তেজনা বেড়ে একেবারে তুঙ্গে পৌঁছেছে, তখন চিন সরাসরি এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের স্বার্থের এলাকায় ঢুকে পড়েছে.


0মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চুপ করে থাকতে চায় না. ১০ই জানুয়ারী চিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী টিমোথি হাইটনার সফরে যাচ্ছেন. তাঁর সফরের উদ্দেশ্য হবে ইরানের খনিজ তেল শিল্প ক্ষেত্রের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্বন্ধে অবস্থান ব্যাখ্যা করা.


0বোঝাই যাচ্ছে, ইরানের বিষয় বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়েছে. তার মধ্যে আবার এবারে দুই পক্ষের ভূ রাজনৈতিক স্বার্থকেও জড়ানো হয়েছে. চিন এশিয়াতে নিজেদের বিশ্ব ব্যাপী অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে প্রভাব বাড়াতে চায়. আর এটা আরও বেশী করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই এলাকায় "প্রথম বাজনদার" হওয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই হয়ে যাচ্ছে.