0রাশিয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচার বিষয়ে সক্রিয় সময়ের জন্য (৪ঠা মার্চ)তৈরী হচ্ছে. এই প্রতিদ্বন্দিতায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন – দেখা গিয়েছে যে, তিনি নিজেই তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনা লিখছেন. এই দলিলের ভিত্তি হয়েছে তথাকথিত জনগনের পরিকল্পনা, যা পার্লামেন্ট নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া ও জাতীয় ফ্রন্ট নিয়ে প্রচার করেছিল.


0    ভ্লাদিমির পুতিনের তথ্য সম্প্রচার সম্পাদক দিমিত্রি পেশকভ যেমন বলেছেন যে, নতুন বছরের শুরুর ছুটির দিনগুলিতে সরকারের প্রধান নিজের প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনার কাজে সময় দিয়েছেন. এই দলিলে তিনটি অংশ থাকবে, যা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে হবে. প্রধান তত্ত্ব গুলি তথাকথিত জনগনের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলবে, যা বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদেরা লিখেছিলেন রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে. কিন্তু পুতিনের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় থাকবে তাঁর নিজের দিকে থেকে গুরুত্ব দেওয়া বিষয় গুলি ও নতুন বিশ্ববোধ, এই রকম কথাই জোর দিয়ে তাঁর তথ্য সম্প্রচার সম্পাদক বলেছেন. রাজনীতি তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:


0    "পুতিন নিজেই তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনার প্রধান রূপরেখা নির্ধারণ করবেন. এটা ঠিক যে, জনগনের পরিকল্পনা তৈরী করতে গিয়ে অনেক বড় কাজ করা হয়েছিল. কিন্তু পুতিন এমন একজন প্রার্থী ও ব্যক্তি, যিনি দেশ সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী খবর রাখেন, অন্য সকলের চেয়ে অনেক বেশী ও যাই হোক না কেন, দেশকে উপলব্ধি করতেও পারেন সকলের চেয়ে বেশী, তিনিই জানেন আমাদের দেশ কেমন যা প্রজাতিগত ভাবে, সামাজিক ভাবে আর অন্য সমস্ত দিক থেকেও খুবই জটিল রাষ্ট্র. তাই তিনি নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনার প্রধান রূপরেখা নিজেই তৈরী করছেন ও সেখানে নিজেই গুরুত্বের মাত্রা নির্ধারণ করছেন. কারণ তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে এই পরিকল্পনা দেশের মানুষদের – নির্বাচকদের কাছ থেকে সমর্থন পায়, আর যাতে তা পরে বাস্তবায়িত হতেও পারে".


0    রেডিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে যেসব বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা সকলেই একমত যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক রাজনীতির ধারণা স্পষ্ট. অনেক বেশী আগ্রহ রয়েছে পুতিন কিভাবে রাশিয়ার রাজনৈতিক কাঠামোয় সংশোধনের প্রস্তাব করেন ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে কি স্থির করবেন. শেষের অংশ পশ্চিমের বিশেষজ্ঞদের বেশী করেই উদ্বিগ্ন করেছে. রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনেরাল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন ধারণা করেছেন কি প্রস্তাব করতে পারেন ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি বলেছেন:


0    "আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে অংশ বিশেষ হতে পারে এমনকি রাজনৈতিক সংশোধন. এই সংশোধন পুতিনের প্রশাসনের অক্ষরেখা বরাবর নানা ধরনের বাধার ব্যবস্থা ও উল্টো ভার দেওয়ার ব্যবস্থা দিয়ে তৈরী করা হবে. রাজনৈতিক প্রশাসনে কিছু বিষয়ে ঢিলে করা হবে, যাতে একদিকে, সমাজ স্বাধীন ভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করতে পারে. আর অন্যদিকে আলাদা সামাজিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নিজেদের কাজকর্মের জন্য দায়ভারও বেশী করে নিতে হবে. পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে খুব সম্ভবতঃ প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় সমাকলনে জোর দেওয়া হবে, খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চিনও অন্যান্য দেশের সঙ্গে তৈরী করার প্রচেষ্টা হবে, তার মধ্যে ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াও থাকবে, আর তার সঙ্গেই ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে পারে. আসলে, এটা প্রাক্তন রুশ সাম্রাজ্যের সীমান্ত বরাবর ফলপ্রসূ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়কে নতুন করে সৃষ্টি করার পরিকল্পনাই হবে".


0    ১২ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনার সর্বশেষ রূপ দিতে হবে. তার পরে পুতিনের প্রাক্ নির্বাচনী দপ্তরের প্রতিনিধিরা দেশের নানা অঞ্চলে যাবেন সাধারন মানুষকে এই দলিলের অর্থ বুঝিয়ে দিতে.