পামির মালভূমি বা যাকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় তা পূনরায় নিউক্লিয়া পদার্থবিদ্যা গবেষণার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হচ্ছে।ঠিক ৪০ বছর পূর্বে তাজিকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পামির-চাকালতাই নামে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষনাগার তৈরী হয়েছিল।এখানেই ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি গবেষণা চালানো হয়।কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনাবলী যেমন-সভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং তাজিকিস্তানে গৃহযুদ্ধের কারণে পরবর্তিতে গবেষনার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।তবে আশার কথা হচ্ছে,২ বছর পূর্বে রুশি ও তাজিক পদার্থবিদদের কল্যানে পূনরায় ওই গবেষনাগার প্রান ফিরে পেয়েছে।পৃথিবীর ছাদ নিয়ে এখন ওই গবেষনা কেন্দ্রে কি ঘটছে এবং বিজ্ঞানীরাই বা কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন?।

১৯৭২ সালে তাজিকিস্তানের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ী অঞ্চল মুরগাবস্কের পামির এলাকায় মহাকাশের সূক্ষ কণাদের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য বিশাল একটি এলাকায় গবেষনাগার তৈরী হয়।ওই সময়ই কেন্দ্রটি বৃহত এক্সরে ক্যামেরা যন্ত্রে স্বয়ংসম্পর্ণ ছিল যা গবেষনা পরবর্তি ফলাফল লিপিবদ্ধ করার কাজে ব্যবহার হত।মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রশ্নের পরীক্ষা করতে মূলত এই কেন্দ্রে ইউরোপের মধ্যে সবার প্রথম বৃহত হার্ডন কোলাইডার স্থাপিত হয়।এ বিষয়ে বলছিলেন তাজিকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাকিম আহামেদভ।'বর্তমানে এই কেন্দ্র স্থাপিত সূক্ষ কণা থেকে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ ইলেকট্রন ভোল্ট বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন করে।মহাকাশ থেকে ওই সব কণা অনেক জোর গতিতে আসছে এবং উচ্চতায় এর শক্তি অনেক বেশী থাকে।এর মানে হচ্ছে,উচ্চতা যত বেশী হবে ততই এর শক্তি বাড়বে।বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে ওই কণার সর্বোচ্চ শক্তি অবস্থানগত দিক দিয়ে উঁচুতে থাকাকালিন রেকর্ড করা সম্ভব'।

সাদামাটা পামির-চাকালতাই গত ২০ বছরে বিশাল গবেষণা কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।তবে সময়ের চাহিদা পূরণ করার তাগিদেই এই কেন্দ্রকে ঢেলে সাঁজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।এখনও অনেক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি কিনতে হবে।পামিরের চমত্কার আবহাওয়া যা জ্যোতি-পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার এক উত্তম স্থান।তাজিকিস্তান বিজ্ঞান একাডেমির প্রেসিডেন্ট মামাদশো ইলোলোভ এ কথার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন,পামির-চাকালতাই একসাথেই বিজ্ঞানের  বেশ কয়েকটি নতুন শাখার প্রান দিতে পারে।

মহাকাশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং এ বিষয়ে পূর্বাভাস দেয়ার কাজ এই কেন্দ্র থেকই করা সম্ভব।বিশেষকরে এই কেন্দ্রে এষ্ট্রো-বায়োলোজি ও মহাকাশ শক্তির ওপর গবেষণা পরিচালনার অনেক সুযোগ রয়েছে।ইলোলোভ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,আগামী ভবিষ্যতে পামিরের পাহাড়গুলোতে নতুন বিজ্ঞানের সূচনা হবে।

রাশিয়া ও তাজিকিস্তান পামির-চাকালতাই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।তবে দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তিপত্রে অন্যান্য দেশও যোগ দিতে পারবে।এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা।ওই সময় এ ধরনে গবেষণায় ব্রাজিল,পোল্যান্ড,জাপান ও বলিভিয়াসহ ৮টি দেশ অংশ নিয়েছিল।তবে এখন পর্যন্ত পামিরে গবেষণা কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছে কাজাকিস্তান,বেলারুশ ও পোল্যান্ড।