মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে ব্যয় সঙ্কোচ করছে – দুটো যুদ্ধ একসাথে চালানোর মতো অর্থ আর নেই. পেন্টাগন ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় নিজেদের উপস্থিতি গুটিয়ে ফেলছে, কিন্তু তা বাড়বে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ও নিকটপ্রাচ্যে. সামরিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত এই ধরনের নীতিগতভাবে মূল বক্তব্য প্রকাশ করেছেন বৃহস্পতিবারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও পেন্টাগনের প্রধান লিওন প্যানেত্তা.

       মার্কিন রাষ্ট্রপতি যেমন ঘোষণা করেছেন যে, পেন্টাগনের খরচ ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে কমিয়ে দেওয়া হবে আগামী দশ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার. এখানে কথা হচ্ছে খুবই বেশী রকমের ব্যয় সঙ্কোচের, এই কথা মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই অজনোবিশ্যেভ বলেছেন:

       “এটা বিশাল অঙ্কের অর্থ. এখানে মূল হল – সেই সমস্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর একসাথে ইরাক ও আফগানিস্থানের মতো যুদ্ধ চালাতে পারছে না. বলা হচ্ছে যে, এটা এখন একটা শুধু জয়ের জন্য যুদ্ধই হতে পারে”.

       অংশতঃ আগামী কয়েক বছরের জন্য বেশ কিছু বড় সামরিক সম্ভার তৈরীর পরিকল্পনা স্থগিত করে দেওয়া হচ্ছে. এটা নতুন বেশী উন্নত স্তরের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ও পরবর্তী প্রজন্মের স্ট্র্যাটেজিক ডুবোজাহাজ তৈরী. পঞ্চম প্রজন্মের এফ – ৩৫ ধরনের যুদ্ধ বিমান ও বোমা বর্ষণের যন্ত্রও কেনার হার কমানো হবে. এই প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদাতিক বাহিনীতে লোকসংখ্যা অন্ততঃ শতকরা ১০ ভাগ কমানোর কথা হয়েছে, যার সংখ্যা এখন ৫ লক্ষ ৭০ হাজার. একই সঙ্গে বারাক ওবামা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে. তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “নিকটপ্রাচ্যেও নিজেদের খেয়াল করা চালিয়ে যাবে”. এই সমস্ত এলাকার প্রতি আগ্রহ যথেষ্ট বোধগম্য, এই রকম মনে করেছেন রাজনৈতিক পরিকাঠামো কেন্দ্রের ভাইস ডিরেক্টর আলেক্সেই জুদিন:

       “নিকটপ্রাচ্য – ঐতিহ্য অনুযায়ী খুবই উত্তপ্ত এলাকা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবসময়েই এই এলাকার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, তার ওপরে বিগত সময়ে উত্তর আফ্রিকাতে ঘটা ব্যাপার গুলোর জন্য এখানের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে. তার ওপরে বর্তমানে সব জায়গাতেই বলা হচ্ছে যে, এশিয়া, নিকটপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চিনের প্রতিদ্বন্দ্বীতার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে. পেন্টাগনের তরফ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এই ধরনের শক্তি জড়ো করার প্রচেষ্টাকে বলা যেতে পারে যে, এই এলাকায় চিনের শক্তি বর্ধনের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে”.

       এই প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক স্ট্র্যাটেজি যাঁরা তৈরী করেছেন, তাঁরা মনে করেন যে, চিনের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি তাদের স্ট্র্যাটেজিক মানসিকতা আরও বেশী স্পষ্ট করে প্রকাশ করেই তবে হওয়া উচিত্. এটা এই অঞ্চলে সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করবে. বেইজিং নিজের পক্ষ থেকে এই ধরনের নীতিতে শুধু মার্কিনী তরফ থেকে তাদের বেঁধে রাখার প্রচেষ্টাই দেখতে পেয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে,  তাদের দিক থেকে বিরক্তির সঙ্গেই দেখা হয়েছে এই বিষয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে. এই দেশ ওবামার পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত মহাসাগরীয় এলাকার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাধ্য. আর এটা করা হবে অবশ্যই চিনের বিরুদ্ধে.

       রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ অবতারণা করে এই স্ট্র্যাটেজির প্রণেতারা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে রাশিয়ার সঙ্গে আরও বেশী ঘনিষ্ঠভাবে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার, যেখানে দুই দেশেরই স্বার্থ মেলে. একই সঙ্গে দেখাই যাচ্ছে যে, ইরান নিয়ে চলা ক্রমাগত জটিল হয়ে ওঠা সঙ্কট মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তি বিরক্তির বিষয় হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্ট্র্যাটেজি প্রকাশের দিনে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের তরফ থেকে  তাদের উদ্যোগেই রাশিয়া ও ইরানের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে.

       দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মাহমুদ আহমাদিনেজাদ একই সঙ্গে জোর দিয়ে তাঁদের আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, এই অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের জন্য একমাত্র রাজনৈতিক পথ অবলম্বনই উপায়, তা সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও উপায়. দিমিত্রি মেদভেদেভ অংশতঃ উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর টেলিফোন আলোচনার সঙ্গীর তরফ থেকে রাশিয়ার প্রস্তাবিত “ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জনের পরিকল্পনা” নিয়ে আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির উপরে সতর্ক হওয়ার জন্য আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে, যাতে সেখানে পারমানবিক অস্ত্র বানানো না হয়. আর অল্প কিছু দিন আগে ইরানের সামরিক নৌবাহিনীর মহড়া ও মার্কিন পঞ্চম নৌববরের খরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ, যাতে তেহরান এই প্রনালীকে বন্ধ না করে দিতে পারে, - তা আর যাই হোক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি বর্ধন করে না. ওয়াশিংটনের ও তেল আভিভের তরফ থেকে সম্মিলিত ভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ও রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও বেশী করে উত্তেজনাময় করে তুলেছে.