পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল একশ বছরেরও আগে ভিন গ্রহের বাসিন্দারা, এই রকম একটা ধারণা প্রকাশ করেছেন সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানী  ইউরি লাভবিন. যখন আমাদের গ্রহের কাছে এক প্রকাণ্ড উল্কা ধেয়ে এসেছিল, তখন ভিন গ্রহের বাসিন্দাদের মহাকাশ যান সেটার গায়ে ধাক্কা মারে, ফলে এক বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছিল, উল্কার খন্ড সাইবেরিয়ার উপরে পড়েছিল, আর সবচেয়ে বড় টুকরোর নাম দেওয়া হয়েছিল তুঙ্গুস উল্কা, এই রকমই ধারণার কথা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী.

    ভিন গ্রহের লোকেদের এই রকমের বীরত্বের কারণ আপাততঃ জানতে পারা যায় নি. সম্ভবতঃ. তারা চেষ্টা করেছিল পৃথিবীকে বাঁচানোর. অন্য একটা মতে, এটা পরিস্থিতির অনিবার্য এক ঘটনাচক্রে ঘটেছিল. ধ্বংস হতে বাসা মহাকাশযান পৃথিবীর উপরে পড়তে যাওয়া উল্কাকে ধাক্কা দিয়েছিল, এই রকম কথা বলে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তুঙ্গুস পরিঘটনা সামাজিক তহবিলের প্রধান ইউরি লাভবিন বলেছেন:

    "এটা ছিল এক আত্মঘাতী মহাকাশযান. বোধহয়, তার শক্তির উত্স ফুরিয়ে এসেছিল, ওজন ছিল বিশাল, আর সেই যান নিজে থেকেই ধাক্কা মারতে গিয়েছিল. উল্কা ভেঙে টুকরো হয়ে গিয়েছিল. উল্কার খন্ড আমরা সারা সাইবেরিয়া জুড়েই পেয়েছি. পূর্ব সাইবেরিয়ায় ক্রাসনোইয়ারস্ক অঞ্চলে বিস্ফোরণের এলাকায়, আমরা ৫০০ মিটার ব্যাসের খাদ ও আরও কয়েকটা ১০০ থেকে ১৫০ মিটার ব্যাসের খাদ চারপাশে দেখতে পেয়েছি".

    সেখানেই ভিন গ্রহের মহাকাশযানের ঠুকরো পাওয়া গিয়েছে. যার রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, পদার্থ যা দিয়ে তা তৈরী, তা পৃথিবীতে তৈরী করা যেতে পারে না. এটা সিলিকন ও লোহার এক বিশেষ যৌগ: মানুষের এই সব উপাদানই রয়েছে, কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যে বিশেষ ধরনের ঘনত্বের দরকার, যা বিশ্বের পরিস্থিতিতে তৈরী করা যায় না, - শুধু মহাকাশেই সম্ভব. বিস্ফোরণের শক্তিও প্রমাণ করে দেয় যে, এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী খুব সম্ভবতঃ ভিন গ্রহের বাসিন্দারাই, এই রকম কথাই জোর দিয়ে বলেছেন ইউরি লাভবিন.

    সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, বাস্তবে সমস্ত আশ্চর্য ধারণা গুলিই, যা এই একশ বছরের বেশী সময় ধরে করা হয়েছে, তা চলতে পারে না, শুধু একটা ছাড়া: ভিন গ্রহের সভ্যতার অংশ নেওয়া ছাড়া. ইউরি লাভবিন জোর দিয়ে বলেছেন যে, আকাশ ও মাটির মাঝখানে বিস্ফোরণ শুধু দুটি পদার্থের ধাক্কাতেই এই রকম হতে পারতো. তিনি বলেছেন:

    "ভিন গ্রহের বাসিন্দারা যে এই কাজ করেছে, তার স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে শতকরা ৯৯ ভাগ. কারণ একই সঙ্গে ভূমিকম্পের কম্পণ মাপা ছাড়াও চৌম্বক ক্ষেত্রে ঝড়ের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে. আর চৌম্বক ক্ষেত্রে ঝড় হতে পারে শুধু বাতাসে কোন যন্ত্র ধ্বংস হলে তবেই".

    ইউরি লাভবিন আরও প্রমাণ যোগাড় করেছেন তাঁর অন্য গ্রহের বাসিন্দা সম্পর্কে ধারণার স্বপক্ষে. এটা বেশী বড় নয় এমন পাথর, যাতে বরফি আকারের ও চৌকো জিনিস আঁকা, তিনি বলেছেন:

    "এটা কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল. এটা শক্ত কম শুধু হীরার চেয়ে. এর উপরে আঁকতে হলে অন্য রকমের প্রযুক্তি প্রয়োজন. আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কি করে এই ধরনের আঁক কাটা সম্ভব হয় তা দেখতে. গিয়েছিলাম পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে, তাদের কাছে লেসার রশ্মি দিয়ে কাটার যন্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে ইস্পাত কাটা যায়, মাখনের মত সহজে, কিন্তু এই পাথরের উপরে সামান্য আঁচড় ছাড়া তাদের শক্তিশালী যন্ত্র কিছুই করতে পারে নি. যখন এটা ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানীদের দেখিয়ে ছিলাম, তাঁরা বলেছিলেন এটা অন্য গ্রহের পাথর".

    এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, এই স্ফটিক গুলি কোন তথ্য বহন করে এনেছে. এই সব রহস্যময় ছবির অর্থোদ্ধার করতে পারলে শুধু তুঙ্গুস উল্কার রহস্য সমাধান করাই সম্ভব হত না, এই মহা বিশ্ব সম্পর্কে ও সেখানে থাকা বুদ্ধিজীবি প্রাণীদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যেত.

    মনে করিয়ে দিই যে, ১৯০৮ সালের ৩০শে জুন উল্কা পতন হয়েছিল. ফলে সাইবেরিয়াতে যে, বিস্ফোরণ হয়েছিল, তাতে প্রায় দুই হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাছ পড়ে যায়. কয়েকদিন ধরে অতলান্তিক মহাসমুদ্র থেকে মধ্য সাইবেরিয়া পর্যন্ত অঞ্চলে আকাশে তীব্র আলোর আভাস ও আলোকিত মেঘ দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. এই বিপর্যয়ের জায়গায় এখনও বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন. কিন্তু তুঙ্গুস উল্কা যে পদার্থ দিয়ে তৈরী, তার কোন উদাহরণ সংগ্রহ করতে পারা যায় নি, ফলে তার ধর্মও জানতে পারা যায় নি.তাই এখনও ধাঁধা হয়েই রয়েছে: একশ বছরেরও আগে সাইবেরিয়ার তাইগা অঞ্চলের উপরের আকাশে কি হয়েছিল.