আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রাশিয়ার মহাকাশের বাগান "লাদা" নতুন করে জীবন পেতে চলেছে. বিশেষজ্ঞরা এই "মহাকাশের" বাগানের একেবারে "হৃদি মাঝারে" আলোর উত্স পাল্টে দেবেন. পুরনো হয়ে যাওয়া টিউব লাইটের আলোর জায়গায় লাগানো হতে চলেছে আধুনিক শক্তি সংরক্ষণে উপযুক্ত আলো বিচ্ছুরক ডায়োড, যাতে বিপজ্জনক ধাতু পারদ মহাকাশ থেকে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়. প্রসঙ্গতঃ "লাদা" নামের বাগানের আধুনিকীকরণের জন্য রসকসমস বা নাসা সংস্থা একটা পয়সাও খরচ করবে না. এই প্রকল্প করা হচ্ছে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর জৈব চিকিত্সা সমস্যা ইনস্টিটিউটের বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ থেকে ও আমেরিকার উটা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে.

    বোধহয় প্রত্যেক মানুষই জীবনে একবার হলেও গ্রীন হাউস দেখতে গিয়েছেন ও সেখানের বিশাল কাঁচে ঢাকা ছাদ ও দেওয়ালের মধ্যে প্রচুর নানা রকমের অবাক করা উদ্ভিদ দেখেছেন. দুঃখের বিষয় হল মহাকাশ স্টেশনের ছোট বাড়ীতে জায়গা কম থাকার কারণে এটা করা যায় না. আর শুধু জায়গা কম থাকাটাই সব নয়, এখানে সবচেয়ে কঠিন বাধা হল: শক্তির উত্স কম, এই কথা জানিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বায়ো মেডিক্যাল প্রব্লেমস্ ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারের প্রধান ভ্লাদিমির সীচভ বলেছেন:

    "আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন তৈরীর সময় থেকেই আমাদের "এনার্জী" রকেট- মহাকাশ কর্পোরেশনের বিশেষজ্ঞরা ৬০ ওয়াট শক্তি সংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন. ৬০ ওয়াট – এটা খুবই কম. তার ফলে আমাদের এই মহাকাশের গ্রীন হাউসের জন্য জায়গা কমাতে হয়েছিল, তা "মির" মহাকাশ স্টেশনের "আলো" নামের গ্রীন হাউসের  চেয়ে অনেক কম জায়গাতেই করতে হয়েছিল, যেখানে কোন রকমের উদ্ভিদ রোপন করা সম্ভব হয়. যদি দেখা হয়, কতটা জায়গাতে গাছ লাগানো হয়েছে, তবে দেখা যাবে যে, এটা দুই স্কোয়ার মিটারের শতাংশ মতন জায়গা. যাতে তা বোঝা সম্ভব হয়, তাই বলা যাক, যেখানে ছটা কড়াইশুটি চারা, ছটা থেকে আটটা গমের চারা আর ছটা থেকে আটটা স্যালাড পাতার গাছ. "লাদা" গ্রীন হাউস খুব ছোট, আর সেখানে শুধু বনসাই মাপের গাছই রাখা সম্ভব. সেখানে এর থেকে বেশী গাছ লাগানো যায় না, তাই এটা আমাদের বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে".

    বিজ্ঞানীর কথামতো, লাদা গ্রীন হাউস তার পৃথিবীতে থাকা একই রকমের গ্রীন হাউসের চেয়ে একেবারেই আলাদা. এই যন্ত্রের ভিত্তি হল – স্বয়ংক্রিয় আলোর ব্যবস্থা, আর জল দেওয়া ও গাছের পরিচর্যার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা. ছোট বাগানে গ্যাস বিশ্লেষণ ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি রয়েছে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন খেয়াল করতে পারে. তাছাড়া এখানে ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে দেখা হয় কি করে গাছে বীজ হয়. ছোট মাপের হলেও লাদা ছাড়া মহাকাশে চলে না, বিশেষ করে বহু দিন ধরে থাকার সময়ে ও অন্যান্য গ্রহে উড়ে যেতে হলে, তাই ভ্লাদিমির সীচভ বলেছেন:

    "আমরা এই উদ্ভিদ এই জন্যই বপন করেছি, যাতে মহাকাশচারীরা তা নিজেরাই লাগাতে পারেন ও খেতে পারেন. আর আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল তথ্য সংগ্রহ যে, কি ভাবে মহাকাশে বড় হওয়া গাছের গুণ ও স্বাদ বদলে যায়. তার সঙ্গে আমরা এই গুলির মাইক্রোবায়োলজিক্যাল নিরাপত্তার বিষয়ও দেখেছি. কারণ মাটিতে সব্জী বা ফল কিনে তা ধুয়ে খাওয়া যায়, মহাকাশে এটা করাও কঠিন, তাই আমাদের বোঝার দরকার ছিল, এই ধনের গাছে নিজে থেকে কি ধরনের মাইক্রো অর্গানিজম জন্মায়. আমরা এই ধনের পরীক্ষা করেছি, মহাকাশে সব্জীকে বরফ জমা করে বিশ্বে ফিরিয়ে এনে ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে".

    আপাততঃ পরীক্ষা সফল হচ্ছে. কোন রকমের জেনেটিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় নি. ভার হীণ অবস্থায় বেশ কয়েক রকমের স্যালাড পাতা, লোমশ কড়াইশুটি ও কিছু দিন আগে খুব বেঁটে গমের ফসল তোলা সম্ভব হয়েছে. সামনে রয়েছে – অন্যান্য গাছ লাগিয়ে দেখা, তার মধ্যে খুব যত্ন প্রয়োজন এমন টমেটো গাছও থাকবে.

    কিন্তু সম্পূর্ণ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন আরও বেশী শক্তিশালী, নিরাপদ ও ফলপ্রসূ আলোর উত্স.