২০১২ সালে মস্কোয় কয়েকটি পাড়ার মসজিদ দেখা দিতে পারে. মস্কোর পৌর সরকার এখন রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণের দলিল আলোচনা করছে.

   পাড়ার মসজিদ নির্মাণের ধারণা দেখা দিয়েছে রুশ অর্থোডক্স চার্চের দ্বারা মস্কোয় দুশোটি অর্থোডক্স খৃস্টান গীর্জা নির্মাণের যে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে তা থেকে. এ সব যদি সময় মতো নির্মিত হয়, তাহলে শুধু মস্কোতেই থাকবে ৮০০টি অর্থোডক্স গীর্জা, বলেন রাশিয়ার অর্থোডক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ফাদার-সুপিরিয়ার পিওতর ইয়েরেমেয়েভ :

   কথা হচ্ছে গীর্জা থাকা উচিত্ পাড়ায়, মিউজিয়াম, স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের মতো. গীর্জা নির্মাণের জন্য এমন জায়গা বেছে নেওয়া হচ্ছে, যাতে লোকে, যেমন বয়স্ক লোকেরা অথবা ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাপ-মায়েরা সেখানে হেঁটে যেতে পারে.

   বছরের পর বছর মস্কোয় মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, কিন্তু শহরে তাদের জন্য আপাতত রয়েছে মাত্র তিনটি মসজিদ. চতুর্থ ও সবচেয়ে বড় মসজিদ হল - জামা মসজিদ – ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, কারণ হঠাত্ ভেঙ্গে পড়ার ভয় ছিল. সম্প্রতি মুসলমানদের একটি মুখ্য উত্সবের সময় বহু হাজার লোক মসজিদের কাছে একেবারে রাস্তাতেই নমাজ পড়েছিল, আর তা প্রত্যক্ষভাবে তুলে ধরেছে এ সমস্যাটিকে, বলেন মুসলমানদের কেন্দ্রীয় ধর্ম পরিচালনা বিভাগের প্রথম উপ-সভাপতি, মস্কো তথা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মুফতি আলবির ক্রগানোভ :

   মসজিদের প্রয়োজন আছে, আর সম্ভব হলে পাড়ার মসজিদের. অবশ্য. মুসালিয়া আছে. মস্কোয় তার সংখ্যা প্রায় ১০টি. তবে, রাজধানীর সমস্ত অঞ্চলে ছোট ছোট মসজিদ তৈরি করলে ভাল হত.

   নতুন নতুন মসজিদ ও অর্থোডক্স গীর্জা নির্মাণের প্রশ্নে রাজধানীর জনসমাজ বিভাজিত. বেশির ভাগ লোকে মনে করে যে, শহরে যত বেশি ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনের জায়গা থাকবে, অপরাধী তত কম হবে. তবে, এমন লোকেরাও আছে, যাদের স্থিরবিশ্বাস – রাশিয়া – ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ, তাই উপাসনা ভবনের সংখ্যা সীমিত থাকা উচিত্.

   এখন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় মুসলমান ধর্ম পরিচালনা বিভাগ মস্কো পৌর সরকারের সাথে মুখ্য মসজিদ সমাহারের নির্মাণ সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে. তা তৈরীর জায়গা সম্বন্ধে কোন মূলনীতিগত বাধা নেই. হয়ত তা নির্মিত হবে রাজধানীর সবচেয়ে শান্ত একটি অঞ্চলে. প্রধান ব্যাপার হল, সে মসজিদে যেন কয়েক হাজার ধর্মবিশ্বাসী নমাজ পড়তে পারে.