২০১২ সাল সহজ হবে বলে মনে হয় না. আগের বছর থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলি দূর হয়ে যাবে না, আর তার অর্থ, আশ্চর্যও ঘটবে না. তবে, যে সব ঘটনা অবশ্যই ঘটবে, তা বিচার করে বলা যেতে পারে যে, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই নতুন বছর ইতিহাসে নিজের চিহ্ণ রেখে যাবে.

   বিশ্ব বিকাশে বিপুল প্রভাব ফেলে চলেছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, যার সম্মুখীন হয়েছে ইউরো অঞ্চল. বিশেষজ্ঞরা ইউরোসঙ্ঘের একক মুদ্রা বজায় থাকার দ্ব্যর্থহীন মূল্যায়ন করছেন না. ব্রাসেলসে উপলব্ধি করা হচ্ছে যে, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার অতি অজনপ্রিয় গভীর সংস্কার প্রয়োজন. আপাতত সাধারণ মানুষ শুধু এতে “নিজেদের কোমরের বেল্ট টাইট করাই” দেখতে পাচ্ছে এবং বুঝতে পারছে  না, তাদেরই কেন তাদের সরকারের অদূরদর্শী নীতির কুপরিণতি অতিক্রমে মুখ্য বোঝা বহণ করতে হবে. স্থিতিশীলতার একমাত্র “ছোট্ট দ্বীপ” হল – জার্মানি. তবে, সে কি গোটা ইউরো অঞ্চলকে সঙ্কট থেকে বার করে আনতে পারবে?

   নতুন বছরে বড় বড় একসারি দেশে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, তা সহজ হবে না সমাজে প্রতিবাদী মনোভাব বৃদ্ধির দরুণ. রাশিয়ায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সম্পর্কে নিজের পূর্বাভাষ দিচ্ছেন রাজনীতি বিশারদ সের্গেই মিখেয়েভ, তিনি বলেন :

   প্রার্থীদের প্রমাণ করতে হবে যে, তাঁরা সত্যি সত্যিই নির্বাচকদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছেন. অবশ্যই, তাঁদের পক্ষে সহজ হবে না ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা.

   তবে, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক শক্তির বিন্যাস বোধগম্য হলেও, রাশিয়ার নতুন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই সম্মুখীন হতে হবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের, মনে করেন রাজনীতি বিশারদ আলেক্সেই মাকারকিন :

   এখন রাশিয়ায় পরিস্থিতি তেমন করুণ নয়, যেমন ছিল ১৯৯৮ সালে, এবং এমনকি ২০০৮ সালেও. রাশিয়ার দেনা বেশি নয়, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাও যথেষ্ট স্থিতিশীল. সঙ্কটের দ্বিতীয় ঢেউ যথাসম্ভব কম ক্ষতিতে অতিক্রম করার সুযোগ আছে রাশিয়ার. তবে, একই সঙ্গে, রাশিয়া এখনও পর্যন্ত বিশ্ব মূল্যের ওঠা-নামার উপর নির্ভরশীল. আর ইউরোপীয় সঙ্কটের দরুণ জ্বালানীর চাহিদা যদি কমে যায়, তাহলে রাশিয়া বিপুল সমস্যার সম্মুখীন হবে. হয়ত, অজনপ্রিয় সমাধান গ্রহণ করতে হবে. আর সে ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন গ্রুপের সম্মতি বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে. বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মাঝে আস্থা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে.

   সমস্ত বিশেষজ্ঞ একমত যে, এখন কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিক সমাজের মাঝে সংলাপ অতি গুরুত্বপূর্ণ. কর্তৃপক্ষের ভয় পাওয়া উচিত্ নয় বিতর্কে, আর বিরোধীপক্ষের, বিশেষ করে, পার্লামেন্টের বাইরের বিরোধীপক্ষের, দেশে স্থিতিশীলতার জন্য নিজেদের দায়িত্ব অনুভব করা উচিত. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সত্ত্বার ১১৫০তম বর্ষপূর্তি যা এ বছরে পালিত হবে তাও এ স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করতে সাহায্য করতে পারে. এ দিবস রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী পালিত হবে পুরো ২০১২ সাল ধরে. এ ঘটনার সামাজিক গুরুত্ব সম্বন্ধে বলেন রাজনৈতিক প্রকৌশল কেন্দ্রের উপ-সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ :

   এ দিবসটি সত্যিই যথেষ্ট ব্যাপক পরিসরের, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, এবং তা আমাদের রাষ্ট্র গঠনের হাজার বছরের প্রক্রিয়ার এক ধরণের হিসেব-নিকেশ করার এবং ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিত নিরূপণের জন্য সুন্দর এক অজুহাত. অর্থাত্ বড় পরিসরে ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত দেখার.

   এ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সেও রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে.

   নতুন বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে ভ্লাদিভস্তকে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের শীর্ষ বৈঠকের কথা, যা অনুষ্টিত হবে সেপ্টেম্বর মাসে. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির এই বেসরকারী সংগঠনে রাশিয়া এখন সভাপতিত্ব করছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্লাদিভস্তোকের এ সাক্ষাত্ – সংলাপ এবং সহযোগিতা সুদৃঢ় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ.

   তবে, যাকে বলে, মানুষ শুধু খাওয়ার জন্যই তো বেঁচে নেই. ২০১২ সাল - লন্ডনে ত্রিংশতিতম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বছর. তা অনুষ্ঠিত হবে ২৭শে জুলাই থেকে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত. বিশ্ব ক্রীড়া ক্ষেত্রের জন্য – এটি সত্যিকার উত্সব, আর ক্রীড়ামোদীদের জন্য – নিজেদের জাতীয় দলের সাফল্য সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা.

   নতুন বছর সহজ হওয়ার প্রতিশ্রুতি জোগায় না. আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলছে. এ দেশ থেকে আসা নার্কোটিকের বিপদের সমস্যা আরও গভীর হয়ে উঠছে. নিকট প্রাচ্যে আলোড়ন দেখা দিয়েছে, প্যালেস্টাইনী ও ইস্রাইলীদের মাঝে সম্পর্ক এখন গভীর সঙ্কটে রয়েছে. ইরানের পারমাণবিক সমস্যাও দূর হয় নি. উত্তর কোরিয়া কঠিন সময় অতিক্রম করছে, যেখানে সম্প্রতি নেতা বদল হয়েছে, তবে পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা বজায় আছে. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সমস্যাও রয়ে গেছে. এগুলি হল অসম্পূর্ণ তালিকা, আর এমনই হল আমাদের জটিল পৃথিবী. তবে, এ পৃথিবীতেই আমাদের বাস করতে হবে, আর তার অর্থ, আশা করতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে, ২০১২ সাল আগের বছরের চেয়ে ভাল হবে.