সাইবেরিয়ার ইশিম শহরের ঐতিহাসিক শিল্প সংগ্রহের যাদুঘরে "ইশিম থেকে আমুর" নামে এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে, এখানে দেখানো হয়েছে লোমের জুতো কে আধুনিক "চটকদার" জিনিষ হিসাবে. প্রদর্শনীতে লোমের জুতোকে মৌলিক রুশ জুতো হিসাবে, যার বিশ্বে কোন সমকক্ষ জিনিস নেই বলে দেখানো হয়েছে, আর এই ধরনের জুতোর আধুনিক মডেল বর্তমানে রাশিয়া থেকে নিয়ে যাওয়া স্যুভেনির হিসাবে ঐতিহ্যশালী মাত্রিওশকা পুতুলকেও পিছনে ফেলেছে.

    লোমের জুতোর রুশ নাম ভালেনকি, যাকে রাশিয়ার জাতীয় সম্পদ হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে, তা আসলে একটা শক্তপোক্ত উঁচু ফেল্ট বুট জুতো ভেড়ার ফেল্ট লোম দিয়ে বানানো হয়ে থাকে. প্রথম লিখিত বিবরণ দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের প্রাচীন স্মারণিক রুশ সাহিত্যে "ইগরেভ বাহিনীর ইতিকথা" গ্রন্থে পাওয়া যায়. খুবই প্রবল শৈত্যের কারণে রুশ দেশে ভালেনকি পরতেন শীত কালে সবাই – সাধারন মানুষ থেকে জার পরিবারের বিশিষ্ট লোকেরাও.

    প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যে সমর্থন পাওয়া গিয়েছে যে, সাইবেরিয়াতে প্রথম ভালেনকি উদ্ভব হয়েছিল খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে. এখানে এখনও এটাই প্রধান শীতের জুতো হয়েই রয়েছে, তাই এখানে প্রবচন রয়েছে: "সাইবেরিয়ার লোক সে নয় – যে ঠাণ্ডায় জমে যায় না, বরং সে, যে গরম পোষাক পরে".

    ইশিম শহর নিজেকে সাইবেরিয়ার ভালেনকি জুতোর জন্মস্থান বলে অভিহিত করেছে, সেখানে এই নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, যা এই শীতের জুতোর জন্যই করা, এই খবর রেডিও রাশিয়াকে জানিয়ে শহরের ঐতিহাসিক শিল্প সামগ্রী যাদুঘরের ডিরেক্টর গালিনা লুকোশিনা বলেছেন:

    "আমাদের প্রদর্শনীতে দুশো বছর আগের গাড়োয়ানদের ভালেনকি রয়েছে. সাইবেরিয়াতে এই ধরনের জুতো ছিল বিশেষ ধরনের – হাঁটুর চেয়ে উঁচু, যাতে পা জমে না যায়, আর তার উপরে অনেক অলঙ্করণ থাকতো. ইশিম শহরে ছিল বিখ্যাত নিকোলাইয়ের মেলা – সাইবেরিয়ার একটি বৃহত্তম মেলা, আর এখানে জিনিষ আনা হতো মালগাড়ীতে করে, তাই গাড়োয়ানদের পেশা এখানে অনেকেরই ছিল, তাই ভালেনকি ছাড়া কিসের গাড়োয়ান, এই জুতো না হলে কোথাও যাওয়ারই উপায় ছিল না".

    প্রদর্শনীতে নানা রকমের ভালেনকি প্রদর্শন করা হয়েছে – একেবারে সাধারন, উনবিংশ শতকের কৃষকের ভালেনকি থেকে একেবারে আধুনিক একক সংখ্যার ভালেনকি. এখানে এমনকি এমন এক জোড়া ভালেনকি রয়েছে, যা ধাতুর বলয়, মালা ও আংটা দিয়ে অলঙ্কৃত.

    দর্শকদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে প্রাচীন যন্ত্রপাতি, যাতে বাড়ীতে বসেই সাইবেরিয়ার গ্রামের মানুষ ভালেনকি তৈরী করতো. খুবই চাহিদা বেড়েছে দেশলাই বাক্সের চেয়ে ছোট মাপের ভালেনকি জুতোর, যা এই যাদুঘরের কর্মীরাই সেখানে তৈরী করে দিচ্ছেন. এই স্যুভেনির যারা ফেন শুই বিশ্বাস করেন, তাদের খুব মনে ধরেছে. চৈনিক এই মতে, প্রেম ও শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক গৃহের দক্ষিণ পূর্ব দিকে জোড়া জিনিস থাকা দরকার. আর ভালেনকি জুতোর চেয়ে ভাল জিনিস আর কি হতে পারে, যা গৃহের সমৃদ্ধি ও সুখী পরিবেশের কথা জানাতে পারে?