এই হেমন্তে বেশ কিছু রুশ শহরে প্রথমবার "জীবন্ত গ্রন্থাগার" খোলা হয়েছে. প্রথাগত গ্রন্থাগারের মতই এখানে "পড়ার ঘর" রয়েছে, গ্রন্থাগারের পাঠক হিসাবে এখানেও পাঠকের তথ্য নথিভুক্ত করতে হয়. তফাত শুধু একটা বিষয়েই যে, এখানে "বই" – বাস্তব ব্যক্তি, আর "পাঠ" – এটা সরাসরি কথাবার্তা. এই পরিকল্পনার স্রষ্টারা বলেছেন যে, এই ধরনের আলোচনা বহু প্রচলিত ধারণা ভেঙে ফেলতে পারে.

"হিউম্যান লাইব্রেরী" বা "জীবন্ত গ্রন্থাগার" আন্দোলন ১১ বছর আগে ডেনমার্কে শুরু হয়েছিল. "হিংসা থামাও" সংস্থার সক্রিয় কর্মীদের চেষ্টায় এই প্রকল্প জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল ও এমনকি কয়েকবার বিভিন্ন দেশে "বর্ষ সেরা সামাজিক প্রকল্প" বলে পুরস্কৃত হয়েছিল.

"জীবন্ত গ্রন্থাগারে" সব কিছুই প্রায় সাধারন গ্রন্থাগারের মতো. সম্ভাব্য পাঠক এখানে গ্রন্থাগারে প্রবেশাধিকারের জন্য বিশেষ ফর্ম ভর্তি করেন, বেছে নেন সেই ব্যক্তিকে, যাঁর ইতিহাস তিনি জানতে চান, আর তারপরে চলে যান সেখানে যেখানে সেই ব্যক্তি রয়েছেন, যাকে বলা যেতে পারে "পড়ার ঘর". কথা বলার জন্য আধ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়. এই সময়ের মধ্যে কথাবার্তা – স্বাধীন, কোন রকমের সেন্সর ছাড়াই আলোচনা হিসাবে হয়: যে কোন রকমের এমনকি সবচেয়ে অসুবিধা জনক ও প্ররোচনা মূলক প্রশ্নও করা যেতে পারে.

এই প্রকল্পের মূখ্য লক্ষ্য হল – প্রচলিত ধারণা কোন না কোন সামাজিক দলের সম্বন্ধে, কোন প্রজাতি সম্বন্ধে, কোন পেশা, ধর্ম, যৌন আচরণ সম্বন্ধে ভেঙে ফেলা. মস্কোতে এই "গ্রন্থাগারের" দুই দিনের কাজে ৩৫০ জনের বেশী ১০ থেকে ৮০ বছরের মানুষ এসেছিলেন. সবচেয়ে আগ্রহ হয়েছিল এক তরুণীর প্রতি, যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে, নিজেকে বৌদ্ধ মনে করে ও যার কোন ঘর বাড়ী নেই, তার উপরে.

রাশিয়াতে "জীবন্ত গ্রন্থাগার" নামের এই কাণ্ড প্রথমবার হয়েছে ৫ ও ৬ নভেম্বর মস্কো শহরে. এর পরেই একই ধরনের কাণ্ড হয়েছে নভসিবিরস্ক ও ইকাতেরিনবুর্গ শহরে. গত সপ্তাহে "জীবন্ত বই" "পড়া" সম্ভব হয়েছিল ছোট্ট এক শহর বারাবিনস্কে, এটা নভসিবিরস্ক থেকে কিছু দূরে আর নিঝনি নভগোরদ শহরে. কি করে রাশিয়াতে এই ধরনের প্রকল্প চালু হয়েছিল, তা নিয়ে গল্প করেছেন এই প্রকল্পের এক যোগাযোগ করার কর্মী – আনাস্তাসিয়া ওমেলচিশিনা, তিনি বলেছেন:

"আমাদের এক বান্ধবী বিদেশে এই "জীবন্ত গ্রন্থাগার" কার্যক্রমে যোগ দিয়েছিল, নিজেই "বই" হিসাবে. সে আমাদের কাছে গল্প করেছিল আর আমাদের আয়োজক স্থির করেছিলেন এটা রাশিয়াতেও সংক্রামিত করতে. তিনি "জীবন্ত গ্রন্থাগার" মস্কো শহরে আয়োজন করতে শুরু করেছিলেন. প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল জুলাই মাসের কোন একটা সময়ে. আপাততঃ আমরা "গ্রন্থাগার" করতে পেরেছি মস্কোতে, এখন উত্সাহীরা জড়ো হয়েছেন নভসিবিরস্ক ও ইকাতেরিনবুর্গ শহরে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার".

এই উদ্যোগ- নীতিগত ভাবেই কোন ব্যবসায়িক প্রকল্প নয়. সেই কারণেই এই ধরনের পাঠ সন্ধ্যা খুব একটা নিয়মিত হতে পারছে না, তাই আনাস্তাসিয়া ওমেলচিশিনা বলেছেন:

"আমাদের অনুষ্ঠান বিনামূল্য করা হয়, সুতরাং আমাদের প্রয়োজন রয়েছে স্পনসর পাওয়ার, এটা যথেষ্ট বেদনা দায়ক প্রশ্ন. আমরা প্রস্তাব করছি কম করে হলেও আরও একটি "জীবন্ত গ্রন্থাগার" মস্কোতে করার. কিন্তু এই ধরনের সাক্ষাত্কার নিয়মিত করা খুবই সমস্যার বিষয়: জায়গা দরকার, অর্থ ইত্যাদি সবই দরকার".

0পরবর্তী সংগঠিত "জীবন্ত গ্রন্থাগার" সম্ভবতঃ রাজধানীতে বসন্ত কালে হতে চলেছে, কিন্তু প্রত্যেক মানুষই নিজে এই ধরনের আলোচনা চক্রের আয়োজন করতে পারে. কারণ প্রতিটি মানুষের ইতিহাসই শুধু গল্প করার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা শোনারও প্রয়োজন রয়েছে.