0আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই হঠাত্ করেই কাতারে তালিবান দলের প্রতিনিধি দপ্তর খোলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন. মনে করিয়ে দেই যে, শুরু থেকেই কারজাই এই ধারণা টিকেই শুধু সমালোচনা করেন নি, এমনকি এই কথা যারা বলতে শুরু করেছিলেন, তাদেরও সমালোচনা করেছিলেন.

এখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের প্রতিনিধিত্ব মূলক দপ্তরের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করার সুবিধা হবে. এই ধরনের অবস্থান বদলের পিছনে কি থাকতে পারে? সমস্যা বিশ্লেষণ করেছেন "রেডিও রাশিয়ার" সমীক্ষক পিওতর গনচারোভ.

    প্রথমেই প্রশ্ন তুলবো, আফগানিস্তানের ভিতরে কি ধরনের শক্তির অবস্থান বদল হয়েছে? প্রথম দর্শনে – হিসাবে করলে কিছুই না. সেই সব আফগানিস্তানের রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা, যারা বক্তব্য রেখেছেন যাতে তালিবেরা বন শহরের দ্বিতীয় সম্মেলন সহ অন্যান্য জায়গায় বক্তব্য বলুক, তারা নিজেদের মতেই রয়ে গিয়েছেন. নিজেদের মত পাল্টান নি তারাও, যারা মনে করেন যে, আলোচনা হতে পারে শুধু সেই সব তালিবদের সাথেই, যারা আফগানিস্তানের বর্তমানের সংবিধান মানতে তৈরী. এই প্রসঙ্গে দুই পক্ষই একেবারে বিরোধী যে, তালিবদের সঙ্গে আলোচনা কোন তৃতীয় পক্ষ করুক, তা আমেরিকা বা জার্মানী যারাই হোক না কেন, আবার সেটাও আফগানিস্তানের সরকারি প্রশাসনকে বাদ দিয়ে. তারা এই সম্বন্ধে যথেষ্ট স্পষ্ট করেই ঘোষণা করেছে শান্তি সংসদে. তাই একমাত্র সম্ভাব্য সিদ্ধান্তই প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে: কাতারে তালিবদের প্রতিনিধিদের প্রধান স্পনসর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  - সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলোচনার গতি দ্রুত করতে. এটার কেন দরকার? বোধহয়, হোয়াইট হাউস নিজেদের আফগানিস্তান সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজিতে বদল আনতে চাইছে, তালিবদের সঙ্গে সমঝোতা করে, প্রাথমিক ভাবে তাদের চরমপন্থীদের সঙ্গে.

    অন্য প্রশ্ন হল, এই সমঝোতা সময় ও বিষয়বস্তু নিয়ে কতটা দূর অবধি করা হবে? তালিবেরা কি রাজী হবে বর্তমানের কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের সংবিধান মেনে নিতে? নিজেদের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি রাজী হবে তালিবদের রাজনৈতিক শক্তি বলে মানতে, যারা বাস্তবে সমাজের নির্দিষ্ট অংশের স্বার্থ দেখছে? আর এই সমঝোতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে? তা কি তালিবেরা গুয়ানতানামো থেকে নিজেদের শাকরেদদের উদ্ধার করে আনলেই শেষ হবে না? অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হলেই কি সমঝোতা শেষ হবে না?

    বর্তমানের পাকিস্তানের সমস্যা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভের মতে এটা হওয়ার সম্ভাবনাই কম যে, চরমপন্থী তালিবেরা সংবিধান মেনে নেবে ও আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে মানবে, তিনি বলেছেন:

    "ইসলামাবাদের সমর্থন যারা পেয়েছে, সেই তালিবদের বর্তমানের প্রশাসন কোন ভাবেই চলতে পারে না, তাই তারাই সরকারি ফৌজের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে. তালিবেরা শুধু আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা বাহিনীর অপসারণই চাইছে না, তারা হামিদ কারজাইয়ের প্রশাসনের পতন চাইছে".

    একথা সত্য যে, চরমপন্থীদের পক্ষ থেকে কোন রকমের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা করার জন্য ঘোষণা শুনতে পাওয়া যায় নি. এই ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস কি লক্ষ্য নিয়ে চলছে এই চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে?

    উত্তর হল, যে রকম মনে হয়েছে, তা খুবই সহজ. ওবামা প্রশাসনের জন্য আজ খুবই প্রয়োজন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানের অপারেশন যেন নির্বাচকদের চোখে খুব সফল বলে মনে হয়. আর তালিবদের সঙ্গে ২০১২ সালে আলোচনা, নির্বাচনের বছরে, নির্বাচকদের বিশ্বাস করানোর জন্যই করা হচ্ছে শুধু দেখানোর জন্য যে, বর্তমানের প্রশাসন হাওয়ায় কথা বলে না. আর এর মানে হল, যে নির্বাচকদের ধারণা তৈরী হবে যে, ২০১৪ সালে আফগানিস্তান তৈরী থাকবে যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে চলে যায়. যে রকম রাষ্ট্রপতি ওবামা আগে ঘোষণা করে রেখেছেন. ২০১৪ সালে কি ঘটবে – তা দেখতে পাওয়া যাবে. যাই হোক না কেন, এটা আমেরিকাতে নির্বাচনের পরেই ঘটবে.