ভারতের রাজ্যসভায় লোকপাল বিল পাশ হয় নি. এর আগে ভারতের লোকসভায় তা পাশ করিয়ে আনা হয়েছিল, তা আশা জেগেছিল যে, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই আইন গৃহীত হয়ে যাবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই আইন পাশ করানো নিয়ে প্রচুর আবেগ দেখানো হচ্ছে সেই গরম কাল থেকেই. সলতেয় আগুণ দিয়েছিলেন প্রবীণ গান্ধীবাদী সামাজিক কর্মী অণ্ণা হাজারে. আগষ্ট মাসে তিনি দুই সপ্তাহ ধরে অনশন করেছেন, যাতে দেশের ক্ষমতাসীন দলের বহু বড় রাজনৈতিক চরিত্র, যারা দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত, তাদের মতো লোকেদের সাজা হওয়ার জন্য আইন নেওয়া হয়. হাজারে দাবী করেছিলেন আইনকে আরও কড়া করতে, যাতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও এর আওতায় এনে বিচার করা সম্ভব হয়. ভারতের সমাজ এর সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল.

    দুর্নীতি ভারতের জন্য এক খড়ির গন্ডি, যা পার হতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে দ্রুত করা সম্ভব নয়, - এই কথা মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "যদি দুর্নীতি না থাকে, তবে ভারত বোধহয়, আরও দ্রুত গতিতে উন্নতি করতে পারতো. কিন্তু সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল যে, দুর্নীতি ভারতের প্রশাসনের সমস্ত স্তরে ও বিশেষ করে তা লক্ষ্য করা যায়, সবচেয়ে নীচু তলায় – গ্রামে. খুচরো বিক্রেতা ও খুচরো ব্যবসায়ীরা এই চাপ নিজেদের উপরে একটানা টের পায়. তাই অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয় যে, যা হাজারে শুরু করেছেন, সেই আন্দোলন, প্রথমে একজন মানুষের মনে হলেও, পরে সারা দেশ জুড়েই প্রতিধ্বনি তুলেছিল. হাজারে সমর্থন পেয়েছিলেন বহু হাজার লোকের মিছিলে, বিভিন্ন শহরে. তিনি যে অনশন সত্যাগ্রহ শুরু করেছিলেন, আর যাতে বহু সহস্র লোক অংশ নিয়েছিলেন, তা ক্ষমতাসীন দলের আসন টলিয়ে দিয়েছিল ও বিরোধী পক্ষকে শক্তিশালী করতে পেরেছিল. তাই প্রশাসন ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছিল".

    হাজারে সমর্থকদের বেশীর ভাগ দাবীই সরকার মেনে নিয়েছেন, দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের উপরে দাবী অনুযায়ী দুর্নীতির প্রতিরোধে আইনের বাধা দূর করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও নানা দাবী মানা হয়েছে. কিন্তু অণ্ণা হাজারে ও তাঁকে সমর্থন করা লোকেরা এর মধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের প্রয়োজনীয় বিল লোকসভাতে পেশ করাই হয় নি. নতুন সংস্থার হাতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোন ক্ষমতাই থাকবে না, যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব হয় আর নতুন আইন শুধু সরকারের হাতের অস্ত্র হবে. তা স্বত্ত্বেও মনমোহন সিংহের সরকার নিজেদের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে লোকসভায় এই বিল পাশ করাতে পারলেও রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে পাশ করাতে পারে নি.

    বিগত সময়ে এটা দ্বিতীয় বৃহত্ পরাজয় দেশের ক্ষমতাসীন দলের, যাদের জনপ্রিয়তা এমনিতেই বহু ঘুষ সংক্রান্ত জোরালো স্ক্যাণ্ডালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত. পার্লামেন্ট যদি এই আইন গ্রহণ করতো, তাহলে হয়তো ইমেজ কিছুটা ভাল হতেও পারতো, দেখাতে পারতো যে, সরকার মন থেকেই দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রচেষ্টা করছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, নতুন বছরে আইনের খসড়া আবার পার্লামেন্টে আনা হবে আলোচনার জন্য, কিন্তু তখন আসবে নতুন করে সম্পাদিত রূপে.

    আর যদি বিরোধী পক্ষ আবার এই আইন নেওয়া আটকাতে পেরে থাকে ও সব বিষয়ে প্রশাসনকেই দোষী বলে অভিযুক্ত করতে পারে, তাহলে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অবস্থান খুবই গুরুতর ভাবে নষ্ট হয়ে যাবে. আর তখন আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের জয়ের সম্ভাবনা আসবে.