বর্তমানে বিশ্বের পারমানবিক শক্তির বাজারে রাশিয়া খুবই ভাল রকম জায়গা করতে পেরেছে. শেষ হয়ে আসা বছরের এই ধরনের মূল্যায়নই করেছেন রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র "কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের" প্রখ্যাত পদার্থবিদ্ ও পরমাণু বিজ্ঞানী আন্দ্রেই গাগারিনস্কি. জাপানের "ফুকুসিমা" পারমানবিক কেন্দ্রে বিপর্যয়ের পরে এই বাজার পড়ে যাবে বলে যে উদ্বেগের উদয় হয়েছিল, তা স্থায়ী হয় নি.

    বছরের শুরুতে ঘটা ঘটনা স্বত্ত্বেও – জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিপর্যয় – পারমানবিক শক্তি প্রসঙ্গে উন্নতিই হয়েছে. এই বছরে সাতটি পারমানবিক রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে, যা ২০১০ সালের তুলনায় দুটি বেশী.

    "এই সাতটির মধ্যে তিনটিই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত. দুটি বড় – এটা বুশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর ও রাশিয়ার কালিনিন পারমানবিক কেন্দ্রের চতুর্থ ব্লক. আর তা ছাড়া চিনে এক নতুন প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে, দ্রুত নিউট্রন নির্ভর অনতিবৃহত্ রিয়্যাক্টর. এটা পুরোটাই রাশিয়ার প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী. রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্র তৈরী করেছেন, চিনের লোকেদের সাহায্য করেছেন এটা একত্রিত করে চালু করতে".

    এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, প্রায় কেউই বিশ্বে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বায়না করা বা তৈরী করা বন্ধ করেন নি. আর রাশিয়ার সরকারি কর্পোরেশন রসঅ্যাটম সারা বছর ধরে তৈরী করার মতো বায়না পেয়েছে. সব মিলিয়ে রাশিয়ার বায়নার সংখ্যা অনেক বেড়েছে – ২১টি ব্লক পর্যন্ত, এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ. বর্তমানে রিয়্যাক্টরের নতুন প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে, এটা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র – ২০০৬ এর পরিমার্জিত নতুন ধরন. উন্নতি হচ্ছে একই সঙ্গে সোডিয়াম ব্যবহৃত দ্রুত রিয়্যাক্টর গুলির, নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে এই ধরনের বি এন ১২০০ নামের রিয়্যাক্টরের, তাই আন্দ্রেই গাগারিনস্কি বলেছেন:

    "এটা একেবারে নতুন ধরনের রিয়্যাক্টর, যা যেমন জ্বালানী হিসাবে বেশী করে প্লুটোনিয়াম থেকে তৈরী ইউরেনিয়াম - ২৩৮ মৌল কাজে লাগাতে পারে. ২০১৪ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যখন উরালের বেলোইয়ারস্ক পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দ্রুত নিউট্রন নির্ভর নতুন রিয়্যাক্টর কাজ করতে শুরু করবে. এর পরে রাশিয়াতে বহুল পরিমানে এই ধরনের রিয়্যাক্টর তৈরী করা শুরু হবে".

    ২০১১ সাল রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি চালিত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই শিল্প রসঅ্যাটমফ্লোট রসঅ্যাটম সংস্থার অংশ. উত্তরের জাহাজ চলাচলের রাস্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, নতুন বরফ ভাঙ্গা জাহাজ তৈরী করতে হবে, যেগুলি বৃহত্ ট্যাঙ্কার ও মালবাহী জাহাজকে পথ করে দিয়ে নিয়ে যেতে পারবে. রাশিয়াতে এর জন্য এখনই নতুন পারমানবিক যন্ত্র ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে, যার ক্ষমতা অনেক বেশী. নতুন ধারণাকেও বাস্তবায়িত করা হবে – বরফ ভাঙ্গা জাহাজ, যার জলে ভেসে থাকের উচ্চতাও পাল্টায়, এই জাহাজ যেমন অগভীর অঞ্চল দিয়ে, তেমনই উত্তরের সমুদ্রের পথ দিয়েও যেতে পারবে.

    কুরচাতভ ইনস্টিটিউটে ও রসঅ্যাটম সংস্থায় খুবই দ্রুত কাজ করা হচ্ছে রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত দীর্ঘ কালীণ স্ট্র্যাটেজি তৈরীর জন্য – এই শতাব্দীর মধ্য ভাগ পর্যন্ত. প্রাথমিক পরিকল্পনা এর মধ্যেই করা হয়েছে, তা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পারমানবিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করে দেখছেন.