ইউরোপে জাতি বিদ্বেষের প্রসার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগনের ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশ, সশস্ত্র বিরোধের এলাকায় মানবাধিকার রূঢ় ভাবে লঙ্ঘণ, এটা শুধু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও নিয়ম ভঙ্গের অতি সামান্য উদাহরণ, যা রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিশেষ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে. এই রিপোর্ট পেশ করেছেন মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়ে দায়িত্ব পালক কনস্তানতিন দোলগভ.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘণ নিয়ে এই প্রথমবার নিজেদের প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছিল. মন্ত্রণালয়ে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিপোর্টে শুধু সরকারি তথ্যই ব্যবহার করা হয় নি, বরং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলির তথ্যও যোগ করা হয়েছে. এর প্রধান লক্ষ্য হল- কিভাবে বিভিন্ন দেশ শুধু বক্তব্যেই নয়, বাস্তবিক ভাবে গণতান্ত্রিক নিয়ম রক্ষা করে, তার মূল্যায়ণ. প্রসঙ্গতঃ এই রিপোর্ট রাশিয়ার পক্ষ থেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র গুলির আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোন প্রচেষ্টা করা হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক প্রশ্নে দায়ভার বাহক কনস্তানতিন দোলগভ বলেছেন:

"রাশিয়া মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নে কোন রকমের দ্বিচারিতা না থাকাকে খুবই বড় মূল্য দিয়ে থাকে. কিছু দেশ, তাঁদের নিজেদের মূল্যায়ণে উন্নত গণতন্ত্র বলে ঘোষণা করে থাকে, আর তারাই বেশীর ভাগ সময়ে বাকি বিশ্বকে লেকচার দিয়ে থাকে. কিন্তু পেশাদার ভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে যা দেখতে পাওয়া যায়, তা হল এই সব দেশেই মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় আদর্শের চেয়ে বহু দূরের প্রশ্ন. আমরা নিজেদের সর্ব্বোচ্চ বিচারকের আসনে বসাতে চাই না. সমস্যা সমস্ত রাষ্ট্রেরই রয়েছে. আর এটাই মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সমানাধিকার নিয়ে সহযোগিতার স্বপক্ষে বাড়তি যুক্তি".

এই রিপোর্টের অনেকটা জুড়ে পশ্চিম ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে. প্রথম ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি থাকা কালীণ সমস্ত আশ্বাস স্বত্ত্বেও মানবাধিকার বিষয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে. এখনও গুয়ানতানামো জেল বন্ধ করা যায় নি, আর সি আই এ সংস্থার গোপন জেলগুলি যা বহু তৃতীয় দেশে রয়েছে, সেগুলির কাজ কর্মও বন্ধ করা হয় নি. ওয়াশিংটন ও আরও কয়েকটি ইউরোপের দেশ ক্রমাগত সশস্ত্র বিরোধের এলাকা গুলিতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করছে.

এই রিপোর্টে খুবই বিশদ করে লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে ও বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে কি ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘণ করা হয়েছে, তা দেখানো হয়েছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের সংগৃহীত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে: জোট একেবারে শুরু থেকেই নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে মুহম্মর গাদ্দাফির পতন চেয়েছিল. এর জন্য যেমন, লিবিয়ার সেই সময়ের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জীবন ধারণের পরিস্থিতিকেই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছিল. লিবিয়াতে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি মূলক নিয়ম গুলিকেই ভঙ্গ করা হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে কনস্তানতিন দোলগভ বলেছেন:

"আজ এই ধারণার সঙ্গে মেলে এমন বাস্তব বিষয় গুলিকে আর এড়ানো সম্ভব নয়. এক দল লোকের মানবাধিকার রক্ষার নামে আরও একদল লোকের জীবনের অধিকার ও উন্নতির অধিকারকে খর্ব করা যেতে পারে না. আমরা লিবিয়াতে সমস্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘণ সম্বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করার স্বপক্ষে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতেও বিচার হওয়া উচিত্ বলে মনে করি".

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করে যে, এই রিপোর্টের যোগ্য ও গঠন মূলক প্রতিক্রিয়াই হবে. কনস্তানতিন দোলগভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, এই রিপোর্টে কোনও "বানানো পরিস্থিতির" কথা নেই, শুধু নির্দিষ্ট বাস্তব ঘটনাই রয়েছে. মানবাধিকার রক্ষা কর্মী আরও বলেছেন যে, এখন খুব তাড়াতাড়ি হবে বলা যে, কত নিয়মিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই ধরনের রিপোর্ট পেশ করা হবে. তবে একটা বিষয় স্পষ্ট- ভবিষ্যতে মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সমস্যা কম হবে না.