মস্কো শহরে ২৪শে ডিসেম্বর সাখারভ প্রসপেক্টে এই মাসে দ্বিতীয় বার জনবহুল মিটিং হয়েছে, রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে. এটা প্রথম মিটিং, ১০ই ডিসেম্বর, যা বালোতনায়া স্কোয়ারে হয়েছিল তারই পরবর্তী মিটিং, এই মিটিংয়ে সাখারভ প্রসপেক্টে বহু সহস্র লোকের সমাবেশ হয়েছিল.

    সারা রাশিয়া জনমত পরিসংখ্যান কেন্দ্র মিটিংয়ে ৬০০ জন লোকের মতামত নিয়েছে. এই পরিসংখ্যানের তথ্য থেকে বোঝা যেতে পারে ২৪শে ডিসেম্বরের সমাবেশে কারা হাজির ছিলেন.

    মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশীর ভাগই পুরুষ (৬৪ শতাংশ). প্রধানতঃ ৪৫ বছরের কম বয়সী (৬২ শতাংশ). উচ্চ শিক্ষিত (৭০ শতাংশ), কর্মরত বেশীর ভাগই ব্যবসা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে (৪৪ শতাংশ). নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশীর ভাগই বলেছেন মধ্যবিত্ত (৫৬ শতাংশ). অন্য কথায় বলতে হলে, মস্কো শহরের মিটিংয়ে বেরিয়ে ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেনী. যথেষ্ট স্বচ্ছল ও তার উপরে রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয়. মিটিংয়ে আসা লোকেদের শতকরা ৮১ ভাগ ভোট দিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে. বেশীর ভাগই ভোট দিয়েছেন বিরোধী পক্ষের জন্য – লিবারেল পার্টি ইয়াবলকা – ২৭ শতাংশ, কমিউনিস্ট দল – ১৭ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দল – ১৬ শতাংশ.

    মিটিংয়ে আসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল – লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে একমত না হতে পারা (৩২ শতাংশ). দ্বিতীয় কারণ – সরকারের প্রতি বিরোধ প্রকাশ (১৫ শতাংশ), তৃতীয় কারণ- নিজেদের সক্রিয় নাগরিক অবস্থান প্রকাশ – ১২ শতাংশ. এরপরে ছিল আরও নানা কারণ, যেমন, মিথ্যা ও অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ(৯ শতাংশ) আরও উন্নত জীবনের দাবী (৫ শতাংশ). স্রেফ কৌতূহল মেটাতে ও বন্ধুদের সাথে একসাথে এসেছিলেন শতকরা ৫ ভাগ লোক.

    যে সমস্ত স্লোগান এই মিটিংয়ে তোলা হয়েছিল ও বেশীর ভাগ লোক যার সঙ্গে সহমত, তা হল "স্বাধীন, সত্ ও ন্যায় সঙ্গত নির্বাচনের স্বপক্ষে" (৩৭ শতাংশ). "পুতিন নিপাত যাক" স্লোগানের সঙ্গে একমত শতকরা ২৫ ভাগ লোক. আর "নির্বাচনের ফল নাকচ করা হোক" বলতে চেয়েছেন ১৯ শতাংশ লোক. এর পরে ছিল সেই ধরনের স্লোগান, যেমন "চুরভ (নির্বাচন পরিষদের প্রধান)নিপাত যাক" (৯ শতাংশ), "চোর ও ঠগেরা নিপাত যাক" ইত্যাদি ধরনের স্লোগান – শতকরা ৭ শতাংশ.

    শতকরা ৮৯ শতাংশ লোক, যাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারা বলেছেন আগামী এই ধরনের মিটিংয়ে তারা অংশ নেবেন, আর ৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে, তাদের রাস্তায় নামা পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করছে.

    মানুষ পরিবর্তন চায়. তাই ১১ শতাংশ সমর্থন করেছেন ও ৩৩ শতাংশ সব মিলিয়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুক্ত হওয়া নিয়ে সহমত প্রকাশ করেছেন, যা রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছিলেন. মনে করিয়ে দিই যে, এই প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলিকে কম জনপ্রিয় হলেও স্বীকৃতী দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে ও রাজ্যপাল নির্বাচন সরাসরি করার কথাও রয়েছে. কিন্তু বহু বিরোধী পক্ষের ডাকা মিটিংয়ে আসা লোক মনে করেছেন যে, শুধু এই ধরনের সংশোধনই যথেষ্ট নয়.