রাশিয়ার সরকার জোর দিয়েছে যাতে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে গঠন মূলক আলোচনা করা সম্ভব হয়. দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নবীকরণ করার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় এক গুচ্ছ আইনের খসড়া আনা হয়েছে, অংশতঃ, রাজনৈতিক দলের নথিভুক্ত করণ প্রসঙ্গে. ফলে দেশের দক্ষিণপন্থী আন্দোলনের লোকেরা তৈরী হয়েছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি দলকে হাজির করতে. একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় মগ্ন যে, নতুন দল গুলি রাশিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে উজ্জীবিত করতে পারবে কি না.

    গত দশ বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে অংশগ্রহণকারীর মিছিল ও সমাবেশ রাশিয়ার জন্য কিছুটা আচমকাই ঘটেছে. যদিও এই রকম অনভিপ্রেত বলাটা খুবই শর্ত সাপেক্ষ বিষয়: সারা ২০১১ সাল ধরেই দেশের সমাজ তত্ত্ববিদ ও বিশ্লেষকেরা বলে এসেছেন যে, প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছে নানা সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যেই. ক্রেমলিনের তরফ থেকে ও মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে বর্তমানের রাস্তায় নেমে আসা মিছিলের বিষয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া বিচার করে মনে হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞদের সাবধান বাণী শোনা হয়েছে. আর রাশিয়ার রাজনৈতিক কাঠামোয় সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ আগেই নেওয়া উচিত্ ছিল. সম্ভবতঃ, হতে পারে গরম কালেই. এই ধরনের মত পোষণ করেছেন প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন. মঙ্গলবারে দেওয়া এক রেডিও সাক্ষাত্কারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মীটিংয়ের প্রধান কারণ – সদ্য হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় দ্যুমা নির্বাচন নিয়ে সহমত হতে না পারা. প্রাক্তন মন্ত্রী সেই সমস্ত লোকেদের সঙ্গে একমত, যাঁরা মনে করেছেন সদস্যদের নির্বাচন মেয়াদের আগেই করা দরকার. কিন্তু – কুদরিন মনে করেছেন, - দেড় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগে নয়, রাজনৈতিক কাঠামোর সংশোধন হওয়ার সঙ্গেই তা করা দরকার, যা রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছেন. আর তারপরে নতুন দল গুলিকে নিয়েই তা করা দরকার, যাদের নথিভুক্ত হওয়ার জন্য জনপ্রিয়তার মাত্রা অনেকটাই কমানো হয়েছে.

    কুদরিনের ব্যক্তিগত ভাবে রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল তিনি তৈরী আছেন দক্ষিণপন্থী দল তৈরীর কাজে সহায়তা করতে. বহু সহস্র কোটি ডলারের মালিক মিখাইল প্রোখোরভ নিজেই দক্ষিণ পন্থী দল তৈরী করছেন. নিজেদের রাজনৈতিক দল তৈরী করতে চলেছেন দক্ষিণ পন্থী জোট নামের দলের প্রাক্তন সদস্যরাও. আর তাও দেখা যাচ্ছে যে, একমাত্র কুদরিন- এমন মানুষ, যিনি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা সঠিক ভাবে চালনা করতে পারেন. এই কথা মনে করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি সভার প্রধান ভালেরি খোমিয়াকভ বলেছেন:

    "কোন সন্দেহ নেই যে, তিনি এই ধরনের মধ্যস্থ হতে চাইবেন. কুদরিন ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী পক্ষ, যারা আজ বর্তমানের পরিস্থিতির নিয়ম কানুনের জন্য নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, তাদের কারও জন্যই প্রতিপক্ষ নন. তিনি লিবারেল রাজনীতি ও অর্থনীতির স্বপক্ষে ও তা তিনি এই মিটিংয়ে যোগদান করেই প্রমাণ করে দিয়েছেন. তাছাড়া কুদরিন পশ্চিমেও ভাল করেই চেনা শোনা লোক".

    এই প্রসঙ্গে কিছু সন্দেহ প্রকাশ করেন এমন লোকও রয়েছেন. কিছু বিশেষজ্ঞ শুধু কুদরিনকে প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থ হিসাবেই দেখছেন না, বরং রাশিয়াতে দক্ষিণ পন্থী আন্দোলনের ভবিষ্যত নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন. তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ পাভেল স্ভিয়াতেনকোভ, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের দেশে কথা বাস্তবে হচ্ছে বিদেশী প্রভুদের সঙ্গ নিয়ে তাদের স্বার্থের কথা বলা দক্ষিণ পন্থী বুর্জোয়া দল নিয়ে. তাদের কিছুই এমন নেই, যা স্বাভাবিক দক্ষিণ পন্থী দল ইউরোপীয় ধারণায় এই নামের উপযুক্ত হতে করে থাকে: স্বাধীন বাজার অর্থনীতির উপরে আস্থা, সামাজিক রাষ্ট্র, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ধর্মের উপরে আস্থা, কোনটাই এদের নেই. এরা শুধু নামেই দক্ষিণ পন্থী দল".

    ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিন বিরোধী পক্ষের প্রাথমিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের পরেই ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁরা তৈরী আছেন সমস্ত বিতর্কিত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে. সমস্যা হল, কোন নির্দিষ্ট প্রস্তাব, কোন ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা, যাঁরা মিটিংয়ে আসছেন, তাঁদের নেই. তারই মধ্যে, সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ঠা মার্চের নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগেই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করা. আর প্রশাসন নিজের পক্ষ থেকে এই দিকে পদক্ষেপ এখনই করেছে.

    আর নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী ও একজন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নিজের প্রস্তাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশী স্বচ্ছ হতে বাধ্য. প্রসঙ্গতঃ তা একেবারেই আক্ষরিক অর্থে – ভোট দেওয়ার ব্যালট বাক্স হবে স্বচ্ছ কাঁচের ও সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রেই লাগানো হবে ওয়েব ক্যামেরা, যাতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যতে কারও প্রশ্নের উদয় না হয়.