বাল্টিক সমুদ্রে সাফল্যের সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়েছে ভারতীয় নৌবহরের জন্য রাশিয়াতে নির্মিত "তেগ" ("তরোয়াল") নামের ফ্রিগেটের. সুতরাং খুবই শীঘ্র ভারতীয় সামরিক নৌবহর নতুন আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী যুদ্ধ জাহাজ সংযোজন করতে চলেছে. বিশদ করে এই নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    জানুয়ারী মাসে "তেগ" ফ্রিগেট আরও একবার সমুদ্রে যাবে. এর পরে জাহাজে ভারতীয় নাবিকেরা উঠবেন. রাশিয়ার বাল্টিক সমুদ্রের সেনা বাহিনীর নাবিকেরা তাঁদের ভারতীয় সহকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করবেন. এপ্রিল মাসে এই যুদ্ধ জাহাজ ভারতকে দেওয়া হবে. আগামী সারা বছর ধরেই ভারত আরও দুটি এই ধরনের যুদ্ধ জাহাজ "তারকাশ" ("ধনুক") ও "ত্রিখন্ড" ("তীর") পেতে চলেছে. এই দুটি জাহাজই তৈরী করা হচ্ছে কালিনিনগ্রাদের বাল্টিক উপকূলের "ইয়ানতার" (অম্বর) নামের জাহাজ নির্মাণ কারখানায়. যুদ্ধের ক্ষমতা অনুযায়ী এই সব জাহাজকেই বহু মুখী সমরোপযোগী জাহাজ বলা যেতে পারে, এই গুলি দিয়ে যেমন জলের উপরে, তেমনই জলের নীচে ডুবোজাহাজের সঙ্গে ও আকাশে ওড়া বিমান লক্ষ্য করে আঘাত হানা সম্ভব. ফ্রিগেট গুলি "স্টেলথ" প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে, তাই বাস্তবে প্রায় রাডার দিয়ে এই গুলির অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব নয়. এই জাহাজের উপরে "ব্রামোস" রকেট বসানো হয়েছে.

    সম্প্রতিকালে ভারত আবার রাশিয়া থেকে দশ বছরের জন্য ভাড়া করে রুশ পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবো জাহাজ "নেরপা" নিতে চলেছে. ভারতীয় নৌবহরে এই জাহাজের নাম হবে "চক্র". বর্তমানে জাহাজটির শেষ পরীক্ষা চলছে.

    খুবই দ্রুত কাজ করা হচ্ছে ভারতের প্রথম বিমানবাহী সামরিক জাহাজ "বিক্রমাদিত্য" তৈরীর কাজে, প্রাক্তন রুশ বিমানবাহী জাহাজ "অ্যাডমিরাল গর্শকভের" খুবই গভীর আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে "সেভমাশ" জাহাজ তৈরী কারখানায়. এই জাহাজের প্রথম জলে নামার কথা ২৫শে মে ২০১২. ভারতকে এই জাহাজ দেওয়া হতে চলেছে আগামী বছরের ডিসেম্বর মাসে.

    "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীর প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কোর কথামতো ভারতকে এই সব জাহাজ দেওয়া হলে রাষ্ট্রের সামরিক নৌবহরের শক্তি বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

    "আমরা মনে করি যে, সামরিক নৌবহর তৈরী করার কাজ সবসময়েই কঠিন, সব সময়েই দামী, কিন্তু এটা এমনই কাজ, যা দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতার উন্নতি ও মজবুত করার জন্য করা হচ্ছে ও ভারত এক বড় সামুদ্রিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারবে এর ফলে. আমরা বিশ্বাস করি যে, ভারতীয় নৌবহর কোন আগ্রাসী কাজকর্মের জন্য ব্যবহার করা হবে না, আর তাই আমরা এই দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছি".

0    ভারতে যে সামরিক সামুদ্রিক নীতি নেওয়া হয়েছে, তা ২০২০ সালের মধ্যে শক্তিশালী নৌবাহিনী সৃষ্টির অঙ্গীকার রয়েছে. আর রাশিয়া তৈরী রয়েছে এই বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য.