মস্কো কোন "গোপন কূটনৈতিক চক্র" করে না. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর পশ্চিমের সংবাদ সংস্থার দেওয়া খবরে প্রকাশিত সিরিয়ার উপ রাষ্ট্রপতি ফারুক আশ- শারের রুশ রাজধানী "গোপনে" সফরের খবর অস্বীকার করেছে. কূটনীতিবিদেরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো ও সিরিয়ার নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ খোলাখুলি ভাবেই করা হয়ে থাকে. আলোচনা শুধু রাশিয়াতেই হচ্ছে না, বরং দামাস্কাস ও নিউ ইয়র্কেও করা হচ্ছে – আর এই সব সকলেরই জানা আছে.

রাশিয়া খুবই সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে যাতে যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়ার সঙ্কটে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়. রক্তপাত ও শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা দরকার, তা সে যে পক্ষ থেকেই করা হোক না কেন, এই কথা রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণাতে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে. গত মার্চ মাস থেকেই সিরিয়াতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে. প্রতিদিনই খবর আসছে মানুষের মৃত্যুর – তা যেমন শান্তিপ্রিয় মানুষের, তেমনই দেশের শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর কর্মীদেরও. রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, মৃতদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজারেরও উপরে. উত্তেজনা কমছে না.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও বেশ কিছু আরব দেশ দামাস্কাসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. তাছাড়া, তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের থেকে সিদ্ধান্ত জারী করানোর, যা খুবই দুঃখের সঙ্গে মনে পড়িয়ে দিচ্ছে "লিবিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের" কথা. এই ধরনের একটি সিদ্ধান্তের খসড়াকে আটকে দেওয়া হয়েছে: রাশিয়া ও চিন নিজেদের ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা ব্যবহার করেছে. নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়া দুই বার সিদ্ধান্তের খসড়া প্রস্তাব করেছে. শেষবার – ২৩শে ডিসেম্বর. তা পশ্চিমের সহকর্মীদের পছন্দ হয় নি: তাদের পছন্দ নয় যে, এই দলিলে "প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগকে বিরোধী পক্ষের শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে একই রকম সমালোচনা যোগ্য" বলে উল্লেখ করা হয়েছে.

এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের সংবাদপত্র "মারিভ" উপরোক্ত সংবাদ প্রকাশ করেছে,  তার পরেই বহু সংবাদ মাধ্যম যার পুনরাবৃত্তি করেছে.  সোমবারে এই সংবাদ পত্রে প্রকাশ করা হয়েছে যে, ১৬ই ডিসেম্বর সিরিয়ার উপরাষ্ট্রপতি  নাকি গোপনে মস্কো এসেছিলেন, যাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে রাশিয়াতে বাশার আসাদের চলে আসার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা যায়. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর খুবই তত্পরতার সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. কিন্তু তাও প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে: কার প্রয়োজন এই মিথ্যা খবরে?

খুব সম্ভবতঃ, এই ভাবেই পশ্চিমের দেশ গুলি ইজরায়েলের সংবাদ পত্রের মাধ্যমে চেষ্টা করছে রাশিয়ার সিরিয়া সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে ইচ্ছা কি তার রহস্যোদ্ঘাটন করার. প্রসঙ্গতঃ, "মারিভ" সংবাদ পত্রে প্রকাশিত খবর – এটা বিরাট পরিমানে মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারের একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, যা আজ নিকট প্রাচ্যে করা হচ্ছে. আর আরব সংবাদ সংস্থা গুলিই এই বিষয়ে বড় অংশ নিয়েছে, এই কথা বিশ্বাস করে রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

"আরব অঞ্চলে এক অপপ্রচারের ঢেউ তোলা হয়েছে, যা এমনকি কখনও সামরিক অভিযানের সঙ্গেও জোড়া হয়েছে, যাতে অপছন্দের কিছু প্রশাসনকে হঠিয়ে দেওয়া যায়, কিছু আরব দেশের ধারণা অনুযায়ী অন্য দেশের প্রচুর ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরানো সম্ভব হয়".

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী আরব রাষ্ট্র গুলির মধ্যে লিবিয়াতে গদ্দাফি প্রশাসনকে সাফল্যের সঙ্গে ধ্বংস করতে পারার পরে নিজেদের সমস্ত মনোযোগ তারা সিরিয়ার উপরে দিয়েছে. আরবের উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজ তন্ত্র গুলি এই অঞ্চলে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ভয় পেয়েছে ও তাই তারাই দামাস্কাসকে দেখতে পেয়েছে ইরানের সহযোগী হিসাবে.

দামাস্কাসের উপরে চাপ সৃষ্টি – এটা পশ্চিমের পরিকল্পনার অংশ, বিশ্বের এই অঞ্চলের মানচিত্রকে নতুন করে আঁকার ইচ্ছায় যা তৈরী করা হয়েছে, এই কথা সোমবারে মস্কো শহরে ঘোষণা করেছেন ইরানের উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হোসেইন আমির আবদোল্লাহিয়ান, তিনি বলেছেন:

"সিরিয়া প্রসঙ্গে যা বলা যেতে পারে, তা হল আমরা মনে করি এই দেশের উপরে বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করার পরিণতি বিপরীত হতে পারে. আমরা এই ধারণা থেকে বলছি যে, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাক গলানো দিয়ে সিরিয়া দিয়ে শুরু করে এই সমগ্র অঞ্চলের পরিস্থিতি বদলে দিতে চাইছে. তা অর্থ ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করেই করা হচ্ছে".

একই সময়ে দামাস্কাসে আরব লীগের রাষ্ট্রগুলির পক্ষ থেকে এক পর্যবেক্ষক দল এসেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরব লীগের মিশনের সামনে রাখা নিজেদের কাজ সম্পূর্ণ ভাবে করলে, তা সিরিয়ার জনগন ও দেশের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে পারে. এখানে প্রয়োজন হল, যাতে আরব দেশ গুলির পর্যবেক্ষকেরা আগে থেকেই কিছু ধরে না নিয়ে বাস্তবেই নিরপেক্ষ ভাবে সিরিয়ার পরিস্থিতির প্রতিফলন করেন. সিরিয়ার সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ ভাবেই মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন, কোন রকমের বাইরে থেকে প্রভাব বিস্তার না করেই, এটাই মস্কোতে মনে করা হয়েছে.