শেষ হয়ে আসা ২০১১ সাল রুশ ভারত সহযোগিতার বুনিয়াদ কতটা শক্ত তা পরীক্ষা করেছে বলে মনে করে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ লিখেছেন.

    রাশিয়া ভারতে দুটো বড় টেন্ডারে হেরেছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য আধুনিক বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম যুদ্ধ বিমান ও যে কোন আবহাওয়াতেই ওড়ার উপযুক্ত হেলিকপ্টার কেনার জন্য ভারত সরকারের ঘোষিত বিশ্ব জোড়া সরবরাহ চুক্তির. ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর চালু করাও পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তৈরী হয়েছে রাশিয়ার প্রযুক্তি সহায়তায়. আশা করা স্বত্ত্বেও এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয় নি. তা স্বত্ত্বেও মস্কো শহরের কয়েকদিন আগের সাক্ষাত্কারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ চলে যাওয়া বছরকে রুশ- ভারত সহযোগিতার ভাল বছর বলেই অভিহিত করেছেন.

    এর কি কারণ? ব্যাপারটা হল যে, রাশিয়াও ভারত সরাসরি সামরিক প্রযুক্তি কেনার চেয়ে একসাথে তা তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. রাশিয়া ভারতকে নিজেদের দেশে সামরিক প্রযুক্তি রাশিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করতে দিচ্ছে. ভারত ও রাশিয়ার সম্মিলিত ব্রামোস ডানা ওয়ালা রকেট তৈরী প্রকল্পের বিশ্বে কোনও সমকক্ষ নেই. এই ধরনের প্রকল্পই সুবিধা জনক ও স্ট্র্যাটেজিক বলা চলতে পারে.

    টেন্ডারে হেরে যাওয়া অবশ্যই খারাপ ব্যাপার, কিন্তু বিশ্ব বাজারে কঠোর প্রতিযোগিতায় এটা খুবই সাধারন ব্যাপার, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "ভারতের জন্য খুবই নীতিগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল সামরিক প্রযুক্তি কেনার উত্স নানা ধরনের রাখা. এটা সমস্ত ডিম এক ঝুড়িতে না রাখার নীতি থেকে এসেছে. বিগত বছর গুলিতে রাশিয়ার বিমান প্রযুক্তি দিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে ভরিয়ে দেওয়ার ফলে ভারত বর্তমানে চাইছে অন্য দেশ থেকে প্রযুক্তি আমদানী করতে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সরবরাহের উত্স হয়ে রয়েছে".

    কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প চালু হওয়ার সময় পেছিয়ে দেওয়া নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এটা রুশ- ভারত সম্পর্কের সঙ্গে খুব কমই জড়িত, স্থানীয় জনতার প্রতিবাদের জন্যই এটা পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা ভয় পেয়েছে জাপানের "ফুকুসিমা – ১" পারমানবিক কেন্দ্রের বিপর্যয় দেখে. কিন্তু কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কে জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করাই সঙ্গত নয়, যা তৈরী হয়েছিল আজ থেকে চল্লিশ বছরেরও আগে. এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর জ্বালানী ও পারমানবিক শিল্প কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন যে, কুদানকুলাম- এক আধুনিক কেন্দ্র. এটি নির্মাণের সময়ে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অতি আধুনিক, যেখানে জাপানের মতো কোন ঘটনাই ঘটতে পারবে না. সুতরাং কুদানকুলাম পারমানবিক কেন্দ্র চালু হতে দেরী হওয়া নিয়ে ঘটনাকে নাটকীয় করার কোন দরকার নেই, তাই আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন

    "আমার মতে এই ধরনের দেরী হওয়া স্বত্ত্বেও ভারত আগের মতোই একটি প্রাথমিক ও খুবই সম্ভাবনাময় দিক হয়ে রয়েছে রাশিয়ার পারমানবিক শিল্পের রপ্তানীর জন্য".

    রুশ- ভারত পারমানবিক সহযোগিতার প্রশ্ন নিয়ে খুবই বিশদ করে আলোচনা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বিগত মস্কো সফরের সময়ে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আসন্ন সময়েই সম্ভব হবে দেশে পারমানবিক শক্তির বিকাশের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় আসা, যারা রুশ – ভারত পারমানবিক প্রকল্প কুদানকুলাম চালু হতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, আর দুয়েক সপ্তাহ পরেই প্রথম রিয়্যাক্টর ও ছয় মাস পরে দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর চালু করা সম্ভব হবে.

    এখন বলা যেতে পারে যে, ভারতের কোর্টেই বল রয়েছে.