রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক টেলিভিশন চ্যানেল তৈরীর প্রস্তাব করেছেন. এই ধারণা আঁকড়ে ধরেছেন রাজনীতিবিদেরা, সাংবাদিকেরা ও মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা. সকলেই এই উদ্যোগ সম্বন্ধে এক কথায় বলেছেন "হ্যাঁ" এবং এখনই তার আয়োজন নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন.

    রাশিয়াতে এক সামাজিক টেলিভিশন চ্যানেল তৈরীর ধারণা, যেখানে না সরকার, না কোন ব্যক্তি বা সমষ্টি একক ভাবে মালিকানা দখল করবে না, তা এর আগেও একাধিকবার উদ্ভূত হয়েছে. যেমন, ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই রাষ্ট্রপতির মানবাধিকার রক্ষা ও নাগরিক সমাজের উন্নতি নিয়ে পরামর্শদাতা পরিষদের সাইটে রাশিয়ার সামাজিক টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ে আইনের খসড়া সংক্রান্ত ধারণা প্রকাশ করা হয়েছিল. এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটার জন্য অর্থ সরকার নয়, বরং রাশিয়ার সমস্ত নাগরিকই দিতে বাধ্য – প্রতি মাসে ন্যূনতম আয়ের এক শতাংশ করে জমা দিয়ে. এখন উদ্যোগ আর নীচ থেকে নয়, বরং এসেছে উপর মহল থেকেই, আর তাই সম্পূর্ণ ভিত্তি রয়েছে মনে করার যে, তা বাস্তবায়ন করা হবে, এই কথা মনে করে সামাজিক সভার সদস্য ও সাংবাদিক নিকোলাই স্ভানিদজে বলেছেন:

    "আমাদের পরিস্থিতিতে এটা এখনও অবধি ছিল ইউটোপিয়া, কারণ সমস্ত রকমের ধারণাই, যা সামাজিক টেলিভিশন সম্বন্ধে রয়েছে, তাকে সমাজ একেবারে সামান্যতম অর্থ দিয়ে পালন করতে না চাওয়াতে ও সরকার নিজেদের থেকে স্বাধীন কোন টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে না চাওয়ায়, একটুও বাস্তবায়িত হতে পারে নি. এখন এমন পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে, যখন সামাজিক টেলিভিশনের ধারণা বাস্তবায়িত হতে পারে".

    কাঠামো গত ভাবে অর্থ সহায়তা ও সংস্থার গঠন প্রকৃতি গত বৈষম্য ছাড়াও সামাজিক টেলিভিশন এখন অবধি চেনা চ্যানেল গুলির থেকে একেবারেই অন্য ধরনের তথ্য দেবে, তাই নিকোলাই স্ভানিদজে ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

    "যদি সামাজিক টেলিভিশনের নিজের রাজনৈতিক বিভাগ থাকে, আর তা সম্ভবতঃ থাকবেও, তা না হলে এই ক্ষেত্রে তা তৈরী করারই বা কি প্রয়োজন, তাহলে সেখানে এমন সমস্ত লোক থাকবেন, যাঁরা শুধু সরকারের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র পান নি, বরং সেই সমস্ত লোকেরাও, যাঁরা সমাজের জন্য আগ্রহ সৃষ্টিকারী. সেখানে সমস্ত অবস্থানের সব লোকেরাই থাকবেন, তাঁদের মতামত, ব্যক্তিত্ব নিয়ে, যাঁরা আমাদের সমাজের প্রতিভূ: সরকারের স্বপক্ষে, বিপক্ষে, যে খুশী – সকলেই, যাঁরা দেশের আইন বিরুদ্ধ কিছু করেন না ও রাশিয়ার সংবিধানের বিরোধী নন".

    এই কথা সত্য যে, সন্দেহ হয়েছে, বর্তমানের সমাজ এখনই সামাজিক টেলিভিশন তৈরী করতে কতটা প্রস্তুত. এমন সব মত প্রকাশ করা হয়েছে যা, এই উদ্যোগ অন্ততঃ দশ বছর দেরীতে হয়েছে আর আজকের দিনে সবচেয়ে বেশী বিতর্কে জায়গা হয়েছে ইন্টারনেট, যা প্রথম থেকেই ছিল সামাজিক. অন্য দিক থেকে ইন্টারনেট, কম্পিউটারের মতই প্রত্যেক বাড়ীতে নেই, আর টেলিভিশন – প্রত্যেক রুশ লোকের জন্যই সবচেয়ে বেশী সহজ লভ্য তথ্যের উত্স, এই কথা উল্লেখ করে গণতন্ত্রের সমস্যা গবেষণা তহবিলের ডিরেক্টর ম্যাক্সিম গ্রিগোরিয়েভ বলেছেন:

    "খুবই বোকামি হবে বলা যে, এখন যেহেতু ইন্টারনেট রয়েছে, তাই বই প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া দরকার, লাইব্রেরী ও টেলিভিশন বন্ধ করা দরকার. আমরা বুঝতে পারি যে, টেলিভিশনের উদয়ে আমাদের সঙ্গীত নাট্য ভবন গুলি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে নি, যদিও এর পরে কিছুটা আলাদা করে মনোযোগ ভাগ হয়ে যাওয়া দেখা গিয়েছে. কিন্তু ইন্টারনেট – এটা তথ্য বহনের একটা পরিবাহক মাত্র, তাছাড়া অন্য সব দাঁড়িয়ে যাওয়া রূপ গুলিও রয়েছে, আর সেগুলির সবই থাকা দরকার".

    সামাজিক টেলিভিশন চ্যানেল সৃষ্টির সময়ে রাশিয়া অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে. পশ্চিমে অন্ততঃ তিনটি মডেল রয়েছে. প্রথমটিতে জনগনের অর্থেই চ্যানেল কাজ করে. এর একটি উদাহরণ হতে পারে বি বি সি চ্যানেল, যা সম্পূর্ণ ভাবেই লোকের অর্থে চলে. দ্বিতীয় মডেল যেমন কানাডার সি বি এস সংস্থা, সেটার সমস্ত অর্থই দিয়ে থাকে সরকার. আর তৃতীয় মডেল- যেখানে সরকারের ও জনগনের তহবিল মিশিয়ে করা হয়েছে – এটা যেমন আমেরিকার চ্যানেল পি বি এস. কিন্তু যেহেতু দিমিত্রি মেদভেদেভ একটি বর্তমানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের জায়গায় সামাজিক টেলিভিশন চ্যানেল সৃষ্টির কথা বলেছেন, যারা সারা দেশেই অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে, তাই খুব সম্ভবতঃ, রাশিয়াতে হয় তৃতীয় নয়তো দ্বিতীয় মডেলই কাজ শুরু করবে.